মাল্টিজ জলসীমা থেকে উদ্ধারকৃত অভিবাসন প্রত্যাশীদের একটি দলকে ইটালির লাম্পেদুসায় অবতরণের দৃশ্য। ছবিঃআনসা
মাল্টিজ জলসীমা থেকে উদ্ধারকৃত অভিবাসন প্রত্যাশীদের একটি দলকে ইটালির লাম্পেদুসায় অবতরণের দৃশ্য। ছবিঃআনসা

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মাল্টিজ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ৩২জন আশ্রয়প্রার্থী। আশ্রয়প্রার্থীদের অভিযোগ, মাল্টিজ মন্ত্রিসভার আদেশে ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে লকডাউন ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থার নামে তাদেরকে দুই থেকে তিন সপ্তাহের জন্য আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে দুটি পর্যটক নৌকায় রাখা হয়েছিল।

২০২০ সালের বসন্তে মাল্টিজ সরকারের নির্দেশে দেশটির উপকূলীয় সীমানা থেকে প্রায় ১৩ মাইল দূরে দুটি পর্যটক নৌকায় ৩২জন আশ্রয়প্রার্থীকে কয়েক সপ্তাহ ধরে আটকে রাখার নামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগী আশ্রয়প্রার্থীরা।

তবে দেশটির সরকার সেসময় সিদ্ধান্তটিকে কোভিড-১৯ অতিমারি মোকাবিলার পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দ্বীপপুঞ্জে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আছে যুক্তি দিয়ে ন্যায়সঙ্গত বলে দাবী করেছিল।

নৌকায় লকডাউন নীতি

গত বছরের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে, মাল্টিস অনুসন্ধান ও উদ্ধার (এসএআর) এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় চারশ অভিবাসী এবং শরণার্থীকে দুটি বড় নৌকায় আটকে রাখা হয়েছিল। নৌকাগুলো সাধারণত পর্যটকদের দিনভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয় যেগুলোতে কোন প্রকার কেবিন বা থাকার জায়গা ছিল না। আশ্রয়প্রার্থীদের নির্দিষ্ট কাঠামো এবং অভ্যর্থনা কেন্দ্র দ্বারা নথিভুক্ত করার পরিবর্তে সাগরে ভাসিয়ে রাখা হয়েছিল। 

মূলত লিবিয়ার পতাকাবাহী দার আল-সালাম নামক একটি মাছ ধরার নৌকা থেকে ৫৭জন অভিবাসীর একটি প্রাথমিক দলকে গত বছরের বসন্তে উদ্ধার করা হয়েছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে নৌকাটিতে লিবিয়ার পতাকা থাকা সত্ত্বেও একজন মাল্টিজ ক্যাপ্টেন নৌকাটি পরিচালনা করছিল।  

এই ৫৭ জনকে দ্বীপে নামার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং তার পরিবর্তে তাদেরকে অন্য একটি নৌকায় নোঙর করা হয়েছিল। যেখানে তাদের সাথে পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে শত শত অভিবাসী যোগ দিয়েছিল।

'আশ্রয়প্রার্থীদের কখনই তাদের অধিকার সম্পর্কে জানানো হয়নি'

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের করা ৩২জন ব্যক্তি সিয়েরা লিওন, আইভরি কোস্ট, নাইজেরিয়া, লাইবেরিয়া এবং বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ ছেড়ে মাল্টায় এসেছিলেন।

মাল্টিজ সরকার একটি বড় ক্রুজ কোম্পানি থেকে ক্যাপ্টেন মরগানের পরিচালনায় তিনটি বড় নৌকা ভাড়া করেছিল। তবে অনেক আশ্রয়প্রার্থীকে টানা তিন দিন খারাপ আবহাওয়ায় সমুদ্রে ফেলে রাখার পরে অবশেষে জুন মাসে দ্বীপে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

আশ্রয়প্রার্থীরা তাদের আইনজীবীদের মাধ্যমে উপস্থাপিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, "তাদের আশ্রয় অধিকার সম্পর্কে কখনও জানানো হয়নি এবং কোন প্রকার আটক আদেশ জারি করা হয়নি।”

নৌকায় থাকা ক্যাপ্টেন তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, “তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোন দেশে স্থানান্তরিত হতে ইচ্ছুক? কারণ এটি ছিল মাল্টিজ সরকারের একমাত্র পরিকল্পনা।"



এমএইউ/এসএস (আনসা)


 

অন্যান্য প্রতিবেদন