জার্মানির রাম্সটাইনে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে শরণার্থীদের ইংরেজি প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে | ছবি: রয়টার্স
জার্মানির রাম্সটাইনে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে শরণার্থীদের ইংরেজি প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে | ছবি: রয়টার্স

তালেবান কাবুল দখল করে নেয়ার পর জার্মানিতে আসা আফগানরা অতীতে আসা আফগানদের তুলনায় দ্রুত সামাজিক এবং অর্থনৈতিকভাবে ইউরোপের দেশটির সঙ্গে একীভূত হতে পারবে বলে আশা করছেন শ্রম এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা৷

জার্মানির চাকুরিদাতা সংস্থার গবেষণাকেন্দ্র আইএবি জানিয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে আসা জার্মানিতে আশ্রয় নেয়া আফগানরা ২০১৫-২০১৬ সালে দেশটি থেকে আসা শরণার্থীদের তুলনায় বেশি শিক্ষিত এবং জার্মান ও অন্যান্য বিদেশি ভাষা শিখতে বেশি পারদর্শী৷  

নতুন আগত এই শরণার্থীদের প্রভাব জার্মানির উপরে কী হতে পারে তা যাচাই করতে গিয়ে আইওএম বলছে নবাগতরা দ্রুত জার্মানির শ্রমবাজারে নিজেদের জায়গা খুঁজে পাবে৷ ফলে জার্মানি রাষ্ট্রের তাদের পেছনে খরচ কম হবে৷ 

গত আগস্টে তালেবান কাবুল দখলের পর দু’সপ্তাহের মধ্যে ৫,৩০০ জনকে বিমানে করে সেদেশ থেকে জার্মানিতে নিয়ে আসা হয়েছে৷ তাদের মধ্যে জার্মান নাগরিকের পাশাপাশি অনেক আফগান নাগরিকও রয়েছেন যারা বিভিন্ন সময় কাবুলে আন্তর্জাতিক বাহিনীকে সহায়তা করেছিলেন৷ পরবর্তীতে আরো ১,০০০ আফগানকে দেশটি থেকে সরিয়ে আনতে সক্ষম হয় জার্মানি৷  

আইএবি’র হার্বার্ট ব্রুকার এই বিষয়ে বলেন, ‘‘বর্তমানে সেই মানুষদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে যারা আফগানিস্তানে জার্মান বা বিদেশি বাহিনী অথবা দাতাসংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন কিংবা সরকারি, রাজনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, শিক্ষামূলক, মানবাধিকার বা এরকম কোনো প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী কোনো পদে ছিলেন৷’’

‘‘এই দলের মানুষরা উচ্চশিক্ষিত, বিদেশি ভাষায় দক্ষ এবং সাধারণ আফগানদের তুলনায় বেশি আয় করেছেন,’’ বলেন তিনি৷ 

জার্মানির শ্রমবাজারে এখন প্রশিক্ষিত জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে৷ বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে এই চাহিদা সবচেয়ে বেশি৷ অন্যদিকে, গত পাঁচ বছর ধরে জার্মানিতে অভিবাসনের হারও পড়তির দিকে৷  

ইউরোপের ধনী দেশটিতে আফগান নাগরিকদের চাকুরি পাওয়ার হারও তুলনামূলকভাবে বেশি৷ চলতি বছরের এপ্রিল অবধি পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হার ছিল ৪০% শতাংশ যা শরণার্থী হিসেবে জার্মানিতে আসা মানুষদের গড় চাকুরির হারের চেয়ে তিন শতাংশ বেশি৷ অতীতে যারা জার্মানিতে এসেছেন তাদের অনেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা কম থাকায় এবং আশ্রয়ের আবেদন যাচাইবাছাই হতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণেও চাকুরি বাজারে তাদের প্রবেশে সময় বেশি লেগেছে৷  

গত বছরের শেষ অবধি জার্মানিতে বসবাসরত আফগান নাগরিকের সংখ্যা ছিল ২৭২,০০০৷ তাদের মধ্যে ২১৬,০০০ আশ্রয়প্রার্থী এবং শরণার্থী৷  

এআই/কেএম (ডিপিএ)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন