লেসব দ্বীপের কারা টেপে শিবিরে ঢোকার অপেক্ষায় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা | ছবি: ইপিএ
লেসব দ্বীপের কারা টেপে শিবিরে ঢোকার অপেক্ষায় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা | ছবি: ইপিএ

চলতি সপ্তাহে গ্রিসে কর্মরত ২৬টি এনজিও দাবি করেছে যে, দেশটির বিভিন্ন ক্যাম্পে শরণার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীরা অভুক্ত অবস্থায় আছেন। তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছে গ্রিস।

২৬টি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা এক বিবৃতিতে গ্রিক কর্তৃপক্ষ ও ইউরোপিয়ান কমিশনকে অবিলম্বে সরকারি শিবিরগুলিতে বাসরত অভিবাসী ও শরণার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের সংস্থান করার আহ্বান জানায়। 

শিবিরের বাসিন্দাদের 'দেশে থাকার আইনি মর্যাদা' যা-ই হোক না কেন, সংস্থাগুলির মতে অন্নসংস্থানের পাশাপাশি 'আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের জন্য আর্থিক সাহায্য' আবার চালু করা হোক।

বিবৃতি অনুযায়ী, খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গর্ভবতী নারী, শিশু, সিঙ্গল প্যারেন্ট ফ্যামিলি বা এক অভিভাবক ও সন্তানের পরিবারসহ শারীরিকভাবে অসুস্থ মানুষ। 

তাদের মতে, জাতিসংঘের তরফে পাওয়া খাদ্য সাহায্যের টাকা গ্রিক কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছলেও ১ অক্টোবর পর্যন্ত ৩৬ হাজার আশ্রয়প্রার্থী আর্থিক সাহায্য পাননি।

প্রাপ্য অর্থের বদলে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে 'স্বল্প পরিমাণে খাবার, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খারাপ মানের ও ঠিকঠাকভাবে রান্না করা নয়', জানাচ্ছে বিবৃতি।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, যেমন গ্রিক কাউন্সিল ফর রিফিউজিস, ইন্টারসোস, দ্য ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি, লেসবস লিগ্যাল সেন্টার ও তেরে দেশ হমেস।

যা বলছে গ্রিক সরকার

বেসরকারি সংস্থাগুলির দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে গ্রিক সরকার জানিয়েছে যে, তা সত্য নয়। 

দেশটির অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের দাবি, "১ অক্টোবর থেকে শিবিরের সকল আশ্রয়প্রার্থীরা খাদ্য প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন। এছাড়া, প্রতি মাসের শেষে তাদের আর্থিক সাহায্যও দেওয়া হবে। বাসিন্দাদের দিনে তিনবার খাবারের সাথে পানীয় জলও দেওয়া হয়। সাথে, ডায়াবেটিসের রোগী বা শিশুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।"

এদিকে এনজিওগুলির বিবৃতিতে সরকারের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ করা হয়। 

বলা হয়, যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন খারিজ হয়েছে তাদেরকে পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে না। 

তবে এই অভিযোগ নিয়ে সরকারি বিবৃতিতে কিছু বলা না হলেও তারা জানায়, "আইওএম ও ফ্রন্টেক্সের মতো সংস্থার সাথে মিলে বেশ কিছু অন্যান্য প্রকল্প চালু করেছে গ্রিক সরকার"।

শুধু তাই নয়, শরণার্থী মর্যাদা যারা এখনও পাননি, সেই সব অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অভুক্ত থাকার অভিযোগ বিষয়ে সরাসরি কিছু না বলে সরকার জানায় যে, তাদের জন্য অন্যান্য পরিষেবা রয়েছে।

সরকারি বিবৃতিতে বলে, "যেসব শরণার্থী ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পেয়েছেন, তাদের এই শিবিরে থাকার অধিকার নেই৷ কারণ এটি কেবল আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য। একই সময়ে, তাদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে কাজের অধিকার ও সংশ্লিষ্ট ভাতার ব্যবস্থা।"

কিন্তু গ্রিসে কর্মরত বিভিন্ন মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংস্থার মতে, কাগজে-কলমে শরণার্থীরা গ্রিসে সকল সরকারি সাহায্যের যোগ্য হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ভাষাগত দুর্বলতার কারণে প্রায়ই তারা সকল সুবিধা ভোগ করতে পারেন না।

এসএস/আরআর (এএফপি, আনসা)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন