প্যারিসের উত্তরে পন্তায় অবস্থিত এমএসএফ ও কমেডের সেবাকেন্দ্রে কিশোর ও তরুনেরা। ছবিঃ এমএসএফ
প্যারিসের উত্তরে পন্তায় অবস্থিত এমএসএফ ও কমেডের সেবাকেন্দ্রে কিশোর ও তরুনেরা। ছবিঃ এমএসএফ

ফ্রান্সে নাবালক স্বীকৃতি পাওয়ার আপিল আবেদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষারত বিদেশি অভিভাবকহীন নাবালকদের মধ্যে বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, ঘুমের ব্যাঘাত, আত্মহত্যার চিন্তাসহ বিভিন্ন মানসিক রোগ বাড়ছে। সম্প্রতি ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস এবং কমেডের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) এবং শরণার্থীদের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কাজ করা সংস্থা কমেড’র মঙ্গলবার প্রকাশিত যৌথ প্রতিবেদনে সঙ্গীহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর যথাসময়ে "অভ্যর্থনা" না পাওয়ার প্রভাবগুলি তুলে ধরা হয়েছে।

যেসকল কিশোরের নাবালক স্বীকৃতির আবেদন আদালতে আপিল অবস্থায় আছে তাদের কোনো দায়িত্ব ফরাসি সরকারের সামাজিক সহায়তা দপ্তর (এসএসই) নেয় না। ফলে তাদের মাথা গোঁজার ঠাই থাকে না।

ফরাসি প্রশাসনিক ডিপার্টমেন্ট থেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসাবে বিবেচিত হতে করা কিশোরদের আপিল আবেদনের সময় দুই থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এ সময় কোনো প্রকার আবাসন, আর্থিক সংস্থান এবং সামাজিক সমর্থন ছাড়াই অনেক কিশোরকে রাস্তায় থাকতে হয়। 

প্যারিসের উত্তরে পন্তা অঞ্চলে ২০১৭ সালের শেষের দিকে খোলা একটি সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে এমএসএফ এবং কমেড কিশোরদেরদের জন্য মানসিক সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে। গত চার বছরে তারা ৫,৪৬২ জন কিশোরকে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করেছে বলে জানিয়েছে প্রতিবেদনে। এতে সামগ্রিকভাবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অভ্যর্থনার কঠিন শর্তাবলীর কারণে তাদের মধ্যে থাকা বিদ্যমান মানসিক রোগ আরও তীব্রতর হয়েছে বলে বলা হয়েছে। 

২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ৩৯৫ জন কিশোর ও তরুণকে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই আফ্রিকান। কঠিন ও বিশৃঙ্খল পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে আসার পরে তারা এমএসএফ ও কমেডের এই কেন্দ্রে স্বাস্থ্য ও মানসিক সেবা নিয়েছিলেন। অভিবাসন রুটে প্রিয়জনের হারানো, শারীরিক নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, অপহরণ, অপমানের শিকার হয়ে আসা এসব কিশোরদের মানসিক অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

প্রতিবেদন তৈরি করা সংস্থা দুটোর মতে, স্বাস্থ্যসেবা পেতে এসব তরুণেরা অনেক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়ে থাকেন। আইনগত অভিভাবকের অনুপস্থিতি্র ফলে তাদের বিভিন্ন সেবা পেতে বেগ পেতে হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, "তারা কোথায় যাবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই পরিষেবাগুলি তাদের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করা সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।"

ফরাসি ভাষা তাদের সমাজে সংহত হতে আরো একটি বাধা। সঙ্গীহীন অপ্রাপ্তবয়স্করা সবসময় ফরাসি ভাষায় কথা বলতে পারে না এবং পেশাদার দোভাষী সহজে পাওয়া যায় না। উপরন্তু, মনস্তাত্ত্বিক সেবা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার সময়গুলি তাদের ব্যাধিগুলিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। 

এমএসএফ এবং কমেড ১২ থেকে ২৫ বছর বয়সি তরুণদের জন্য বিশেষ সেবাকেন্দ্র তৈরি করার সুপারিশ করেছে। সেখানে প্রশাসনিক অবস্থার সাপেক্ষে তরুণদের বিবেচনা করা হবে না এবং সার্বিক সেবা প্রদান করা হবে। এছাড়া সেখানে চিকিৎসা এবং সামাজিক চাহিদা পূরণের উপায় হিসেবে আবাসন, খাদ্য বা প্রশাসনিক কাজে সহায়তার সুবিধা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। 

অভিবাসন সংস্থাগুলোর মতে, শিশুদের অধিকারের উপর যেন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে প্রাধান্য দেয়া না হয়।"



এমএইউ/এআই


 

অন্যান্য প্রতিবেদন