লিবিয়ার অভিবাসী নির্যাতনের প্রতিবাদে ইটালির রোমে একটি বিক্ষোভের দৃশ্য। ছবিঃ Mauro Scrobogna/LaPresse/ZUMA Press/picture-alliance
লিবিয়ার অভিবাসী নির্যাতনের প্রতিবাদে ইটালির রোমে একটি বিক্ষোভের দৃশ্য। ছবিঃ Mauro Scrobogna/LaPresse/ZUMA Press/picture-alliance

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির জনাকীর্ণ আটককেন্দ্রে লিবিয়া কর্তৃপক্ষের হাতে বন্দি হাজার হাজার অভিবাসীর মধ্যে কমপক্ষে এক হাজার নারী ও শিশু "অত্যন্ত সঙ্কটজনক" অবস্থায় রয়েছে জানিয়ে মঙ্গলবার সতর্ক করেছে জাতিসংঘ শিশু বিষয়ক তহবিল ইউনিসেফ।

লিবিয়ায় অবস্থিত ইউনিসেফ কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, "রাজধানী ত্রিপোলিতে সাম্প্রতিক গণগ্রেফতারে ধরা পড়া হাজার হাজার অভিবাসী এবং আশ্রয়প্রার্থীর মধ্যে ৭৫১ নারী এবং ২৫৫ শিশু রয়েছে৷"

ইউনিসেফ আরও জানায়, বন্দিদের মধ্যে থাকা পাঁচজন নারী ও ত্রিশ শিশুর সাথে কোন অভিভাবক নেই। এই নারী ও শিশুরা "নিরাপত্তা ও সুস্থতার অভাবে অত্যন্ত বিপজ্জনক" অবস্থায় রয়েছে।”

লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ অক্টোবরের শুরুতে অনিয়মিত অভিবাসীদের লক্ষ্য করে ত্রিপোলির একটি দরিদ্র এলাকায় অভিযান চালায় । মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত এই অভিযানের সময় কমপক্ষে ৫ হাজার অভিবাসী ও শরণার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সাব সাহারান আফ্রিকান দেশগুলো থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টারত হাজার হাজার অভিবাসীদের জন্য লিবিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং পয়েন্ট।

ইউনিসেফের মতে, আটক কেন্দ্রগুলিতে ধারণক্ষমতার অনেক বেশি বন্দি রাখা হয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, "লিবিয়ার সবচেয়ে বড় আটক কেন্দ্র আল-মাবানিতে ৫,০০০ এরও বেশি লোককে বন্দি রাখা হয়েছে যাদের মধ্যে ১০০ শিশু এবং ৩০০ নারীও আছে। এটি এই কেন্দ্রের ধারণ ক্ষমতার চারগুণ।”

ইউনিসেফ জানায়, "৪৩ শিশু এবং ১০৬ নারী সহ বাকি ১,৭৭২ জন বন্দিকে ‘আইন জারা’ নামক আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।"

শুক্রবার, লিবিয়ার বর্ডার গার্ড সদস্যারা আল-মাবানি আটক কেন্দ্রের ছয়জন আফ্রিকান অভিবাসীকে গুলি করে হত্যা করে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওম এসব জনাকীর্ণ কেন্দ্রে থাকা অভিবাসীদের "ভয়াবহ" জীবনযাত্রার নিন্দা জানিয়েছে।

লিবিয়ায় ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বিশেষ প্রতিনিধি ক্রিস্টিনা ব্রুগিওলো নিন্দা জানিয়ে বলেন, “লিবিয়ায় অভিবাসী এবং শরণার্থী শিশুদের অধিকার গুরুতর লঙ্ঘন হচ্ছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, অভিবাসীদের "ধ্বংসাত্মক এবং অমানবিক পরিস্থিতিতে রাখা হচ্ছে।"

ইউনিসেফ দ্রুত লিবিয়ার কর্তৃপক্ষকে "শিশুদের রক্ষা এবং তাদের পিতামাতা, অভিভাবক এবং পরিবারের থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করার কার্যক্রম বন্ধ করারঅনুরোধ জানিয়েছে।



এমএইউ/এআই


 

অন্যান্য প্রতিবেদন