ব্রান্ডেনবুর্গে আশ্রয় নেয়া বেলারুশ হয়ে জার্মানিতে প্রবেশ করা একদল অভিবাসী | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স
ব্রান্ডেনবুর্গে আশ্রয় নেয়া বেলারুশ হয়ে জার্মানিতে প্রবেশ করা একদল অভিবাসী | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স

বেলারুশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) প্রবেশের নতুন অনিয়মিত অভিবাসী রুট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে৷ বেলারুশের শাসক লুকাশেঙ্কোকে ‘‘মানবপাচারকারী’’ হিসেব আখ্যা দিয়েছে ইইউ৷ দেশটির সঙ্গে ইউরোপীয় জোটটির সম্পর্কে টানাপোড়েনের সুযোগে কয়েকহাজার অভিবাসী ইইউতে প্রবেশ করছে৷

এদিকে, প্রো অ্যাসাইল এবং ক্যাথলিক দাতব্য সংস্থা কারিতাস পোলিশ-বেলারুশিয়ান সীমান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটছে বলে সতর্ক করেছে৷   

গত কয়েকমাস ধরে হাজার হাজার মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা অভিবাসীরা বেলারুশ হয়ে লিথুনিয়া, লাটভিয়া কিংবা পোল্যান্ডের মধ্য দিয়ে ইইউতে প্রবেশের চেষ্টা করছে৷ 

জার্মানি চলতি বছর ইতোমধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে শনাক্ত করেছে যারা বেলারুশ হয়ে ইইউতে প্রবেশ করেছে এবং অনুমতি ছাড়াই জার্মান সীমান্ত অতিক্রম করেছে৷ আগস্ট মাস থেকে এরকম প্রবেশের ঘটনা বাড়তে থাকলেও শুধু অক্টোবরেই জার্মানিতে এসেছেন তিন হাজারের মতো মানুষ৷ 

অবস্থা এমন যে জার্মান-পোলিশ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের কথা ভাবছে জার্মানি৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নে সেনজেনের আওতায় থাকা দেশগুলোর সীমান্তে সাধারণত কোনো সক্রিয় চেকপোস্ট থাকে না৷ 

পোল্যান্ডে একদল অভিবাসী | ছবি: ডয়চে ভেলে স্ক্রিনশট
পোল্যান্ডে একদল অভিবাসী | ছবি: ডয়চে ভেলে স্ক্রিনশট


বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হর্স্ট সেহোফার বেলারুশের বিরুদ্ধে মানবপাচার আয়োজনের অভিযোগ এনেছেন৷ ‘‘অভিবাসীদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে হাইব্রিড হুমকি’’ দেয়া হচ্ছে বলেও মনে করেন জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী৷   

দ্য পাইওনিয়ার নামের একটি অনলাইন নিউজপোর্টালে প্রকাশিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বেলারুশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ করা অনিয়মিত অভিবাসীদের সংখ্যা জার্মানিতে ক্রমশ বাড়ছে৷ 

‘‘বেলারুশের শাসকগোষ্ঠী বেলারুশ হয়ে ইইউতে মানবপাচারের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী প্রচারণা চালাচ্ছে,’’ লেখা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিতে৷ 

জার্মান সংবাদসংস্থা ডিপিএ জানাচ্ছে, বিশ্বের ৭৬টি দেশের মানুষ এখন বিনা ভিসায় বেলারুশ যেতে পারেন৷ এই সংখ্যাটিও সম্প্রতি বাড়ানো হয়েছে৷   

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে আরো লেখা হয়েছে, ‘‘দুবাই, ইস্তানবুল এবং বৈরুত থেকে (মিনস্কে) উড়ালের সংখ্যা বেড়েছে দেখতে পাচ্ছি আমরা৷ বর্তমানে পনের হাজারের মতো অনিয়মিত অভিবাসী পোলিশ-বেলারুশিয়ান সীমান্তে অপেক্ষা করছে যার অধিকাংশই জার্মানিতে স্থায়ীভাবে থাকতে আগ্রহী৷’’ 

এদিকে, জার্মানির অভিবাসন বিষয়ক সংগঠন প্রো অ্যাসাইল এবং কারিতাস শুধু বেলারুশের শাসকগোষ্ঠীর সমালোচনাই করেনি, ইইউ’র ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে৷ 

প্রো অ্যাসাইলের কার্ল কপ মনে করেন যে মানবাধিকার স্থগিত করে লুকাশেঙ্কের কর্মকাণ্ডের জবাব দিচ্ছে ইইউ৷ রাইনিশে পোস্ট পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘‘পোল্যান্ডে ইইউ’র বহিঃসীমান্তে [জেনেভা] শরণার্থী সনদের কোনো উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না৷ স্বৈরশাসকদের তখনই জয় হয় যখন আইনের শাসন থাকা দেশগুলোও শরণার্থী সনদ ভঙ্গ করে৷’’ 

কারিতাসের আন্দ্রেয়া শ্লেংকার এই বিষয়ে বলেন, ‘‘ইইউ’র সীমান্তে পৌঁছানো মানুষদের আশ্রয়ের আবেদন করার সুযোগ দেয়া উচিত৷’’

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যেসব এয়ারলাইন্স এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অনিয়মিত অভিবাসীদের বেলারুশের মাধ্যমে ইইউতে প্রবেশে ভূমিকা রাখছে তাদের উপর দ্রুত ইইউব্যাপী সুদুরপ্রসারী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চান জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সিহোফার৷ পাশাপাশি পোলিশ-জার্মান সীমান্তে কেন্দ্রীয় পুলিশের টহলও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি৷

জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্বৃতি করে এক টুইটে জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় লিখেছে, ‘‘জার্মানিতে অবৈধভাবে প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তের পোল্যান্ড অংশে যৌথ টহলের ব্যবস্থা করা উচিত৷’’  

তবে এধরনের টহলে জার্মানিতে অভিবাসীদের প্রবেশ কমলেও মূল সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করছে ডিপিএ৷

এআই/কেএম (কেএনএ, ডিপিএ)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন