ফ্রান্সের ব্রায়েনকার শহরে কয়েকজন অভিবাসী | ছবি: আর্কাইভ/ইপিএ
ফ্রান্সের ব্রায়েনকার শহরে কয়েকজন অভিবাসী | ছবি: আর্কাইভ/ইপিএ

চিকিৎসা অধিকার বিষয়ক সংগঠন এমইডিইউ ইটালি-ফ্রান্স সীমান্তের ভাল ডি স্যুসা অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে৷ সেখানে শীত বাড়ার সাথে সাথে অভিবাসীদের দুর্ভোগও বাড়ছে৷

এমইডিইউ রবিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে ভাল ডি স্যুসার উত্তরপশ্চিমে অবস্থিত ফ্রান্সের ব্রায়েনকার এবং ইটালির ওউলক্স এলাকার পরিস্থিতি জটিল এবং মারাত্মক৷  

‘‘বলকান এবং কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরীয় রুট ধরে আসা অভিবাসীরা এখান থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে ফ্রান্সে প্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন৷ কিন্তু সেখানকার দুইটি রিসেপশন সেন্টারে পর্যাপ্ত জায়গা নেই,’’ লেখা হয়েছে বিবৃতিতে৷ 

সীমান্ত পরিস্থিতি

অভিবাসীদের জন্য সীমান্তের ফরাসি অংশ ব্রায়েনকারে ১৫ দিনের জন্য নতুন একটি নতুন শিবির খোলা হয়েছে, তবে সেখানে মাত্র ৮০ জনের জন্য জায়গা রয়েছে বলে জানিয়েছে এমইডিইউ৷ রোববার বিকেলে বাড়তি ভিড় হওয়ায় কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেয়া হয়৷ ফলে দুইশর মতো অভিবাসী একটি স্টেশনে আশ্রয় নেন৷  

বুধবার অভিবাসীদের উচ্ছেদ ঠেকাতে শহরের গির্জা নিয়ন্ত্রিত স্থানে তাদের স্বাগত জানানো হয়৷ এরপর যাজকদের সঙ্গে এক দীর্ঘ আলোচনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অভিবাসীদের করোনা টেস্ট করে এবং তাদেরকে লিয়ন শহরে যেতে বাসের ব্যবস্থা করে দেয়৷  

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেখানে নতুন একটি কেন্দ্র খোলার বিষয়েও আলোচনা চলছে যার অর্থায়ন করবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন সংগঠন সেটি পরিচালনা করবে৷ 

সীমান্তের ইটালি অংশের পরিস্থিতিও একইরকম৷ গত ২৪ অক্টোবর ফ্রেটেরনিটা মাসি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৫০ জনের বেশি অভিবাসী আশ্রয় নেন, অথচ সেই কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা ৪০ জন৷ 

‘সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছি বিভিন্ন পরিবার’

ফ্রান্স-ইটালি সীমান্তের দুই অংশেই অভিবাসীদের আশ্রয় দিতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলে জানিয়েছে এমইডিইউ৷ 

সংগঠনটির কর্মী পিয়ারো গোরজা বলেন, ‘‘বর্তমানে বিভিন্ন অভিবাসী পরিবার সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছেন৷ তাদের মধ্যে শিশু, একেবারে কোলের বাচ্চা এবং গর্ভবতী নারীরাও রয়েছেন৷’’  

তিনি বলেন, ‘‘ঝুঁকির ব্যাপারটি হচ্ছে তাদের এই যাত্রা আরো বিপজ্জনক হয়ে পড়বে যখন তাপমাত্রা আরো কমে যাবে৷ তাছাড়া সেখান থেকে ফ্রান্সের অন্যত্র যাওয়ার বাস এবং ট্রেনের সংখ্যা কমানো হয়েছে৷ মোটের উপর গণপরিবহনে ভ্রমণের জন্য নেগেটিভি করোনা টেস্ট রেজাল্টের দরকার হয়৷’’

এমইডিইউ ইটালি-ফ্রান্স সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে৷ পাশাপাশি সেখানকার মানবেতর পরিস্থিতির উন্নয়নে স্থানীয় নেতাদের সহায়তাও চেয়েছে সংগঠনটি৷ 


এআই/কেএম (আনসা)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন