ফাইল ফটো: পোলিশ-বেলারুশিয়ান সীমান্তে অভিবাসীদের ঘিরে  রেখেছে একদল সীমান্তরক্ষী | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স
ফাইল ফটো: পোলিশ-বেলারুশিয়ান সীমান্তে অভিবাসীদের ঘিরে রেখেছে একদল সীমান্তরক্ষী | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স

পোল্যান্ড এবং বেলারুশের মধ্যকার সীমান্তে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির মাঝেই সেখানে একটি বাসে করে গরম কাপড়সহ জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠিয়েছেন জার্মান অ্যাক্টিভিস্টরা৷ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সেখানে আটকে আছেন অনেক মানুষ৷

পোলিশ-বেলারুশ সীমান্তে মঙ্গলবার গরম পোশাক, মোজা, কম্বল এবং হেড লাইট ভর্তি একটি বাস পৌঁছেছে৷ একদিন আগে বাসটি বার্লিন ছেড়েছিল৷  

‘মাওয়ারফালইয়েৎস’ নামের একটি জার্মান জোট সীমান্তে ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর এই উদ্যোগ নিয়েছে৷ জোটটির অ্যাক্টিভিস্টরা জানিয়েছেন যে পোলিশ-বেলারুশিয়ান সীমান্তে ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি বাসে করে ৫০ জন অভিবাসী এবং শরণার্থীকে জার্মানিতে নিয়ে আসার প্রস্তাবও দেওয়া হবে৷ 


‘‘বার্লিন দেয়ালের পতনের বার্ষিকীতে ইউরোপে আরেকটি দেয়াল মেনে নিতে পারি না আমরা,’’ ইনফোমাইগ্রেন্টসকে বলেন বাসটিতে অবস্থানরত আয়োজক রুবেন নয়গেবাওয়ার৷ 

‘‘আমরা চাই (জার্মানির) নতুন সরকার এই বার্তাটি পরিষ্কারভাবে দিক যে মানবাধিকার লঙ্ঘন সহ্য করা হবে না৷ তাছাড়া আমরা পোলিশ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদেরও সীমান্তে একা ফেলে রাখতে পারি না৷ তারা এই পরিস্থিতিতে নিজেদের মাধ্যমতো অনেক কিছু করছেন,’’ বলেন তিনি৷ 

গত সেপ্টেম্বরে জার্মানির জাতীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সরকার গঠনের পথে আলোচনায় রয়েছে দেশটির মধ্যবামপন্থি জোট৷ 

আশ্রয়প্রার্থী অভিবাসীদের জার্মানিতে নিয়ে আসতে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন অ্যাক্টিভিস্টরা৷ গত বৃহষ্পতিবার এসংক্রান্ত অনুমতি পাওয়ার একটি আবেদন করেছেন তারা৷ তবে সেই আবেদনের কোনো উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি৷ 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র শুক্রবার জানিয়েছেন যে ‘‘অনুমোদনহীন পরিবহন এবং জার্মানিতে সম্ভাব্য অনুমোদনহীন প্রবেশ’’ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হতে পারে৷ 

নয়গেবাওয়ার অবশ্য নিশ্চিত করেছেন, সরকারের অনুমতি না পাওয়া অবধি তারা কাউকে কোথাও নিয়ে যাবেন না৷ 

মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা অভিবাসীরা পোল্যান্ড-বেলারুশ সীমান্ত জড়ো হচ্ছেন | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স
মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা অভিবাসীরা পোল্যান্ড-বেলারুশ সীমান্ত জড়ো হচ্ছেন | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স


স্যেব্রুকে ডয়েচল্যান্ড, #লিভনোওয়ানবিহাউন্ড, কাডুস, ভিয়ার প্যাকেন’স আন এবং স্যলিবুস এ. ভে. সংগঠনগুলো মাওয়ারফালইয়েৎস প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে৷

স্যেব্রুকে জার্মানির একটি রাজনৈতিক আন্দোলন যেটি নিজ দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হওয়া প্রত্যেক মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে৷ আর #লিভনোওয়ানবিহাউন্ড একটি অনলাইন প্রচারণা যেটি গত বছর শুরু হয়েছিল এবং বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্তে অভিবাসী ও শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোকে সমর্থন দেয়৷  

পোলিশ-বেলারুশ সীমান্তে সহায়তা নিয়ে যাওয়া বাসটিতে দশজন অ্যাক্টিভিস্ট রয়েছেন৷ কয়েকমাস আগে ইইউ বেলারুশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সীমান্ত খুলে দেয় দেশটি৷ ফলে মিনস্ক হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের, বিশেষ করে ইরাকের, হাজার হাজার অভিবাসী ইইউতে প্রবেশের চেষ্টা শুরু করে৷

ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন অভিবাসী পোলিশ-বেলারুশ সীমান্তে মারা গেছেন৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পোল্যান্ড সীমান্তে জরুরী অবস্থা জারি করে সেখানে সেনা সংখ্যা বাড়িয়েছে৷ 

এআই/কেএম (ডিপিএ) 

 

অন্যান্য প্রতিবেদন