১ নভেম্বর, ববিনি টাউন হলের সামনে শ্রমিক ইউনিয়ন সিজিটি এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের মধ্যে সমন্বয় বৈঠকের চিত্র। ছবিঃ ইনফোমাইগ্রেন্টস
১ নভেম্বর, ববিনি টাউন হলের সামনে শ্রমিক ইউনিয়ন সিজিটি এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের মধ্যে সমন্বয় বৈঠকের চিত্র। ছবিঃ ইনফোমাইগ্রেন্টস

ফ্রান্সে বর্জ্য সংগ্রহকারী সংস্থা সেপুরে অনথিভুক্ত কর্মীরা বৈধতার দাবিতে ১১ অক্টোবর থেকে ধর্মঘট করছেন। নিয়মিতকরণের পাশাপাশি তাদের দাবি শ্রমকিদের উপর যেন বঞ্চনার অবসানন্টে। শ্রমিকদের মধ্যে অনেকেই বলছেন, তারা তাদের ডিপো ম্যানেজারদের চাঁদাবাজির শিকার। এ ব্যাপারে তারা অভিযোগ দায়ের করার পরিকল্পনা করছেন।

১১ অক্টোবর সোমবার থেকে সেপুর কোম্পানির বর্জ্য সংগ্রহ অনথিভুক্ত শ্রমিকরা নিয়মিতকরণের দাবিতে ধর্মঘট কতরে আসছে। তাদের মধ্যে অনেকের লড়াইয়ের বৈধতার দাবি ছাড়াও আরও অনেক কারণ রয়েছে।

সেপুরে কর্মরত শ্রমিক নেদজিফ, বারাদজি, মাল্লে এবং মোহাম্মেদ প্রত্যেকের অভিযোগের মধ্যে বেশ মিল রয়েছে। এসব শ্রমিকরা আবর্জনা সংগ্রহ করে এবং ডাস্টবিন খালির কাজ করেন। তারা অভিযোগ করেছেন, চাকরি টিকিয়ে রাখতে অনথিভুক্ত শ্রমিকদের বেতনের কিছু অংশ তাদের ডিপো ম্যানেজারদের দিতে বাধ্য করা হয়েছে। একই ধরণের হয়রানির শিকার অন্যান্য কর্মচারীদের সাথে মিলে তারা একটি অভিযোগ দায়ের রবেন বলে জানিয়েছেন ইনফোমাইগ্রেন্টসকে।

ইল-দ্য-ফ্রন্সঁ বিভাগের এসোন (৯১) ডিপার্টমেন্টের অন্তর্গত ভিলযুস্তের একটি ডিপোতে কর্মরত নেদজিফ, বারাদজি এবং মালে অন্তত দুইজন ম্যানেজারের হাতে সুসংগঠিত চাঁদাবাজির ঘটনা বর্ণনা করেছেন।

২০১৯ সালের মার্চ থেকে সেপুরে নিযুক্ত নেদজিফ ঘটে যাওয়া মুহূর্তের কথা মনে রেখেছেন। গত বছরের জুনে ম্যানেজারদের একজন তাকে জানান, “আমি যদি কাজ চালিয়ে যেতে চান তবে তাকে তাকে আমার বেতনের ১০% দিতে হবে। অপরদিকে প্রস্তাবে রাজী না হলে তিনি আমাকে দিয়ে অতিরিক্ত ঘন্টা কাজ করানোর হুমকি দিয়েছিলেন।" 

"আমি কাজ করতে পারতাম কিন্তু অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে"

২০২১ সালের গোড়ার দিকে অনথিভুক্ত শ্রমিক মাল্লেকে নিয়োগের সাথে সাথেই এই প্রক্রিয়ার অধীনস্থ করা হয়েছিল। এই ৩০ বছর বয়সি মালিয়ানকে দেখে মনে হবে তার প্রকৃত বয়স বিশ বছরেরও কম।

তিনি জানান, যেদিন তিনি ভিলেজুস্তের ডিপোতে নিবন্ধন করেছিলেন, সেদিন থেকেই ম্যানেজাররা জানতেন তিনি যেই পরিচয়পত্র উপস্থাপন করেছিলেন সেটি তার ছিল না। এটি বুঝতে পেরে তাদের একজন আমাকে বলেন, বৈধ কাগজ না থাকলেও আমি কাজ করতে পারব তার শর্তে আমাকে আমার বেতনের ১০% তাকে দিতে হবে।

বর্জ্য সংগ্রহকারীদের মাসিক বেতন কাজের ঘন্টার উপর নির্ভরে করে গড়ে মাসে প্রায় ১,৫০০ ইউরো। কিন্তু নেদজিফ ও আরো অনেক শ্রমিককে সাধারণত ১৫০ থেকে ২০০ ইউরো তাদের ম্যানেজারদের কাছে পাঠাতে হয়। অনেক কর্মকর্তারা এর চেয়েও বেশি দাবি করতে দ্বিধা করেন না।

সেপুরে কর্মরত অন্যত শ্রমিক মোহাম্মেদ বলেন, "২০২০ সালের ডিসেম্বরে, একজন ম্যানেজার আমাকে বলেছিলেন যে তিনি জানতেন যে এটি আমার কাগজপত্র নয়। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে আমি যদি কাজ চালিয়ে যেতে চাই তবে আমাকে তাকে প্রতি মাসের বেতন থেকে ৪০০ ইউরো দিতে হবে।" তিনি দুই বছর ধরে সেইন-এ-মার্ন ডিপার্টমেন্টে অবস্থিত সেপুরের ভিলপারিসিস ডিপোতে কাজ করছেন।

"কখনও কখনও আমার হাতে মাত্র ১০০ ইউরো বাকি থাকে"

মোহাম্মেদ অবশ্য ১ নভেম্বর সোমবার, পর্যন্ত ধর্মঘটে যোগ দেননি। ববিনি টাউন হলের সামনে স্থাপিত ধর্মঘট স্থলে আসার আগ পর্যন্ত তিনি জানতেন না যে গোপনে তিনি সহ অনেক কর্মীর বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করা হচ্ছে। তবে এই অন্যায়ের শিকার যে একমাত্র তিনি নন সেটি জেনে তিনি স্বস্তি পেয়েছেন।

তিনি মনে করেন আন্দোলন ও সম্মিলিত অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে তিনি তার ম্যানেজারের কবল থেকে মুক্তি পাবেন। অন্যদের থেকে একটু দূরে সরে যুবকটি প্রায় নিচু গলায় তার কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, "আমি ম্যানেজারকে বেতন থেকে ৪০০ ইউরো দিই, রুম ভাড়া বাবদ দিতে প্রতি মাসে ১৫০ ইউরো। পাশাপাশি আমাকে দেশেও টাকা পাঠাতে হয় পরিবারের কাছে। কখনও কখনও আমার কাছে নিজের জন্য মাত্র ১০০ ইউরো বাকি থাকে।"

নেদজিফ, বারাদজি, মাল্লে সবাই অভিযোগ দায়ের করে খুব অনুপ্রাণিত হলেও তারা জানেন প্রমাণের অভাবে তাদের এই মামলায় জিততে বেশ মুশকিল হবে।

বারাদজি বলেন, ডিপো প্রধানরা সাধারনত এসব লেনদেনের কোন প্রকার প্রমাণ রাখেন না। তারা সকল লেনদেন ব্যক্তিগতভাবে নগদ অর্থের বিনিময়ে করে থাকেন । ম্যানেজার যখন আমার কাছে টাকা চাইতে আসে, তখন সে চায় না আমার কাছে ফোন রাখি। তারা সন্দেহ করত যে, আমি ভিডিও বা রেকর্ড করব।" 

নেদজিফ ব্যাখ্যা করেন, “আমি ইতিমধ্যেই ম্যানেজারের কাছ থেকে ফোনে ম্যাসেজপেয়েছি। কিন্তু তারা কখনই ম্যাসেজে টাকার কথা স্পষ্টভাবে লিখেন না । সাধারণত আমরা মাসের ১২ তারিখে বেতন পাই, সে হিসেবে ১২ বা ১৩ তারিখ সন্ধ্যায় ম্যানেজার আমাকে ম্যাসজ পাঠিয়ে টাকা দেয়ার কথা মনে করিয়ে দেন।”

মালে তার ফোনে এই বার্তাগুলির একটি রেখেছিলেন। তবে অক্টোবরে বেশ কয়েকদিন শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তিনি ডিপোতে যেতে পারেননি।

মাল্লেকে ডিপো ম্যানেজারের পাঠানো মুঠোফোন  বার্তা। ছবিঃ ডিআর
মাল্লেকে ডিপো ম্যানেজারের পাঠানো মুঠোফোন বার্তা। ছবিঃ ডিআর


সেপুর ২৭ অক্টোবর দেয়া এক বিবৃতিতে এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছ। কোম্পানিটি এই বিষয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে বলে দাবি করেছে এবং আশ্বাস দিয়েছে, "এই অসহনীয় অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয় এর বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে।"

ববিনি টাউন হলের সামনে আন্দোলনরতরা এসব অপব্যবহার এবং অন্যায় ব্যবস্থার অবসান ঘটবে বলে আশা করছেন।



এমএইউ/এসএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন