ইংলিশ চ্যানেলের টানেলে একটি পণ্যবাহী গাড়িতে উঠার চেষ্টারত অভিবাসন প্রত্যাশীরা। ছবিঃ রয়টার্স
ইংলিশ চ্যানেলের টানেলে একটি পণ্যবাহী গাড়িতে উঠার চেষ্টারত অভিবাসন প্রত্যাশীরা। ছবিঃ রয়টার্স

বুধবার উত্তর ফ্রান্সের লিল শহরে মানব পাচারের দায়ে ২১ অভিযুক্তকে সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তরা ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ফ্রান্স-ইংল্যান্ড সীমান্তে অভিবাসীদের অবৈধ পরিবহনের মাধ্যমে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাচার করেছে বলে জানায় আদালত। এই পাচারের জন্য চক্রটি অভিবাসীদের কাছ থেকে মোট ৪.৭ মিলিয়ন ইউরো অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।

১৩ অক্টোবর বুধবার, মানব পাচারকারীদের একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের ২১ জন সদস্যের বিরুদ্ধে উত্তর ফ্রান্সের লিল শহরের আদালত সাত বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে। তাদেরকে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে অভিবাসীদের অবৈধ পরিবহন (ট্রাক, লরি ইত্যাদি ) যোগে পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

২০১৮ সালের আগস্ট মাসে ফ্রান্সের উত্তরে অবস্থিত বহুল আলোচিত সীমান্তবর্তী কালে বন্দরে একজন রোমানিয়ান ভারী ট্রাক চালককে গ্রেফতারের পর মূলত এই তদন্ত শুরু হয়েছিল। ট্রাকটিতে তিনজন কুর্দি অভিবাসীকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

বেশ কিছু ব্রিটিশ ফোন নাম্বার ট্র্যাক করে ফ্রান্সের গ্রন্দ-সান্থ অঞ্চলের আশেপাশে অবস্থিত বেশ কিছু রোমানিয়ান নাগরিক এবং এই নেটওয়ার্কের কথিত পৃষ্ঠপোষকদের সন্ধান বের করা সম্ভব হয়েছে। একই অভিযোগে আগামী নভেম্বর মাসে রোমানিয়ান নাগরিক সিলভিউ সিপ্রিয়ান এবং গ্রেট ব্রিটেনে অবস্থানরত জনৈক হোজ্জাত এনকে ফ্রান্সের আদালতে হাজির করার কথা হয়েছে। 

১ লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা

বুধবার আদালত অভিযুক্তদের সাত বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ ইউরো জরিমানা করে। তদন্তের সময় পুলিশের পক্ষ থেকে ব্রিটেনে বসবাসরত হোজ্জাত এনকে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তিনি মূলত ব্রিটেনে থাকা অভিবাসীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্র, নির্দেশনা এবং চোরাচালানীদের কাছে অর্থ পৌছে দিয়েছিলেন।

নেটওয়ার্কের অন্য বিশ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সর্বোচ্চ ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৯ জনকে স্থায়ীভাবে ফরাসি অঞ্চলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। স্থানীয় দৈনিক লা চোয়া দ্যু নর্দের মতে, সব মিলিয়ে সব আসামীদের হেফাজতে থাকা এবং দণ্ডপ্রাপ্ত বছরের সংখ্যা প্রায় ৭১ বছর।

সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে বেশিরভাগই রোমানিয়ান নাগরিক। তাদের সাথে কয়েকজন ইরানি, ইরাকি বা আফগান রয়েছে। তাদের অধিকাংশই ছিলেন একটি রোমানিয়ান পরিবহন কোম্পানির ভারী যানবাহন চালক, পরিবহনকারী বা ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।

১৬৭টি সফল অথচ বিপজ্জনক পাচার

তদন্ত চলাকালে বিচার বিভাগের ট্র্যাকিং ফাঁদের সাহায্যে প্রায় ২৫৯টি অবৈধ পাচারকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়। যাদের মধ্যে অত্যন্ত অমানবিক এবং বিপদজনক অবস্থায় ১৬৭টি সীমান্ত পারাপার সফল করতে সক্ষম হয় চক্রটি। চ্যানেল পারাপার কালে অভিবাসীরা কেমন অর্থ পাচারকারীদের দিয়ে সে সম্পর্কে তথ্যও উঠে এসেছে তদন্ত প্রতিবেদনে। যেটি একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য প্রায় দশ থেকে বারো হাজার পাউন্ড এবং শিশুদের জন্য কিছুটা কম অর্থ নিয়ে থাকে পাচারকারীরা ।

একজন চালক একটি গাড়িতে এক থেকে চার জনকে পরিবহন করতে পারে। যাত্রীদের বেশিরভাগকেই কালে বন্দর থেকে, কখনও কখনও ডানকের্ক শহর, এমনকি বেলজিয়ামের ব্রুজ এবং নেদারল্যান্ডের রটারডাম থেকেও গাড়িতে উঠিয়ে থাকে চালকরা।এই পাচার কাজের সাহায্যে চক্রটি চার মিলিয়ন পাউন্ড পাউন্ড (৪.৭ মিলিয়ন ইউরো) সম পরিমাণ অর্থ আয় করেছে।

শুনানি চলাকালে প্রসিকিউটর কানদিস দিয়ালো বলেন, "এই পরিসংখ্যান দেখলে থ হয়ে যেতে হয়। কিন্তু এর চেয়েও সবচেয়ে গুরুত্বুপূর্ণ বাস্তবতাও আছে। যেভাবে অভিবাসীদের এসব পরিবহনে অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় পরিবহন করা হয়ে থাকে এটি সত্যিই অমানবিক।"



এমএইউ/এসএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন