সি-আই ফোর জাহাজ। ছবি: হেরমিন পশমান, জেনোটট্রেনুং
সি-আই ফোর জাহাজ। ছবি: হেরমিন পশমান, জেনোটট্রেনুং

ভূমধ্যসাগরে বহু দিন ধরে আটকে থাকার পর অবশেষে ইটালির তীরে নোঙর ফেলার অনুমতি পেলো জার্মান উদ্ধারকারী জাহাজ সি-আই ফোর।

জার্মান উদ্ধারকারী জাহাজ সি-আই ফোর ৮০০জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করে।

রোববারে ইটালির সিসিলি অঞ্চলের ত্রাপানি বন্দরে এই জাহাজটি নোঙর করার আগে বেশ কিছুদিন ধরে ছিল ইটালিয়ান কর্তৃপক্ষের অনুমতির অপেক্ষায়। অনুমতি পাবার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই, মিশন লাইফলাইন সংস্থার 'রাইজ এবাভ' নামের জাহাজ এসে সি-আই ফোরকে জরুরি ওষুধ, খাবার ও কম্বল দিয়ে যায়।

সি-আই ফোর জাহাজে এছাড়াও রয়েছেন পাঁচজন গর্ভবতী নারী ও ১০ বছরের কম বয়েসি বহু শিশু।

বার্তা সংস্থা আনসা জানিয়েছে যে জাহাজটিতে মোট ৮৪৭জন অভিবাসনপ্রত্যাশী রয়েছেন। আনসার মতে রয়েছে ১৭০জন অপ্রাপ্তবয়স্ক ও ৫৩জন নারী, যাদের মধ্যে দুজন গর্ভবতী।

সি-আই ফোরের পক্ষে গর্ডেন ইসলার বলেন, "আমরা নিশ্চিন্ত ও অত্যন্ত আনন্দিত যে অবশেষে সবাই ইটালিতে নিরাপদে থাকবে। আমাদের কর্মীরা অমানুষিক পরিশ্রম করছেন।"

নোঙর করা নিয়ে অনিশ্চয়তা

সি-আই ফোর জাহাজটিতে বৃহস্পতিবারেই ছিলেন ৪০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী। কিন্তু আরেকটি বিপন্ন ডিঙির খোঁজ পেয়ে তারা সেখান থেকেও আরো ৪০০ জনকে উদ্ধার করেন। জাহাজাটি দ্রুত না পৌছলে কাঠের ডিঙিতে পানি ভরে উল্টে যাবার আশঙ্কা ছিল।

প্রথমে জাহাজটি ইটালিয়ান দ্বীপ লাম্পেদুসায় নামতে চাইলে সেই অনুমতি মেলেনি। একই সময়ে, মাল্টা কর্তৃপক্ষও তাদের ডাকে কোনো সাড়া দেয়নি।

অবশেষে, আবহাওয়া খারাপ হতে থাকায় সিসিলির দিকে রওয়ানা দেয় সি-আই ফোর, জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএ-কে জানান ইসলার।

নিরাপত্তার অপেক্ষায় শতাধিক

সি-আই ফোর ছাড়াও, ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিরাপত্তা দিতে কর্মরত রয়েছে এসওএস মেডিতেরানে সংস্থার জাহাজ ওশান ভাইকিং। বর্তমানে এই জাহাজটিতে রয়েছেন ৩১৪ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী।

এই জাহাজটিও অপেক্ষায় রয়েছে নোঙর ফেলবার অনুমতির। ওশান ভাইকিং ইটালিতে নোঙর করলে এই সপ্তাহে ইটালিতে এসে পৌঁছানো অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা এক হাজার ১০০ ছাড়িয়ে যাবে।

ভূমধ্যসাগর হয়ে আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের কেন্দ্র এই দেশটি। ইটালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, এখন পর্যন্ত, ইটালিতে এসে পৌঁছেছেন ৫৫ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী, যা গত বছর ছিল ৩০ হাজারের কাছাকাছি।

এসএস/কেএম (ডিপিএ, আনসা, এএফপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন