রাজধানী নিকোসিয়ার একটি কেন্দ্রে আশ্রয় প্রার্থীদের একাংশ। ছবিঃ রয়টার্স
রাজধানী নিকোসিয়ার একটি কেন্দ্রে আশ্রয় প্রার্থীদের একাংশ। ছবিঃ রয়টার্স

"অবৈধভাবে প্রবেশ করা" অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদন আটকাতে ইউরোপীয় কমিশনের কাছে আবেদন করবে সাইপ্রাস। এই দ্বীপ রাষ্ট্রের মতে, অভিবাসীদের আগমনে তারা শঙ্কিত, কারণ সামগ্রিকভাবে ২০২০ সালের তুলনায় নতুন আসা অভিবাসীর সংখ্যা ৩৮ শতাংশ বেড়েছে।

সাইপ্রাস সরকার দেশটিতে আসা অভিবাসীদের আগমন সীমিত করতে চাইছে। প্রেসিডেন্ট নিকোস আনাস্তাসিয়াদেস বুধবার (১০ নভেম্বর) অবৈধ অভিবাসন বৃদ্ধি মোকাবেলায় ব্যবস্থা নিতে তার মন্ত্রীদের সাথে একটি জরুরি বৈঠক করেছেন।

সরকারের মুখপাত্র মারিওস পেলেকানোস বলেছেন, "সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্রকে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশকারী লোকদের থেকে আশ্রয়ের আবেদন স্থগিত করার অধিকার দেওয়ার জন্য ইউরোপীয় কমিশনের কাছে আবেদন করা হবে।"

সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষের মতে, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ১০,৮৬৮ জন আশ্রয়প্রার্থী দেশটিতে এসেছেন। যদিও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএমের তথ্য অনুসারে ৮,৮৭০ জন এ সময়ে সাইপ্রাসে প্রবেশ করেছেন। এই সংখ্যাটি ২০২০ সালের তুলনায় প্রায় ৩৮% বৃদ্ধির হার নির্দেশ করে। অবশ্য গত বছর করোনভাইরাস অতিমারিজনিত কারণে অনেক দেশে নতুন অভিবাসন প্রত্যাশী এবং আশ্রয়প্রার্থীদের আগমন হ্রাস পেয়েছিল। তবে আইওএমের তথ্য অনুসারে ২০১৯ সালে, ৭,৮২১ জন অভিবাসী দ্বীপে অবতরণ করেছিল।

সরকারের মুখপাত্র বলেছেন, এই বছরের আগমন সাইপ্রাসে নতুন করে অবৈধভাবে বসবাসকারী ৩৩,০০০জনেরও বেশি লোককে যুক্ত করেছে। 

"নগর এলাকায় অভিবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধি"

মারিওস পেলেকানোসের মতে, দ্বীপটি "অভিবাসী সংকট" এর কারণে "তীব্র আর্থ-সামাজিক প্রভাব" সহ "জনসংখ্যাগত পরিবর্তনজনীত" সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ "শহুরে এলাকায় অভিবাসীকরণ" নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন, কিন্ডারগার্টেনে অভিবাসী ছাত্রদের সংখ্যা "৩০% ছাড়িয়েছে" এবং "প্রাথমিক শিক্ষায় ১৬% পৌঁছেছে"।

ইতিমধ্যেই ২০২০ সালের জুন মাসে, সাইপ্রাস সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেশটিতে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় অভিবাসন নীতি কঠোর করেছে। নিকোসিয়া শহর কর্তৃপক্ষ আশ্রয় আবেদনের মামলাগুলির প্রক্রিয়াকরণের সময় প্রায় তিন থেকে পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে সর্বোচ্চ ৫০ দিন করেছে।

কর্তৃপক্ষ আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মিশর, নাইজেরিয়া, বসনিয়া, ফিলিপাইনস এবং ভিয়েতনামসহ নিরাপদ দেশ বলে বিবেচিত ২১টি দেশের নাগরিকদের দ্বারা দায়ের করা অনুরোধগুলি অবিলম্বে "অযৌক্তিক" হিসাবে বিবেচিত হবে এবং প্রত্যাখ্যান করা হবে। যদি না আবেদনকারীরা প্রমাণ করতে পারেন যে তারা যদি মূল দেশে ফিরে আসেন তবে তাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বুধবার সরকারি মুখপাত্র বলেছেন, এই নতুন পদ্ধতির পর থেকে ৫,৬৭১টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে।


রাজধানী নিকোসিয়া তে তুর্কি সাইপ্রাস ও ইউরোপীয় সাইপ্রাস'কে পার্থ্ক্যকারী সবুজ লাইন। ছবিঃ ইনফোমাইগ্রেন্টস
রাজধানী নিকোসিয়া তে তুর্কি সাইপ্রাস ও ইউরোপীয় সাইপ্রাস'কে পার্থ্ক্যকারী সবুজ লাইন। ছবিঃ ইনফোমাইগ্রেন্টস


সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্বারা স্বীকৃত একটি দ্বীপরাষ্ট্র। তবে তারা মূলত দ্বীপের দক্ষিণ অংশে তার কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে থাকে। গ্রিসের সাথে সাইপ্রাসের একটি ইউনিয়নের সমর্থকদের অভ্যুত্থানের প্রতিক্রিয়ায় তুর্কি সেনা অভিযানের পরে ১৯৭৪ সাল থেকে দ্বীপটির উত্তর অংশ তুরস্কের দখলে রয়েছে।

সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্র তুরস্কের বিরুদ্ধে অভিবাসীদের দক্ষিণে গ্রিক-সাইপ্রিয়ট এবং উত্তরে তুর্কি-সাইপ্রিয়টকে পৃথক করে থাকা ১৮০ কিলোমিটার সীমানা রেখা অতিক্রম করার অনুমতি দিয়ে অভিবাসীদের রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ করে আসছে। মারিওস পেলেকানোস নিশ্চিত করেছেন, এ বছর আসা অভিবাসীদের বেশিরভাগই দুই সাইপ্রাসের মাঝখানে থাকা গ্রিন লাইন অতিক্রম করে এসেছে।


এমএইউ/এসএস



 

অন্যান্য প্রতিবেদন