বসনিয়া-ক্রোয়েশিয় সীমান্তে বেশকিছুদিন ধরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পুশব্যাক করার ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে৷ ফটো: মার্কো ইউরিকা/রয়টার্স
বসনিয়া-ক্রোয়েশিয় সীমান্তে বেশকিছুদিন ধরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পুশব্যাক করার ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে৷ ফটো: মার্কো ইউরিকা/রয়টার্স

বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পুশব্যাকের অর্থাৎ সীমান্তে ওপারে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে৷ অভিযোগের আঙুল ক্রোয়েশিয়া পুলিশের দিকে৷ কিন্তু পুশব্যাক বিষয়ে ইউরোপের আইন কী বলে?

চলতি বছরের মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস সময়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তের পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সীমান্তের অপর পারে ঠেলে দেওয়ার ঘটনার সন্ধান পায়৷

সেসময় তারা জোরপূর্বক ক্রোয়োশিয়া থেকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এমন ১১টি ঘটনার ভিডিও ধারণ করে৷

জানা গেছে, ১৪০ জনেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে৷ সেসময় এসকল অভিবাসনপ্রত্যাশীরা আইন অনুযায়ী সুরক্ষা পেতেন কি না এ বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি৷

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, গত এক বছরে বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে ১৬ হাজার আশ্রয়প্রার্থীকে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া হয়েছে৷ এদিকে তুরস্ক-গ্রিস সীমান্তেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তাদের৷

কাউকে কোনো দেশে প্রবেশে কি বাধা দেওয়া যায়?

কাউকে কোনো দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে কি না, একটি স্বাধীন দেশ এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে৷ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর কাছেও নিজেদের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখার অধিকার আছে৷ সীমান্তে সুরক্ষা বলয় কতেটা কঠোর হবে, সেই সিদ্ধান্তও তারা নিতে পারে৷

তবে এ এসকল সিদ্ধান্ত অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হতে হবে৷ অর্থাৎ, সীমান্ত সুরক্ষিত রাখার সকল সিদ্ধান্তের ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘন যেন না হয় সে বিষয়টি নজরে রাখতে হবে৷

এদিকে আইন বলছে, অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেওয়া সকলকে ফেরত পাঠানো যাবে না৷ কেননা ১৯৫১ সালের জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো দেশই আশ্রয় চাওয়া ব্যক্তিকে তার নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারবে না যদি সেখানে নির্যাতন ও মানবাধিকার লাঙ্ঘনের ঝুঁকি থাকে৷

অবৈধভাবে প্রবেশের পর কী আইনি সুরক্ষা পায় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা?

ইউরোপিয়ান কনভেনশন অন হিউম্যান রাইটস কালেকটিভ এক্সপালসন বা প্রত্যাবাসনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে৷ তারপরও অবৈধভাবে প্রবেশ করা অভিবাসনপ্রত্যাশীরা প্রত্যাবাসন ঠেকাতে এ নিষেধাজ্ঞা কাজে লাগাতে পারে না৷ কেননা ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটস পুশব্যাককে কিছুটা হলেও বৈধতা দিয়েছে৷

এর উদাহরণ হিসেবে বলা যায় মালি ও আইভরি কোস্ট থেকে স্পেনের মেলিয়াতে আসা দুই অভিবাসনপ্রত্যাশীর কথা৷ প্রত্যাবাসন ঠেকাতে তারা ইউরোপিয়ান কনভেনশন অন হিউম্যান রাইটসের কালেকটিভ এক্সপালসনের উপর নিষেধাজ্ঞা কাজে লাগাতে পারেনি৷ কেননা তারা অবৈধ পথে প্রবেশ করেছিল৷

তবে জেনেভা কনভেনশনের নন-রিফোলমেন্ট ধারার বা জোরপূর্বক ঝুঁকিপূর্ণ দেশে ফেরত পাঠানোর ধারা থাকার কারণে অনেকটা বাড়তি সুযোগ পায় শরণার্থীরা৷

তাছাড়া ইউরোপের সীমানায় অবস্থানরত সকল আশ্রয়প্রার্থীর আশ্রয় পাওয়ার বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের আগ পর্যন্ত তাদেরকে পুশব্যাক করা জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন।

সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার প্রোলস বলেন, ‘‘ইউরোপের কোনো দেশে প্রবেশ করা ব্যক্তির আশ্রয়ের আবেদন করার অধিকার আছে৷ এবং এ আবেদন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে৷’’

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেনেভা কনভেনশনের নন-রিফোলমেন্ট অর্থাৎ জোরপূর্বক ঝুঁকিপূর্ণ দেশে ফেরত না পাঠানোর এ বিধান সীমান্তেও প্রযোজ্য৷

সমুদ্রে পুশব্যাকের জটিল আইন

সমুদ্রে পুশব্যাকের সময় আশ্রয়প্রার্থীরা তীর থেকে কত দূরে অবস্থান করছে সে বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ৷

একটি স্বাধীন দেশের সীমানা সমুদ্রের ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে৷ এ সীমানার বাইরে যদি পুশব্যাকের ঘটনা ঘটে, তাহলে সেটা জেনেভা কনভেনশনের নন-রিফোলমেন্ট ধারা ভঙ্গ করে না৷

তবে সমুদ্ররক্ষীদের বিপদাপন্ন নৌকাকে সাহায্য করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে৷

আর সমুদ্রে পুশব্যাকের শিকার হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীরা সাধারণত আইনের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ পায় না৷

আন্দ্রেয়ান নোল/আরআর


 

অন্যান্য প্রতিবেদন