হাঙ্গেরি থেকে আসা এই ভ্যানটিকে আটক করে ৩০ জনকে উদ্ধার করে অস্ট্রিয়া পুলিশ।যাদের মধ্যে দু'জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ছবিঃ পিকচার এলায়েন্স
হাঙ্গেরি থেকে আসা এই ভ্যানটিকে আটক করে ৩০ জনকে উদ্ধার করে অস্ট্রিয়া পুলিশ।যাদের মধ্যে দু'জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ছবিঃ পিকচার এলায়েন্স

হাঙ্গেরি সীমান্তের কাছে অস্ট্রিয়ায় একটি মালবাহী ভ্যান থেকে দু’জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গাড়িতে আরো ছাব্বিশজন অভিবাসন প্রত্যাশীকে পাওয়া গেছে। গাড়ির চালক পুলিশের অভিযান শুরুর আগেই পালিয়ে যায়।

ট্রাক ও বিভিন্ন ছোট মালবাহী গাড়িতে করে অভিবাসীদের সীমান্ত পারাপার অব্যাহত রয়েছে। হাঙ্গেরিয়ান সীমান্তের কাছে অস্ট্রিয়াতে মঙ্গলবার আটকে পড়া একটি ভ্যান থেকে দুইজন অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ট্রীয় সীমান্তরক্ষীরা হাঙ্গেরি থেকে আসা গাড়িটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। সন্দেহের বশে পুলিশ এক পর্যায়ে গাড়িটিতে তল্লাশি চালালে গাড়ির ভেতরে বেশ কয়েকজন অভিবাসী এবং দু’টি মৃতদেহ দেখতে পায়।  

২৬ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সবাই পুরুষ এবং সিরিয়ান নাগরিক। পুলিশের অভিযানের আগেই গাড়ির চালক পালিয়ে যায়। বর্তমানে তাকে খোঁজা হচ্ছে বলে জানায় অস্ট্রীয় সীমান্ত পুলিশ।  

তবে গাড়িতে ২০ বছর বয়সি দুই ব্যক্তির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। অস্ট্রীয় পুলিশের একজন মুখপাত্র স্থানীয় রেডিও ওআরএফ বার্গেনল্যান্ডকে বলেন, ‘‘ময়নাতদন্তের মাধ্যমে তাদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’’

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানায়, সন্দেহভাজন চালকের খোঁজে হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং কুকুর ব্যবহার করছে পুলিশ।

অস্ট্রিয়ার রক্ষণশীল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল নেহ্যামার বলেন, "এই ভয়ঙ্কর কাজটি একটি জিনিস পরিষ্কারভাবে দেখিয়ে দেয় যে এক বা একাধিক মানুষের মৃত্যু পাচারকারীরা খুব স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করছে।"

গত জুলাই মাস থেকে অভিবাসীদের আগমন বেড়ে যাওয়ায় পূর্ব ও দক্ষিণ সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে অস্ট্রিয়া। এ বছরের শুরু থেকে আড়াইশ’ মানব পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

২০১৫ সালের পুনরাবৃত্তি

কয়েক বছর আগেও অস্ট্রিয়ার পূর্ব সীমান্তে ঠিক একই রকম দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। ২০১৫ সালের ২৭ আগস্ট সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তান থেকে আসা ৭১ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে আটক করা হয়েছিল৷ সেসময়ও কয়েকজনে মরদেহ পাওয়া যায়। এছাড়া জীবিতদের মধ্যে শিশু এবং নবজাতকও ছিল। তাদেরকে একটি ভ্যানের সিল করা বগিতে পাচারকারীরা লুকিয়ে রেখেছিল। 

সে সময় গাড়িটি অস্ট্রিয়ায় আটক করা হলেও তাদের মৃত্যু ঘটেছিল সীমান্তের অপর প্রান্তে। ঘটনার প্রায় চার বছর পরে ২০১৯ সালে হাঙ্গেরিয়ান আদালত ঘটনাটির সাথে জড়িত পাচারকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

পূর্ব অস্ট্রিয়ার বার্গেনল্যান্ড অঞ্চলের গভর্নর হ্যান্স পিটার ডোসকোজিল স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, “এই নতুন ঘটনার সাথে ২০১৫ সালের মৃত্যুর মধ্যে বেশ মিল আছে, এটি অত্যন্ত ভীতিকর ব্যাপার।’’ 

“মঙ্গলবারের ঘটনাটি "সংগঠিত মানব পাচারের নৃশংসতা এবং অমানবিকতার উদাহরণ। আমি ইউরোপীয় পর্যায়ে পুরো আশ্রয়প্রক্রিয়ার সংস্কারের আহ্বান জানাই,” যোগ করেন তিনি৷ 



এমএইউ/এআই


 

অন্যান্য প্রতিবেদন