অভিবাসীদের নিয়ে প্রায়ই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে গ্রিস ও তুরস্ক.| ছবি: রয়টার্স
অভিবাসীদের নিয়ে প্রায়ই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে গ্রিস ও তুরস্ক.| ছবি: রয়টার্স

তুরস্কের উপকূলরক্ষীরা অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা গ্রিক জলসীমায় ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছে গ্রিস৷ এধরনের চর্চা বন্ধে আঙ্কারার উপর চাপ দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এথেন্স৷

গ্রিক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে তুর্কি সীমান্তরক্ষীরা একটি নৌকা গ্রিক জলসীমায় ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করেছেন৷ তুর্কি সরকার ‘একটি দস্যু রাষ্ট্রের মতো’ আচরণ করেছে বলেও দাবি গ্রিসের৷  

গ্রিক সীমান্তরক্ষীরা মঙ্গলবার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন যেখানে দুই তুর্কি টহল জাহাজকে অভিবাসীভর্তি একটি রাবারের ডিঙ্গির কাছে দেখা গেছে৷ এক মিনিটের ভিডিওতে তুর্কি জাহাজগুলোকে নৌকাটির সামনে মোড় নিতে দেখা যায়৷ এরপর জাহাজ দুটি এবং অভিবাসীদের নৌকাটি পেছনের দিকে ফিরে তুর্কি উপকূলের দিকে চলে যায় বলে গ্রিক সীমান্তরক্ষীরা জানিয়েছেন৷ 

  

গ্রিক উপকূলরক্ষীরা এক অনলাইন বিবৃতিতে দাবি করেছে, তুর্কি উপকূলরক্ষীরা অভিবাসী বহনকারী নৌকাটিকে লেসবস দ্বীপের কাছাকাছি নিয়ে এসেছিলেন৷ কিন্তু গ্রিক উপকূলরক্ষীরা নৌকাটিকে গ্রিক জলসীমায় ঢুকতে বাধা দিলে এক পর্যায়ে তুর্কি উপকূলরক্ষীরা অভিবাসীদের দায়িত্ব নেন৷  

গ্রিসের সমুদ্রবিষয়ক মন্ত্রী জিয়ানিস প্লাকোতাইকিস এই বিষয়ে বলেন, ‘‘এজিয়েন সিতে আবারো ‘দস্যু রাষ্ট্রের’ মতো আচরণ করেছে তুরস্ক, যা দেশটির সঙ্গে ইইউর সমঝোতার বরখেলাপ৷ আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা মেনে চলতে তুরস্কের উপর ইইউর আরো অনেক চাপ দেয়া উচিত৷’’ 

পাচারকারীদের ব্যাপারে উদাসীন তুরস্ক

অনিয়মিত পথে অভিবাসীদের ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম কেন্দ্র গ্রিস৷ যুদ্ধ এবং দরিদ্রতা থেকে বাঁচতে প্রতি বছর মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার হাজার হাজার মানুষ তুরস্ক হয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন৷ ২০১৬ সালে ইইউর সাথে এক চুক্তির আওতায় ইউরোপমুখী অভিবাসীদের ঢল ঠেকাতে সম্মত হয় আঙ্কারা৷ 

চলতি বছর এখন অবধি এজিয়েন সাগর পাড়ি দিয়ে তিন হাজার ৩০২ জন অভিবাসী তুরস্ক থেকে গ্রিসে পৌঁছেছেন৷ গ্রিক সরকার দাবি করে আসছে যে মানবপাচাররোধে তুরস্ক পর্যাপ্ত উদ্যোগ নিচ্ছে না৷  

গত বছরের মার্চে যখন আঙ্কারা জানায় যে তুরস্কের পক্ষে আর অভিবাসীদের চাপ সহ্য করা সম্ভব নয় তখন দুই দেশের মধ্যকার স্থল সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়৷ সেসময় ইইউমুখী অভিবাসীদের গ্রিক সীমান্ত অবধি যাওয়ার সুযোগ দেয় তুরস্ক৷ জবাবে সীমান্তে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করে গ্রিস এবং কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে অভিবাসীদের গ্রিক ভূখণ্ডে প্রবেশে বাধা দেয়৷  

আঙ্কারা তখন দাবি করে যে অভিবাসীদের কোনোরকম আশ্রয়ের আবেদন করার সুযোগ না দিয়েই গ্রিস তাদের জোর করে ফেরত পাঠাচ্ছে৷  

পুশব্যাক করায় গ্রিসের সমালোচনা 

অভিবাসীদের সঙ্গে গ্রিস কী ধরনের আচরণ করছে তা তদন্তের জন্য একটি দলসহ জার্মানির সংসদ সদস্য কর্নেলিয়া এর্নস্টের গ্রিক দ্বীপ সামোস সফরের পাঁচদিন পর আলোচিত ভিডিওটি জনসমক্ষে প্রকাশ করলো গ্রিক কর্তৃপক্ষ৷  

এর্নস্ট জানিয়েছে যে তার দল পাঁচ সোমালী অভিবাসীর সন্ধান পেয়েছিল যারা আগের রাতে দ্বীপটিতে পৌঁছানোর পর লুকিয়ে ছিলেন৷ তাদের গ্রিক পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে দলটি৷ 


টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘‘তাদের খুঁজে পেয়ে এবং গ্রিক পুলিশের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে আমার কাছে যে বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছিল তা হচ্ছে একটি সম্ভাব্য পুশব্যাক ঠেকানো গেছে৷’’

‘‘আমি সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণসহ লিপিবদ্ধ বেশ কয়েকটি পুশব্যাকের ঘটনা পড়েছি যা থেকে আমার এই বিশ্বাস জন্মেছে যে আমরা ওখানে না থাকলে তারা আশ্রয়ের আবেদনের সুযোগ পেতো না,’’ যোগ করেন তিনি৷ 

গত অক্টোবর মাসে ইউরোপের একাধিক সংবাদপত্রে গ্রিক কর্তৃপক্ষের আশ্রয়প্রার্থীদেরকে সহিংস পুশব্যাক, অর্থাৎ জোর করে সীমান্তের বাইরে ঠেলে দেয়ার, একাধিক ঘটনার তথ্যপ্রমাণ প্রকাশিত হয়৷ তখন প্রতিক্রিয়া বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন গ্রিক অভিবাসন মন্ত্রী ন্যতিশ মিতারাখি৷

গ্রিক সীমান্তরক্ষীরা সহিংস এবং অবৈধ পথে শরণার্থী ও অভিবাসীদের আটক করছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো৷ অভিবাসীদের বিপজ্জনকভাবে পুনরায় তুরস্কে ফেরত পাঠানো হচ্ছে বলেও দাবি সংস্থাগুলোর৷  

তবে, গ্রিক সরকার এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে৷ দেশটির উপকূলরক্ষীদের কাছে মানুষের জীবন বাঁচানোর বিষয়টি প্রাধান্য পায় বলেও দাবি ইউরোপের এই দেশটির৷ 

এআই/কেএম (এপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন