লিবিয়ার একটি আটক কেন্দ্র
লিবিয়ার একটি আটক কেন্দ্র

শুক্রবার লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলির একটি অভিবাসী আটককেন্দ্রের ভেতরে গুলি চালানোর ঘটনায় ছয়জন অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানাচ্ছে আইওএম।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ ও সেখানকার অভিবাসী জনগণের মধ্যে সংঘর্ষের পরিবেশ চলে আসছে। এরমধ্যে, কর্তৃপক্ষ নানা ধরনের অভিযানের নামে হাজারে হাজারে অভিবাসীদের আটক করে বলে অভিযোগ।

ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি অভিবাসীদের রাখা হয়েছে রাজধানীর আটক কেন্দ্রগুলিতে।

এমনই একটি আটক কেন্দ্রের রক্ষীরা গুলি চালিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম-এর লিবিয়া প্রধান ফেদেরিকো সোদা।

তিনি বলেন, "গোলাগুলি শুরু হয় ও তাতে ছয়জন অভিবাসী প্রাণ হারান। রক্ষীরা গুলি চালায়।"

আল-মাবানি আটক কেন্দ্রে ঘটা এই সংঘর্ষের কারণ কী, সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমরা জানিনা কী কারণে এই ঘটনার সূত্রপাত, কিন্তু আমার ধারণা এটা আটককেন্দ্রে বাড়তি ভিড় ও সংশ্লিষ্ট চাপানউতোর সম্পর্কিত কিছু হবে।"

সোদা বলেন যে আটককেন্দ্রের ভেতরের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে এর আগে শূন্যে গুলি চালিয়েছিলেন রক্ষীরা।

তিনি জানান যে, ঘটনায় আরো ২০জন অভিবাসী আহত হয়েছেন। অনেকে কেন্দ্র থেকে পালিয়েও গেছেন।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ডক্টর্স উইদাউট বর্ডার্সের মতে, গত কয়েক দিন ধরে চলা 'সহিংস গ্রেপ্তার অভিযানে' প্রায় পাঁচ হাজার অভিবাসী ও শরণার্থী আটক রয়েছেন।

যে আল-মাবানি শিবিরে মোট এক হাজার মানুষের থাকার জায়গা রয়েছে, সেখানে রাখা হয় তিন হাজারজনকে, জানান সোদা। বাসিন্দাদের বেশিরভাগই সাব-সাহারান রাষ্ট্র থেকে আসা মানুষ, জানান তিনি।

সোদা আরো বলেন, "এভাবে এদের আটকে রাখার কোনো মানে হয়না। এসের মধ্যে অনেকের কাছে আইনি নথি রয়েছে, তবুও তারা এই দেশে আটক।"

এই ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও ইতিমধ্যে সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে শিবির থেকে বেরিয়ে রাস্তায় দৌড়াতে থাকা বন্দিদের ভিড়।

এসএস/আরআর (এএফপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন