ব্রুজগিতে একটি গুদামের মতো ভবনে অভিবাসীদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে | ছবি: ইমেগো ইমেজেস
ব্রুজগিতে একটি গুদামের মতো ভবনে অভিবাসীদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে | ছবি: ইমেগো ইমেজেস

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বহিঃসীমান্তে প্রচণ্ড ঠাণ্ডার মধ্যে কোনোরকমে টিকে থাকা কয়েকশ অভিবাসীকে কিছুটা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে বেলারুশ কর্তৃপক্ষ৷ তবে এখনো অনেকে ইইউতে প্রবেশের আশায় সীমান্তে রয়ে গেছেন৷

ইইউ বহিঃসীমান্ত হিসেবে পরিচিত পোল্যান্ড-বেলারুশ সীমান্তে অভিবাসী ও সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে হাতাহাতির একদিন পর বুধবার অভিবাসীদের সীমান্তবর্তী এক শহরের একটি গুদামঘরে সরিয়ে নেয়া হলো৷ অভিবাসীরা সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে পোল্যান্ডে প্রবেশ করতে চাইলে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী তাদের বাধা দেয়৷ এসময় অভিবাসীদের উপর কাঁদানে গ্যাস ও পানি ছোঁড়া হয়৷ হাতাহাতির ঘটনায় অন্তত ১২ ব্যক্তি আহত হন৷ 

সীমান্তে এই উত্তেজনার জন্য বেলারুশের বাহিনীকে দোষারোপ করেছে ওয়ারশ৷ তবে, মিনস্কের দাবি, এজন্য পোল্যান্ডের ‘‘সহিংস পদক্ষেপ’’ দায়ী৷   

মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা এই অভিবাসীরা ৮ নভেম্বর থেকে পোল্যান্ড-বেলারুশ সীমান্তে আটকে আছেন৷ তাদের অধিকাংশই যুদ্ধবিগ্রহ এড়াতে নিজ নিজ দেশ থেকে পালিয়েছেন এবং জার্মানি বা অন্য কোনো পশ্চিম ইউরোপের দেশে আশ্রয় পেতে চাচ্ছেন৷ 

ইইউ সীমান্তে এক অভিবাসীর দিকে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ছে পোলিশ নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স
ইইউ সীমান্তে এক অভিবাসীর দিকে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ছে পোলিশ নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স

 

পশ্চিমের দাবি, বেলারুশের স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর উপর ইইউর নিষেধাজ্ঞার জবাবে অভিবাসীদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো৷ বেলারুশ অবশ্য এই সংকটের সূত্রপাত ঘটায়নি বলে দাবি করেছে। যদিও গত গ্রীষ্মে, দেশটির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে সেদেশ হয়ে হাজার হাজার অভিবাসী ইইউভুক্ত রাষ্ট্র পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া এবং লাটভিয়াতে প্রবেশের চেষ্টা শুরু করেন৷  

পোল্যান্ডের সীমান্তরক্ষীরা বুধবার একটি ভিডিও টুইট করেছেন যাতে দেখা যাচ্ছে হাতে ও পিঠে ব্যাগ বহন করা অভিবাসীদের কাজনিকা সীমান্ত চেকপোস্টের কাছ থেকে সরিয়ে নিচ্ছে বেলারুশের নিরাপত্তা বাহিনী৷ দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাচেই ভাসিক নিজস্ব সূত্রের বরাতে জানিয়েছেন, অভিবাসীদের বাসে করে সরিয়ে নেয়া হয়েছে৷   

বেলারুশের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা বেল্টাতে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, অভিবাসীদের সীমান্ত থেকে পাঁচশো মিটার দূরে ব্রুজগিতে একটি গুদামের মতো ভবনে থাকতে দেয়া হয়েছে যেখানে ঘর গরম রাখার ব্যবস্থা রয়েছে৷  

মিরান আলী নামের এক ইরাকি কুর্দ গুদামঘরটির ভিডিও প্রকাশ করেছেন৷ গরম ঘর পেয়ে উল্লসিত অভিবাসীদের কৃতজ্ঞতাস্বরুপ ‘‘বেলারুশ! বেলারুশ! বেলারুশ!’’ স্লোগান দিতে ভিডিওতে দেখা গেছে৷  

আলী বলেন, ‘‘কুর্দদেরকে জোর করে কুর্দিস্তানে ফেরত পাঠানো হবে না জানানোর পর সবাই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন৷ জার্মানি বা কোনো একটি জার্মান শহর তাদের না নেয়া পর্যন্ত তারা এখানেই থাকতে পারবে বলেও জানানো হয়েছে৷’’

সুযোগ পেলেও দেশে ফিরে যেতে আগ্রহী নয় অনেক অভিবাসী | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স
সুযোগ পেলেও দেশে ফিরে যেতে আগ্রহী নয় অনেক অভিবাসী | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স

বাল্টা লিখেছে যে একহাজারের মতো অভিবাসী মঙ্গলবার ‘‘চলতি সংকটের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত’’ সীমান্ত থেকে গুদামঘরে এসে থাকতে সম্মত হন৷ তাদেরকে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ঔষধ, তোষক এবং বালিশ দেয়া হয়েছে বলেও লিখেছে সংবাদসংস্থাটি৷ 

অভিবাসীদের ভবিষ্যত কী হবে তা নিয়ে অবশ্য অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে৷ স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহীদের জন্য মিনস্ক থেকে বাগদাদে বিনামূল্যে উড়ালের ব্যবস্থা করেছে ইইউএনএইচসিআর ও আইওএম৷ ইরাক সরকারও অভিবাসীদের ফেরত যেতে আহ্বান জানিয়েছে৷ তবে এভাবে কতজন ফিরে যাবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে৷

জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্টিফ আল্টার জানিয়েছেন, বেলারুশ থেকে অভিবাসীদের জার্মানিতে নিয়ে আসার কোনো পরিকল্পনা নেয়নি বার্লিন৷

‘‘জার্মানিতে আসতে আগ্রহী অধিকাংশ মানুষের জন্য বেলারুশের দিকের রাস্তা এক কানাগলি৷ কাউকে আনার অনুমতি দেয়ার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই,’’ বলেন তিনি৷  

এআই/এসএস (এপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন