২২ জুলাই থেকে ব্রাসেলসের একটি গীর্জা দখল করে অনশন ধর্মঘট পালন করছিলেন একদল অভিবাসী। ছবিঃ ইনফোমাইগ্রেন্টস
২২ জুলাই থেকে ব্রাসেলসের একটি গীর্জা দখল করে অনশন ধর্মঘট পালন করছিলেন একদল অভিবাসী। ছবিঃ ইনফোমাইগ্রেন্টস

বেলজিয়ামে ২০০৯ সাল থেকে বসবাসরত মরোক্কান অভিবাসী নেজহা পুনরায় অনশন শুরু করেছেন। গত ২১ জুলাই তিনি অনশন স্থগিত করে বৈধতার জন্য পুনরায় আবেদন করলেও সেটি নাকচ করে দেয় দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ৫২ বছর বয়সি নেজহারের তুলনামূলক ভালো রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও ইউরোপের দেশটিতে বৈধতা পেতে ব্যর্থ হয়েছেন।

পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে ১২ বছর আগে নেজহার মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা থেকে পালিয়ে বেলজিয়ামে এসেছিলেন। সেখানে তিনি তার জীবন নতুন করে গড়তে সংগ্রাম শুরু করেন। নেজহা ফরাসি এবং ডাচ ভাষা শিখে বিভিন্ন সংস্থা ও এনজিওতে কাজ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি বেশ কয়েকবার দেশটিতে বৈধতা পেতে চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনোভাবেই সফল হতে পারেন নি। 

শেষমেষ গত মে মাসে তিনি নিয়মিতকরণের দাবিতে ৪৫০ জন অনথিভুক্ত অভিবাসীর সাথে অনশন আন্দোলনে যোগ দেন। ২১ জুলাই আন্দোলনকারীরা অনশন আন্দোলন স্থগিত করে পুনরায় বৈধতা হওয়ার চেষ্টা করেন।

নেজহার আইনজীবী মারি তনক্রে বলেন, "তার রেকর্ড বিশেষভাবে ভালো ছিল। অনশনকারীদের মধ্যে যদি কারো ফাইল বৈধতা পেতে যোগ্য থাকে তাহলে নেজহারেরই পাওয়া উচিত ছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই।”

অনশন স্থগিতের বেশ কয়েক সপ্তাহ পরেও ইমিগ্রেশন অফিস থেকে নেজহার বৈধতার ব্যাপারে কোন উত্তর না আসায় ২২ সেপ্টেম্বর তার আইনজীবী ইমিগ্রেশনের কাছে একটি অনুলিপি চেয়েছিলেন। তবে নেজার জন্য এটি ভালো সংবাদ ছিল না। কারণ ইমিগ্রেশন জানায়, "চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের খসড়া তৈরি করা হয়নি, কিন্তু 'অস্থায়ী অনুমোদন দেয়া হয়েছে' এরকম কিছুও উল্লেখ করা হয় নি।’’ 

গত জুলাই মাসে অনশন স্থগিতের পরে আবারো অনশনে ৫২ বছর বয়সী নেজহা। ছবিঃ ডিআর
গত জুলাই মাসে অনশন স্থগিতের পরে আবারো অনশনে ৫২ বছর বয়সী নেজহা। ছবিঃ ডিআর


“প্রতিলিপিতে ইমিগ্রেশনের পরিচালকের স্বাক্ষর রয়েছে কিন্তু বৈধতার ব্যাপারে কিছু পরিষ্কার লেখা ছিল না। সুতরাং এখন বিকল্প হিসেবে একমাত্র বৈধতা আবেদন নাকচের সিদ্ধান্ত পেতে বাকি রয়েছে”, ব্যাখ্যা করেন মারি তনক্রে। 

এদিকে, বৈধতার দাবিতে বুধবার থেকে বেগুইনেজ গির্জায় পুনরায় অনশন শুরু করেছেন অভিবাসীরা। আন্দোলনরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বেশিরভাগই মরক্কো এবং আলজেরিয়া থেকে এসেছেন।

অনশন ধর্মঘটটি ব্যাপক মিডিয়া কভারেজ পাওয়ায় অনেক আন্দোলনকারীদের আশা পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল, কারণ অনেক অভিবাসী বছরের পর বছর ধরে তাদের পরিস্থিতি নিয়মিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে। 

তবে, এ ব্যাপারে এখনো সরকারের অবস্থান পরিষ্কার না হলেও বেলজিয়ামের অ্যাসাইলাম অ্যান্ড মাইগ্রেশন বিষয়ক সেক্রেটারি অফ স্টেট সামি মাহদির সাম্প্রতিক বক্তব্যে অনেকে পরিবর্তনের আশা করেছিলেন। বিশেষ করে যেহেতু কর্তৃপক্ষ অনথিভুক্ত অভিবাসীদের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে উপস্থিত এনজিওগুলিকে "প্রক্রিয়াকরণের সময় সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে’’ বলে আশ্বস্ত করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এখনো আসে নি। 

ধর্মঘটকারীদের দৈনন্দিন জীবন তাই এখনও অনিশ্চিত। আন্দোলন স্থগিত হওয়ার পর কেউ কেউ তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন। কিন্তু অন্যরা, বিশেষ করে যাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা ছিল না, পেছনে আটকা পড়ে গেছেন। প্রতি রাতে প্রায় ১০০ জন এখনও বেগুইনেজ চার্চে ঘুমায়।

যদিও নেজহার বৈধতা আবেদনের মামলাটি অনেককে বৈধতার লড়াইয়ে নিরুৎসাহিত করেছে, তবে এই লড়াই এখনও শেষ হয়নি।



এমএইউ/এআই


 

অন্যান্য প্রতিবেদন