শীত বাড়তে থাকায় আফগান শরণার্থীদের উদ্বেগও বাড়ছে | ছবি: রয়টার্স/এম. ইসলাম
শীত বাড়তে থাকায় আফগান শরণার্থীদের উদ্বেগও বাড়ছে | ছবি: রয়টার্স/এম. ইসলাম

জার্মান সরকারের সঙ্গে তালেবানের কূটনৈতিক সম্পর্ক বেশ ধীরগতিতে এগোচ্ছে৷ ফলে কয়েকশ আফগান জার্মানির ভিসা থাকা সত্ত্বেও দেশ ত্যাগ করতে পারছেন না৷

তালেবান গত আগস্টে কাবুল দখল করার পর ১,৬০০ আফগানকে ভিসা দিয়েছে আফগানিস্তানের আশেপাশের দেশে থাকা জার্মান দূতাবাসগুলো৷ তবে এখন অবধি ১,২০০-র মতো আফগান এভাবে ভিসা নিয়ে দেশটি ত্যাগ করতে পেরেছেন বলে জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে৷ 

এদের একটি বড় অংশ, সংখ্যার হিসেবে এক হাজার ১০০ জনের মতো আফগান, পাকিস্তান থেকে বিমানে জার্মানি আসতে সক্ষম হয়েছেন৷ 

বিমান কাবুল থেকে ফ্রাঙ্কফুর্টে পৌঁছানো একদল আফগানের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে | ছবি: কাই ফাফেনবাখ্/রয়টার্স
বিমান কাবুল থেকে ফ্রাঙ্কফুর্টে পৌঁছানো একদল আফগানের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে | ছবি: কাই ফাফেনবাখ্/রয়টার্স


দেশে আটকে আছেন অনেক আফগান

জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইস্যু করা ‘এক্সেপ্টেন্স লেটার’-এর ভিত্তিতে আফগানদের ভিসা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র৷ 

কিন্তু তাসত্ত্বেও তাদের পক্ষে আফগানিস্তান ত্যাগ করা নানা কারণে কঠিন হয়ে পড়েছে৷ সবচেয়ে বড় জটিলতা হচ্ছে যে-কোনো সীমান্ত পাড়ি দিতেই পাসপোর্টের দরকার হয়, যা পাওয়া সময়সাপেক্ষ ব্যাপার৷ তালেবানের দখলে থাকা আফগানিস্তানে বিষয়টি আরো কঠিন৷ পাসপোর্ট ছাড়া বৈধপথে আফগানিস্তানের সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিবেশী দেশগুলোতে যাওয়া সম্ভব নয়৷

আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তালেবানের এই বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে৷ যাতে মানবিক দিক বিবেচনা করে সীমান্ত অতিক্রমের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট থাকার শর্তটি শিথিল করা হয়৷

তালেবানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়তে আগ্রহ কম অনেক দেশের | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স/এপি
তালেবানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়তে আগ্রহ কম অনেক দেশের | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স/এপি


কাবুল থেকে ভ্রমণেও জটিলতা কাটছে না 

কাবুল বিমানবন্দর এখনো ঠিকভাবে কাজ করছে না৷ তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু উড়ালের অনুমতি দেয়া হচ্ছে৷ গত সপ্তাহে তিনটি উড়ালে ৭০ জনের মতো জার্মান নাগরিক এবং তাদের আফগান পরিবারের সদস্যদের দোহা হয়ে জার্মানিতে নিয়ে আসা হয়েছে৷  

আফগানদের জার্মানিতে নিয়ে আসার দায়িত্বে থাকা জার্মান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিলস আনেন এজন্য কাতারি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন৷ মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি সহায়তা করায় আফগানদের পক্ষে দেশত্যাগ করা সম্ভব হচ্ছে৷  


জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৫০ জনের মতো জার্মান নাগরিক এবং ৬০ জন আফগান দোহা হয়ে এভাবে জার্মানিতে আসতে পেরেছেন৷ আগামী সোমবার এরকম আরেকটি উড়ালের সম্ভাবনা রয়েছে৷ 

বিমানে শীতের সহায়তা পাঠাচ্ছে ইউএনএইচসিআর 

এদিকে, তালেবান ক্ষমতা দখলের পরও দেশে আটকে থাকা আফগানদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর৷ ইতোমধ্যে দেশটিতে তিনটি বিমানে করে শীতের সহায়তা পাঠিয়েছে সংস্থাটি৷


যদিও ঘর ছাড়া কিছু আফগান গত কয়েকমাসে আবারো নিজেদের এলাকায় ফিরে গেছেন, এখনো অনেক মানুষ আফগানিস্তানের মধ্যেই উদ্বাস্তুর জীবনযাপন করছেন৷ তারা তাদের ভবিষ্যত সম্পর্কে অনিশ্চিত এবং এটাও জানেন না যে তাদের পক্ষে দেশত্যাগ সম্ভব কিনা৷ এমনকি যারা নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে গেছেন তাদের মধ্যেও আসন্ন শীতকাল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, কেননা তাদের জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক এবং অন্যান্য সম্বল অবশিষ্ট নেই৷ 

জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা আইওএম-ও আগামী কয়েকমাসে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি কী হতে পারে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেননা দেশটিতে শীতকালে তাপমাত্রা মাইনাস ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অবধি নামতে পারে৷

  

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতা এবং সংঘর্ষ লেগেই ছিল৷ বিশেষ করে তালেবান আবার ক্ষমতায় ফেরায় অন্তত ৩৫ লাখের মতো মানুষ দেশের মধ্যেই এক স্থান থেকে অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন৷ তাদের অনেকে তালেবান কাবুল দখলের আগে দেশত্যাগে সক্ষম হবেন ভেবেছিলেন৷ কিন্তু আদতে তা সম্ভব হয়নি৷ 

ইউএনএইচসিআর বর্তমানে যে সহায়তা পাঠিয়েছে তা দিয়ে ভুক্তভোগী আফগানদের এক সপ্তমাংশের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে৷ তাই আসন্ন মানবিক সংকটরোধে দেশটির আরো আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন৷ 

এআই/কেএম

 

অন্যান্য প্রতিবেদন