কালেতে নতুন প্রতিষ্টিত ৩০০ জন ধারণক্ষমতার জরুরি অস্থায়ী অভ্যর্থনা। ছবিঃ ডিআর
কালেতে নতুন প্রতিষ্টিত ৩০০ জন ধারণক্ষমতার জরুরি অস্থায়ী অভ্যর্থনা। ছবিঃ ডিআর

বহুল আলোচিত ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের শহর কালে’র অভিবাসী সংকট ঠেকাতে নতুন একটি জরুরি অভ্যর্থনা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সম্প্রতি কালেতে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং হয়রানির প্রতিবাদে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরাসি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড মাইগ্রেশন বিষয়ক দপ্তর (অফি)’র পরিচালক দিদিয়ের লেসচি।

কালে তে অবস্থানরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে "হয়রানির” অবসানের দাবিতে অনশনকারীদের প্রতিক্রিয়ায় সরকারি মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফরাসি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড মাইগ্রেশন বিষয়ক দপ্তর (অফি)’র পরিচালক দিদিয়ের লেসচি মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, "নোটিশ ছাড়া আর কোনো স্থানান্তর কার্যক্রম করা হবে না।" অভিবাসীরা এখন থেকে বহিষ্কার সম্পর্কে জানবে এবং অভিযানের আগে তাদের ব্যক্তিগত প্রস্তুতি নিতে হবে। চূড়ান্ত স্থানান্তরের আগেও তাদেরকে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ইনফোমাইগ্রেন্টসের সাথে সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত কথা বলেছেন অফি’র পরিচালক দিদিয়ের লেসচি। 

ইনফোমাইগ্রেন্টস​​: নতুন এই জরুরি অভ্যর্থনা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কারণ কি?

দিদিয়ের লেসচি: এটি একটি সাবেক কারাখানার ভবন। কালেতে আগে থেকেই ভবনটি ছিল। এখন এটিকে ৩০০জন আশ্রয়প্রার্থী বা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের থাকার জন্য একটি অস্থায়ী অভ্যর্থনা কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গলে অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সরিয়ে নেওয়ার পর দিনের বেলায় তাদের এখানে নিয়ে আসবে। অভিবাসীদেরকে সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বহিষ্কারের আগের দিন এই স্থানান্তর সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক করা হবে।

ইনফোমাইগ্রেন্টস: এই কেন্দ্রে কিভাবে অভিবাসন প্রত্যাশীদের রাখা হবে?

দিদিয়ের লেসচি: কেন্দ্রে অভিবাসন প্রত্যাশীদের একটি স্থানীয় সংস্থার মাধ্যমে স্বাগত জানানো হবে। তাদের জন্য খাবার বিতরণ করা হবে এবং ঘুম ও বিশ্রামের জায়গা দেওয়া হবে। যেসব ব্যক্তি আশ্রয় আবেদন করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য সংস্থার লোকেরা আশ্রয় আবেদন অনুসরণ করার পদক্ষেপগুলি ব্যাখ্যা করবে। পরবর্তী দিন তাদেরকে অন্য কোন নির্দিষ্ট বাসস্থানে স্থানান্তরের জন্য বাস ভাড়া করা হবে।

ইনফোমাইগ্রেন্টস: অভিবাসন প্রত্যাশীদের এই কেন্দ্র থেকে ঠিক কোথায় নেওয়া হবে?

দিদিয়ের লেসচি: এটা বেশ বৈচিত্র্যময় হতে পারে। তাদেরকে বিভিন্ন বাড়িতে, কাদা (সিএডিএ) ও সিএইএস এর মতো সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রেও নিয়ে যাওয়া হতে পারে। তবে এটা ঠিক তারা মূলত হউ দ্যো ফ্রন্সঁ বিভাগের মধ্যেই বিভিন্ন কাঠামোতে নেয়া হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে অভিবাসীদের এই বিভাগের বাইরেও স্থানান্তর করা হতে পারে।

ইনফোমাইগ্রেন্টস: আশ্রয়কেন্দ্রটি কি ‘নির্দিষ্ট ট্রানজিট পয়েন্ট’ ধারণার সাথে লড়াইয়ের পরিপন্থী নয়? আপনি কি কালের ‘সঙ্গেত’ এলাকার মতো আবারো একটি নতুন পয়েন্ট তৈরি হওয়ার আশংকা করছেন না?

দিদিয়ের লেসচি:এই স্থাপনাটি মূলত একটি উত্তরণ স্থান। আমি এখন এই বিষয়টির উপর জোর দিচ্ছি যে, এখানে অস্থায়ীভাবে নির্বাসিতদের থাকার জায়গা তৈরি হয়েছে। এটি শুধুমাত্র অভিবাসীদের বিভিন্ন অস্থায়ী ক্যাম্প ও জঙ্গল থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রসঙ্গে ব্যবহার করা হবে। এই কাঠামোতে কেউ বসতি স্থাপন করতে পারবে না। এটি নিয়ন্ত্রিত থাকবে। জঙ্গলে আবারো নতুন "ক্যাম্প" গঠন প্রতিরোধ করার জন্য সব কিছু করা হবে।

ইনফোমাইগ্রেন্টস: কালে শহরের মেয়র নাতাশা বুশার এই কেন্দ্রের বিরোধিতাকে কিভাবে দেখেন?

দিদিয়ের লেসচি: শহরের মেয়র কার্যালয় আমার এই প্রক্রিয়ায় সাহায্য না করাটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তবে উক্ত কেন্দ্রটিতে এর আগেও প্রচণ্ড ঠান্ডা আবহাওয়ার সময় অভিবাসীদের রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন অভিবাসন সংস্থা অভেরজ দে মিগ্রঁ’র কর্মী পিয়ের। তিনি জানান, কেন্দ্রটি কালে শহরের একটি উঁচু এলাকায় রুই দে উত নামক সড়কে অবস্থিত। এটি মূল শহর থেকে অনেক দূরে এবং অস্থায়ী শিবির ও জঙ্গলের প্রায় অপর প্রান্তে অবস্থিত।

এমএইউ/এসএস

 

অন্যান্য প্রতিবেদন