২৩ অক্টোবর ইটালির সিসিলির পোৎসাল্লো বন্দরে উদ্ধারকৃত অভিবাসীদের নামানোর অপেক্ষায় সি-ওয়াচ এর জাহাজ৷ ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স/আনসা
২৩ অক্টোবর ইটালির সিসিলির পোৎসাল্লো বন্দরে উদ্ধারকৃত অভিবাসীদের নামানোর অপেক্ষায় সি-ওয়াচ এর জাহাজ৷ ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স/আনসা

কয়েকদিন আগেও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে আসা ইউরোপের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রধান গন্তব্য ছিল ইটালির দ্বীপ লাম্পেদুসা৷ সম্প্রতি সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে দেশটির দক্ষিণাঞ্চল ক্যালাব্রিয়া৷

ক্যালাব্রিয়ার উপকূলীয় শহর রচেল্লা ইয়নিকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পৌরসভাগুলোতে শুধু অক্টোবরেই সাত হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী পা রেখেছেন৷ ইটালির সংবাদ মাধ্যম লা রিপাবলিকার হিসাবে যা আগের বছরের চেয়ে তিনিগুণ বেশি৷ সেখানকার রেডক্রসের প্রধানের তথ্য অনুযায়ী, আগতদের বড় একটি অংশই আফগানিস্তানের নাগরিক৷ 

ইটালির বার্তা সংস্থা আনসা জানিয়েছে, শনিবার মাছ ধরার একটি নৌকায় প্রায় ৩৩০ অভিবাসী রচেল্লা ইয়নিকাতে পৌঁছায়৷ তাদের থাকার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না সেখানে৷ আনসাকে সেখানকার মেয়র ভিট্টরিয়া জিতো বলেন, ‘‘রচেল্লা তার সাধ্যমত করেছে, কিন্তু অসাধ্য সাধন সম্ভব নয়৷’’ 

চলতি বছর অবৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টারত অভিবাসীদের জন্য দক্ষিণ ইটালির লাম্পেদুসা অন্যতম প্রধান গন্তব্য হয়ে ওঠে৷ শত শত নৌকা গত কয়েক মাসে সেখানে ভিড়ে, ছোট দ্বীপটিতে আশ্রয় নেয় হাজারো অভিবাসনপ্রত্যাশী৷ তবে এই চিত্র এখন বদলাতে শুরু করেছে৷ 

জানা গেছে, মিশর অথবা তুরস্ক থেকে পাড়ি দেয়া ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা লাম্পেদুসার বদলে এখন নতুন রুট বেছে নিয়েছেন৷ লাম্পেদুসায় যাওয়ার ক্ষেত্রে লিবিয়ার কোস্ট গার্ডের বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে৷ সেটি এড়ানোর জন্য তারা এখন চলে যাচ্ছেন ইটালির দক্ষিণাঞ্চলের মূল ভূখণ্ডের দিকে৷ বড় একটি অংশ উপকূলীয় বন্দর রচেল্লা ইয়নিকায় নৌকা ভিড়াচ্ছেন৷ এমন অবস্থায় ‘রচেল্লা বা ক্যালাব্রিয়া নতুন লাম্পেদুসায় পরিণত হয়েছে’ বলে উল্লেখ করছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো৷ 

এদিকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই অভিবাসনে হরহামেশা দুর্ঘটনাও ঘটে চলছে৷ অনেকে উদ্ধার হচ্ছেন, অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন৷ এই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সমুদ্র থেকে উদ্ধারে রাষ্ট্রীয় কোন উদ্যোগ নেই৷ বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা অনুদানের উপর নির্ভর করে এই কাজ করে আসছে৷ সম্প্রতি ডক্টর্স উইদাউট বর্ডার্স তাদের কয়েকটি অভিযানে ভূমধ্যসাগর থেকে ৩০০ জনকে উদ্ধারে সক্ষম হয়েছে৷ তাদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছেন৷ তারা ছোট ডিঙ্গি ও কাঠের নৌকায় চেপেই বিপদজনক এই পথে রওনা হয়েছিলেন৷ অ্যালার্ম ফোন নামের আরেক সাহায্যকারী সংস্থা রোববার দুইটি নৌকা থেকে ১২০ জনকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছে৷ তাদের অনেকে উত্তর আফ্রিকা থেকে ইটালির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন৷ 

এদিকে রোববারই জার্মান উদ্ধারকারী জাহাজ সি-ওয়াচ থ্রি ৪১২জন অভিবাসীকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে ইটালির দক্ষিণাঞ্চলে নিয়ে যায়৷ সাতটি পৃথক উদ্ধার অভিযান শেষে এবং দীর্ঘ অপেক্ষার পর সংগঠনটি শুক্রবার সিসিলির পোৎসাল্লো বন্দরে প্রবেশের অনুমতি পায়৷ সেখানে অভিবাসীদের নামাতে সক্ষম হয়েছে তারা৷ সি-ওয়াচ তাদের টুইটারে এ প্রসঙ্গে লিখেছে, ‘‘আমরা সফলভাবে চ্যালঞ্জিং একটি সপ্তাহ পার করতে পেরেছি৷’’

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম জানিয়েছে, শুধু চলতি বছরই অন্তত ১৫৩০ জন ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা গেছেন৷ এমন অবস্থায় অভিবাসীদের প্রতি আরো মানবিক হতে ইউরোপের দেশগুলোর প্রতি বিভিন্ন সংস্থাগুলো বরারবরের মতোই আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে৷ সবশেষ পোপ ফ্রান্সিসও এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবারও আহ্বান জানাচ্ছি যাতে তারা লিবিয়া ও ভূমধ্যসাগর অঞ্চলের অভিবাসন স্রোতের একটি অভিন্ন ও বাস্তব সমাধানের প্রতিশ্রুতি রাখে৷’’ এই সময় তিনি অভিবাসী, শরণার্থীদের প্রতি তার সহমর্মিতাও প্রকাশ করেন৷ 

ইটালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের শুরু থেকে প্রায় ৪৪ হাজার ৮০০ অভিবাসী ইটালীয় উপকূলে আশ্রয় নিয়েছে। যেটি ২০২০ সালের একই সময়ে ছিল ২৩ হাজার ৫১৭ জন।

এফএস/কেএম (ইপিডি, ডিপিএ, কান)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন