ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংস্থা ফ্রন্টেক্স ছবি: রয়টার্স
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংস্থা ফ্রন্টেক্স ছবি: রয়টার্স

গ্রিসে আশ্রয় আবেদন করা সত্ত্বেও এক সিরিয়ান পরিবারকে ২০১৬ সালে তুরস্কে ফেরত পাঠায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংস্থা ফ্রন্টেক্স। সেই পরিবারই ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ জাস্টিস বা আইসিজে-তে এই ফ্রন্টেক্সের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর একটি বিমানে করে এক সিরিয়ান পরিবারকে গ্রিস থেকে তুরস্কে ফেরত পাঠায় ফ্রন্টেক্স কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তখনও পর্যন্ত গ্রিস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা থাকা তাদের আশ্রয়ের আবেদনের কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

বুধবার এই ঘটনার ঠিক পাঁচ বছর পর ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ জাস্টিসে ফ্রন্টেক্সের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা দায়ের করলো এই পরিবার।

জার্মান সংবাদপত্র টাগেশাও জানায়, ওমার নামের এই সিরিয়ান আশ্রয়প্রার্থীর হয়ে মামলাটি লড়ছেন নেদারল্যান্ডসের মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী লিসা-মারি কম্প। 

কম্প বলেন যে,'ফ্রন্টেক্স যুগ্ম অপারেশনের নামে কীভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে ও এতে ইইউ-রাষ্ট্রের সীমান্তরক্ষীদের ভূমিকা কী’, তা খতিয়ে দেখবে আইসিজে।

ফ্রন্টেক্স ও ইইউ সীমান্তরক্ষীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এমনই এক 'যুগ্ম অপারেশনের' সময়ে ওমার, তার স্ত্রী ও চার সন্তানের পরিবারকে ২০১৬ সালে গ্রিস থেকে ফেরত পাঠায়। এই ধরনের 'পুশব্যাকের অভিযোগ' করে আসছেন ওমারের মতো আরো শয়ে শয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশী।

কিন্তু ওমারের বিষয়টি অভিনব৷ কারণ তাদের আশ্রয়ের আবেদন থেকে গোটা প্রক্রিয়ারই নথি রয়েছে, জানান কম্প।

ওমারের মামলাটি ছাড়াও সকল ধরনের পুশব্যাকের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে ফ্রন্টেক্স এবং সেই দায় বিভিন্ন রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

আশ্রয়ের আবেদনের সিদ্ধান্তের আগেই প্রত্যর্পণ

২০১৬ সালে তুরস্কে পালিয়ে আসে ওমার ও তার পরিবার। এরপর তারা সেখান থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। গ্রিসে এসে আশ্রয়ের আবেদন করার পর এক গ্রিক পুলিশকর্মী তাদের বলেন যে, এবার তাদেরকে রাজধানী এথেন্সে নিয়ে যাওয়া হবে।

এরপর, ২০ অক্টোবর একটি বিমানে করে তাদের গ্রিসের কোস দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। টাগেশাও জানাচ্ছে যে, সেই বিমানে ছিলেন ফ্রন্টেক্সের কর্মীরাও। এই প্রক্রিয়ার কোনো ধাপেই সন্দেহ হয়নি ওমারের কারণ তিনি জানতেন যে ইইউ আইন অনুযায়ী আশ্রয়ের আবেদনের ফলাফল জানার আগে কখনোই কাউকে দেশে ফেরত পাঠানোর নিয়ম নেই।

টাগেশাওকে ওমার বলেন, "বিমান যখন মাটিতে নামল, আমরা চারদিকে তুর্কি পতাকা দেখে বুঝলাম যে আমাদেরকে মিথ্যা বলা হয়েছে ও ঠকানো হয়েছে।"

তুরস্কের আদানা শহরে এসে এক আইনজীবীর মাধ্যমে তারা নালিশ করতে চাইলে ওমারকে বলা হয় যে, সকল দায় গ্রিক কর্তৃপক্ষের।

বর্তমানে ওমার ও তার পরিবার উত্তর ইরাকে থাকেন। আইসিজে'র মামলাটাই এখন তাদের জীবনে ক্ষীণ আশা দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, "আমি চাই ইউরোপীয় আদালতে আমি বিচার পাই ও যারা আমাদের মিথ্যা বলে অপহরণ করে এনেছে, তাদের শাস্তি হোক।"

ওমারের আইনজীবী কম্প ইতিবাচক ফলাফলের আশা রাখছেন। তার আশা, ওমারের কেইসটি একটি বিচ্ছিন্ন মামলা হয়ে পড়ে থাকবে না।

বেনজামিন বাথকে/এসএস

 

অন্যান্য প্রতিবেদন