ফাইল ফটো: বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্ত পাড়ি দেয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন একদল অভিবাসী | ছবি: রয়টার্স
ফাইল ফটো: বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্ত পাড়ি দেয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন একদল অভিবাসী | ছবি: রয়টার্স

বসনিয়াতে ঠাণ্ডা বাড়ায় দেশটির সঙ্গে থাকা ক্রোয়েশিয়া সীমান্ত অতিক্রম করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) প্রবেশের শরণার্থীদের চেষ্টাও বাড়ছে৷ তবে, সীমান্তে পুলিশের বেধড়ক মারধর আর নিগ্রহের শিকার হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককে৷

ইইউ বহিঃসীমান্ত অতিক্রম করতে বসনিয়ায় অবস্থানরত শরণার্থীদের অধিকাংশই এসেছেন আফগানিস্তান থেকে৷ সেদেশে বছরের পর বছর যুদ্ধ এবং দরিদ্র মোকাবিলা করা এই মানুষগুলো আবারো হিংস্রতা দেখছেন বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে৷ 

ইইউভুক্ত দেশ ক্রোয়েশিয়ার পুলিশ সীমান্তে তাদের বেধড়ক পিটিয়ে বসনিয়াতে ফেরত পাঠাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক শরণার্থী৷ তাদের একজন ইব্রাহীম রসুল ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘‘ক্রোয়েশিয়ার পুলিশ জানোয়ারের মতো আচরণ করছে, তারা সবাইকে পেটায়... শিশু, নারী, তরুণ, বৃদ্ধ সবাইকে৷’’ 

অবশ্য পুলিশের এই আচরণ সত্ত্বেও বসনিয়ার সীমান্ত শহর ভেলিকা ক্লাদুসায় অবস্থানরত শরণার্থীরা ইইউতে প্রবেশের আশা ছাড়ছেন না৷ আফগান শরণার্থীদের অনেকে গত কয়েক বছর ধরেই এই চেষ্টা করছেন, কেউ কেউ তালেবান দেশটির ক্ষমতা দখলের পর এখানে এসেছেন৷ 

যদিও শরণার্থী এবং অভিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরেই ইইউ বহিঃসীমান্তে পুলিশি বর্বরতার শিকার হওয়ার অভিযোগ করে আসছিল,তবে ঘাটতি ছিল প্রমাণের ৷ সম্প্রতি ইউরোপের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার তদন্তে এই বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য জানা গেছে৷ ক্রোয়েশিয়া, গ্রিস এবং রোমানিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী শরণার্থীদের নির্যাতন করে বলে জানাচ্ছে পত্রিকাগুলো৷ 

জাগরিবও ইইউ সীমান্তে পুলিশি নির্যাতনের বিষয়টি সম্প্রতি প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে৷ তবে, গ্রিস বিষয়টি এখনো তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে৷ 

তিন মাস আগে আফগানিস্তান ত্যাগ করা আমীর আলী মিরজাই জানিয়েছেন যে ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে তাকে মারধর করে সবকিছু ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে৷

‘‘পুলিশ আমার কাছ থেকে চারশ’ ইউরো এবং মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে,’’ বলেন তিনি৷ 

পাঁচ মাস বয়সি সন্তান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন মিরজাই৷ সীমান্তে নির্যাতন সত্ত্বেও আবারো ইইউতে প্রবেশের চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন এই শরণার্থীরা৷ 

বসনিয়া এবং ক্রোয়েশিয়া হয়ে ইউরোপে প্রবেশের এই পথটি বলকার রুট হিসেবে পরিচিত৷ ২০১৬ সালে এই রুটটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয় যখন শরণার্থীদের রুখতে তুরস্কের সঙ্গে চুক্তি করে ইইউ৷ তারপরও হাজার হাজার শরণার্থী এবং অভিবাসী, যাদের অধিকাংশই আফগান, বাংলাদেশি এবং পাকিস্তানি, এই পথে ইইউতে প্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে৷ 

এআই/কেএম (এএফপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন