যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মাঝে থাকা ইংলিশ চ্যানেল | ছবি: গুগল ম্যাপস
যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মাঝে থাকা ইংলিশ চ্যানেল | ছবি: গুগল ম্যাপস

ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পথে প্রাণ হারিয়েছেন দুই অভিবাসনপ্রত্যাশী। এই সপ্তাহে প্রায় চারশজন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

আবহাওয়া কিছুটা স্থিতিশীল হতেই ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মাঝে থাকা ইংলিশ চ্যানেলে তৎপরতা বাড়ছে। কিন্তু একই সাথে চলতি সপ্তাহে খবরে উঠে আসছে সাগরে নানা দুর্ঘটনার খবর।

ফরাসি নৌ-কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতির বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়ে বুধবার জানায়, "চারশরও বেশি মানুষকে আমরা উদ্ধার করেছি। যদিও আমাদের সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও একজনকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি আমরা। নিখোঁজ রয়েছেন আরেকজন।"

এই বিবৃতি প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের কালে শহরের ভিসান্ট সমুদ্রতটের কাছে একটি পরিত্যক্ত নৌকায় আরেক অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়।

কর্তৃপক্ষের মতে, সাগরের পানি স্থির থাকলেও নৌকায় ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ থাকার ফলে এমন দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এই সপ্তাহে আবহাওয়া ভালো থাকায় সাগরপথে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টায় নেমেছেন বহু অভিবাসনপ্রত্যাশী।

বারবার সাবধান করা সত্ত্বেও ইংলিশ চ্যানেলের ঝুঁকিপূর্ণ পথে রওয়ানা দেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা, যাদের মধ্যে অনেকে ফ্রান্সের উপকূলবর্তী অঞ্চলে বসবাস করে আসছেন বেশ কয়েক বছর ধরে, যাদের অভিবাসনের যাত্রার শেষ গন্তব্য যুক্তরাজ্য।

সীমান্তে ভিড়

২০২০ সালে, মোট নয় হাজার ৫০০জন অভিবাসনপ্রত্যাশী এই পথে রওয়ানা দেন। এই সংখ্যা ২০১৯ সালে ছিল দুই হাজার ৩০০ ও ২০১৮ সালে ছিল ছয়শর কাছাকাছি।

তবে ২০২১ সালে, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যাত্রা ছাড়িয়ে গেছে এর আগের সকল রেকর্ডকে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের মতে, এ বছর মোট ২৪ হাজার ৬৫৫জন এই পথে রওয়ানা দেন। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৭১৩জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন ফরাসি সীমান্তরক্ষীরা।

যুক্তরাজ্যের বার্তা সংস্থা পিএ'র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে ১৭ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী এই পথে প্রবেশ করেন সেখানে, যা ২০২০ সালের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।

কিন্তু এই পথে কড়া পাহারা থাকা সত্ত্বেও মৃত্যুর খবর অহরহ শোনা যাচ্ছে। কিছু দিন আগেও শিরোনামে উঠে আসে এক ইরিত্রিয়ান যুবকের মৃত্যুর কথা। গত বছর ইরাক থেকে আসা এক কুর্দি পরিবারের চার সদস্যের নিখোঁজ হবার খবর পাওয়া গিয়েছিল। কিছু মাস পর, সেই পরিবারের পচাগলা লাশ পাওয়া যায় নরওয়ের তীরে।

শুধু সাগরে মৃত্যুই নয়, ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পৌঁছাতেও নানা ধরনের বিপজ্জনক পথ ধরেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। এর মধ্যে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে ট্রেনের ছাদে চেপে সীমান্তে পৌঁছাতে গিয়ে ঘটা নানা দুর্ঘটনার প্রসঙ্গও।

এসএস/এসিবি (ডিপিএ, এএফপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন