ডিঙি নৌকায় চেপে গ্রিসের কোস দ্বীপে এভাবে প্রায়ই এসে পৌঁছান অভিবাসনপ্রত্যাশীরা | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স
ডিঙি নৌকায় চেপে গ্রিসের কোস দ্বীপে এভাবে প্রায়ই এসে পৌঁছান অভিবাসনপ্রত্যাশীরা | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স

তুরস্কের পতাকাবাহী একটি জাহাজ রোববার গ্রিসের কোস দ্বীপে এসে নোঙর ফেলে৷ এই নৌকায় আফগান নাগরিকদের সাথে ছিলেন বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিরাও৷ এই দুই দেশের কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনায় যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে গ্রিস৷

গ্রিসের অভিবাসন ও রাজনৈতিক আশ্রয় বিষয়কমন্ত্রী নোতিস মিতারাচি স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ওপেন টিভিকে একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, "আমার জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় যদি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের সাথে একটি যৌথ সমাধানে বা চুক্তিতে পৌঁছতে পারি, যাতে করে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিধির আওতার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের নিজদেশে ফেরত পাঠানো যায়৷"

এই কাজ সম্পন্ন করতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকেও আরো তৎপর হতে আহ্বান জানান মিতারাচি৷ মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, কোস দ্বীপে অবস্থিত অভ্যর্থনা কেন্দ্রে আগত ৪০০ জনের মধ্যে ২৫০ জনই পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি নাগরিক৷

পাকিস্তান থেকে ১৯২জন, বাংলাদেশ থেকে ৫৬জন রয়েছেন এই দলে।

এছাড়াও রয়েছেন ১১০ জন আফগান নাগরিকও সিরিয়া, ইরান, লেবানন ও মিশর থেকে আসা কয়েকজন অভিবাসনপ্রত্যাশীও৷

প্রায় চারশ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে ১৪০জন দাবি করেছেন যে তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক৷ মন্ত্রী মিতারাচি জানান যে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম-এর সাথে মিলে এই ১৪০ জনের মেডিকাল পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে করে তাদের বয়স সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়৷

গ্রিক সীমান্তরক্ষীরা জানান যে আগত অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অভ্যর্থনা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাদের কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে ও তাদের করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷

ইতিমধ্যে, মঙ্গলবার গ্রিক মন্ত্রী মিতারাচি তুরস্কে যাচ্ছেন তুর্কি কর্তৃপক্ষের সাথে নানা বিষয়ে আলোচনায় যোগ দিতে৷ কিন্তু অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে আসা এই জাহাজ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা থেকে এখনও কিছু স্পষ্ট হয়নি৷ জাহাজ নিজেদের পানিতে ফিরিয়ে নিতে তুরস্ক অস্বীকার করায় বিষয়টি আরো জটিল হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷

এসএস/কেএম (এএফপি, একাথিমেরিনি, গ্রিক সিটি টাইমস)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন