প্রায় ৪০০ অভিবাসন প্রত্যাশী এই তুর্কি জাহাজ থেকে গ্রিসের কোস দ্বীপে অবতরণ করেছে। ছবিঃ এপি
প্রায় ৪০০ অভিবাসন প্রত্যাশী এই তুর্কি জাহাজ থেকে গ্রিসের কোস দ্বীপে অবতরণ করেছে। ছবিঃ এপি

রোববার, ৩১শে অক্টোবর, তুর্কি পতাকাবাহী জাহাজ থেকে প্রায় ৪০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী কোস দ্বীপে অবতরণ করেছে। তুরস্কের বিরুদ্ধে অভিবাসন চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করলেও জাহাজটিকে নোঙর করার অনুমতি দিয়েছে।

শুক্রবার থেকে তুরস্ককে অভিবাসী বোঝাই নৌকাটি উদ্ধার করতে বলে আসছিল গ্রিস। তুর্কি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে, গ্রিক কর্তৃপক্ষ অবশেষে এজিয়ান সাগরের কোস দ্বীপে নামার অনুমতি দেয় জাহাজটিকে।

গ্রিক কোস্ট গার্ডের মতে, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল যেখানে তাদেরকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে এবং বাধ্যতামূলক কোভিড পরীক্ষা করা হয়েছিল।


গ্রিস অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের মতে, জাহাজ থেকে নামা ৩৮২জনের মধ্যে বেশিরভাগই আফগান আশ্রয়প্রার্থী। 

রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনালের এথেন্স সংবাদদাতা জোয়েল ব্রনার জানিয়েছেন, অভিবাসীদের মধ্যে থাকা ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই যাত্রা

গ্রিসের অভিবাসন মন্ত্রী নোটিস মিতারাচি টুইটারে নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, “জেনে শুনেই তুর্কি উপকূল থেকে আরেকটি বিপজ্জনক এবং অবৈধ যাত্রা করিয়েছে তুর্কি কর্তৃপক্ষ।”

ইঞ্জিনের সমস্যার কারণে, জাহাজটি কার্পাথোস দ্বীপ থেকে ভেসে যাওয়ার সময় বিপদ সংকেত জারি করে।

গ্রিক কোস্ট গার্ডের মতে, “প্রচণ্ড বাতাসের মধ্যে জাহাজটি তুরস্ক ছেড়েছিল এবং যাত্রীদের কারও কাছে লাইফ জ্যাকেট ছিল না।”

আঙ্কারার বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ

শনিবার, গ্রিস তুরস্কের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের মার্চ মাসে হওয়া চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে। গ্রিসের মতে, তুরস্ক জেনেশুনেই নৌকাটিকে উপকূল ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। ইইউ বিলিয়ন ইউরোর সাহায্যের বিনিময়ে আঙ্কারাকে তুর্কি উপকূল থেকে থেকে অভিবাসন যাত্রা সীমিত করার কাজ করে আসছে।

শনিবার গ্রিসের সমুদ্র বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী জিয়ানিস প্লাকিওটাকিস মন্তব্য করেন, "তুরস্ক আবারও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলো। তুরস্কের পতাকা ওড়ানো জাহাজের প্রত্যাবর্তন গ্রহণ না করেই সেটি তাদের বন্দর থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। মানুষের জীবনকে উপেক্ষা করে তুরস্কের সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হচ্ছে।"

কিছু দিন আগে, চিওস দ্বীপের কাছে তুরস্ক থেকে আসা একটি নৌকায় ডুবে চার শিশুর পানিতে মৃত্যু হয় এবং এক যাত্রী নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে সেই ডিঙি থেকে ২২জনকে নামানো হয়। তাদেরও কোনো লাইফ জ্যাকেট ছিল না।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) অনুসারে, প্রতিবেশি তুরস্ক থেকে এই বছর আড়াই হাজারেরও বেশি লোক এজিয়ান সাগর পাড়ি দেয়, যা ২০২০ সালে ছিল ৯,৭০০ জন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর মধ্যে ১০০ জনেরও বেশি মৃত বা নিখোঁজ শনাক্ত করেছে।



এমএইউ/এসএস (রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল)


 

অন্যান্য প্রতিবেদন