আফগানিস্তানে বাস্তুচ্যুত এক পরিবার কাবুলে চিকিৎসা নিচ্ছেন | ছবি: ইপিএ
আফগানিস্তানে বাস্তুচ্যুত এক পরিবার কাবুলে চিকিৎসা নিচ্ছেন | ছবি: ইপিএ

জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে কাজ করা জার্মান সরকারের প্রায় চার হাজার ৩০০ সাবেক স্থানীয় কর্মী জীবনের ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন৷ তারা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে চান৷

এর মধ্যে দেশটি থেকে জার্মান সরকারের জন্য কাজ করা ব্যক্তিরা এবং তাদের পরিবারের সদস্যসহ দুই হাজার ৫৪ জন আফগানকে জার্মানিতে নিয়ে এসেছে বার্লিন৷  

অতীতে জার্মান সরকারের হয়ে আফগানিস্তানে কাজ করা আফগানদের সংখ্যা তাদের পরিবারের সদস্যসহ ১৮ হাজারের মত৷ জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, আগে ধারনা করা হয়েছিল মোট সংখ্যাটি ৭০ হাজার হবে৷ আসলে সেটা অনেক কম৷

জার্মান সেনাবাহিনীর সঙ্গে আফগানিস্তানে কাজ করা আফগানদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১৮ হাজারের নতুন সংখ্যাটি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র৷ 

তিনি জানান, নতুন তালিকাটি চূড়ান্ত নয়৷ এতে আরো নতুন মানুষ যোগ হতে পারে৷ 

তালেবান কাবুল দখল করে নেয়ার পর এখন অবধি জার্মান সেনাবাহিনীর দুই হাজার ৫৪ জন স্থানীয় কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জার্মানিতে নিয়ে আসা হয়েছে৷ এদের মধ্যে শুধু কর্মীর সংখ্যা ৪৭৭ জন৷ 



আফগানিস্তান থেকে স্থানীয় কর্মীরা ছাড়াও আরো অনেককে জার্মানিতে নিয়ে আসা হয়েছে৷ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ১৫ আগস্ট তালেবান কাবুল দখলের পর থেকে এখন অবধি ছয় হাজার ৩১১ জনকে আফগানিস্তান থেকে জার্মানিতে আনা হয়েছে৷ এদের মধ্যে পাঁচ হাজার ৪৪১ জন আফগান এবং ৫৪৩ জন জার্মান নাগরিক৷ 

আগস্টের শেষ দুই সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানিসহ কয়েকটি দেশ কাবুল থেকে এক লাখের বেশি মানুষকে বিমানে করে অন্য দেশে সরিয়ে নিয়েছে৷ 

এদিকে, জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে স্থানীয় কর্মীরা ছাড়াও মানবাধিকারের বিবেচনায় দুই হাজার ৬০০ জনকে আফগানিস্তান থেকে জার্মানিতে সরিয়ে আনতে চাচ্ছে বার্লিন৷ তাদের পরিবারের সদস্যসহ মোট সংখ্যাটি ছয় হাজার ৬০০ জন হতে পারে বলে ধারনা করছে দেশটি৷  

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাতো আরো জানিয়েছেন, মানবাধিকার তালিকা এবং স্থানীয় কর্মী ছাড়াও আফগান সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে যারা ঝুঁকিতে রয়েছেন তাদেরকে নিরাপত্তা দেয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে জার্মানি৷ 

এজন্য বিভিন্ন খাতে বাড়তি এক কোটি ইউরো বরাদ্দ দিয়েছে ইউরোপের দেশটি৷ 

এআই/কেএম (এএফপি, কেএনএ)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন