ফ্রান্সের কালে বন্দর থেকে অসংখ্য অভিবাসনপ্রত্যাশী পাড়ি দেন যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে। | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স
ফ্রান্সের কালে বন্দর থেকে অসংখ্য অভিবাসনপ্রত্যাশী পাড়ি দেন যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে। | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স

চল্লিশটি ছোট নৌকায় চেপে গত দুই দিনে মোট এক হাজার ১১৫জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন বলে জানাচ্ছে দেশটির স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কর্তৃপক্ষ।

ব্রিটিশ হোম অফিস জানাচ্ছে যে, সীমান্তরক্ষীরা শনিবার ১৭টি অভিযানে মোট ৪৯১জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে। 

শুক্রবারে ২৩টি অভিযান থেকে মোট ৬২৪জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় থামায় তারা। এছাড়া, এই দুই দিনে ফরাসি কর্তৃপক্ষও ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা থেকে মোট ৪১৪জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে বিরত করেছে।

আরো ৩৪২জন অভিবাসনপ্রত্যাশী রোববার একই পথে পাড়ি দিলে তাদের থামাতে সক্ষম হয় ফরাসি বাহিনী।

ব্রিটিশ হোম অফিসের পক্ষে ড্যান ও'ম্যাহনি বলেন যে, 'ইংলিশ চ্যানেলের বিপজ্জনক পথে অস্বাভাবিক হারে' মানুষের আগমন ঠেকাতে যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ 'বদ্ধ পরিকর'। 

তিনি বলেন, "পুলিশ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সঙ্গীদের সাথে মিলে এই বছরে আমরা ৩০০জনকে আটক করেছি। ৬৫জনের বিরুদ্ধে অবৈধ ডিঙি চালানোর অভিযোগ আনতে পেরেছি ও সাড়ে ১৩ হাজারেরও বেশি অবৈধ আগমন ঠেকাতে সক্ষম হয়েছি।"

যুক্তরাজ্যের সংবাদ সংস্থা পিএ জানাচ্ছে, ২০২০ সালের তুলনায় এই পথে অনথিভুক্ত আগমনের হার বেড়েছে দ্বিগুণ। 

ছোট ছোট ডিঙিতে চেপে এবছর সেখানে এসেছেন সতেরো হাজারেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী।

কীভাবে সামলানো সম্ভব এই পরিস্থিতি?

সামাল দিতে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানি যুক্তরাজ্য ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মধ্যে একটি চুক্তির প্রস্তাব রাখেন। 

তিনি বলেন, "আমরা যেভাবে যুক্তরাজ্যের সাথে সীমান্ত সুরক্ষিত রাখছি তা বজায় রাখতে যুক্তরাজ্যকেও তাদের কথা রাখতে হবে, আমাদের অর্থায়নে সাহায্য করতে হবে।"

এদিকে ব্রেক্সিট পরবর্তী যুক্তরাজ্যে নতুন করে আলোচিত হচ্ছে শরণার্থী ও আশ্রয়ের নিয়মাবলী।

ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির বক্তব্য, বর্তমানের চেয়ে আরো কঠোর করা উচিত মানবপাচারকারীদের শাস্তির ব্যবস্থা, যার ফলে কখনো কখনো ভুলভাবে অভিযুক্ত হয়ে পড়েন নির্দোষ অভিবাসনপ্রত্যাশীরাও।

 ফলে, বিভিন্ন মহলে সমালোচিত হচ্ছে এই প্রস্তাবটিও।

এসএস/আরআর (এএফপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন