হাঙ্গেরি সীমান্ত থেকে প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সার্বিয়ান শহর সুবোটিকায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের ব্যর্থ চেষ্টারত অভিবাসীরা। ছবিঃ ইনফোমাইগ্রেন্টস
হাঙ্গেরি সীমান্ত থেকে প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সার্বিয়ান শহর সুবোটিকায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের ব্যর্থ চেষ্টারত অভিবাসীরা। ছবিঃ ইনফোমাইগ্রেন্টস

মঙ্গলবার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিচারিক আদালতের জারি করা এক সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, হাঙ্গেরি তার তথাকথিত "স্টপ সোরোস" আইনের মাধ্যমে ইউরোপীয় আইন লঙ্ঘন করছে। এই আইনের ফলে দেশটিতে আশ্রয় প্রার্থীদের সমর্থন করাকে একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে।

আবারও ইউরোপীয় আদালতের নিন্দার শিকার হাঙ্গেরি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোর্ট অফ জাস্টিস (সিজেইইউ)। মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর জারি করা একটি সিদ্ধান্তে আদালত বুদাপেস্টকে আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তাকে অপরাধমূলক কাজ হিসেবে বিবেচনা করা এবং ২০১৮ সাল থেকে সীমান্ত থেকে আশ্রয় প্রার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নিন্দা করেছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের বলে হাঙ্গেরিকে আর্থিক জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে। .

লুক্সেমবার্গ-ভিত্তিক এই ইইউ আদালত প্রকাশিত বিবৃতিতে জানায়, "কোনো নাগরিক কাউকে আশ্রয় আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করলে তাকে শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে হাঙ্গেরি তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।"

২০১৮ সালে বুদাপেস্ট কর্তৃপক্ষ "স্টপ সোরোস" নামে আশ্রয়প্রার্থীদের সমর্থনকে অপরাধমূলক অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে আইন পাশ করলে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ আদালতে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের করেছিল ইইউ কমিশন। 

"সোরোস আইন"

এই আইনটি দেশটির বিলিয়নেয়ার জর্জ সোরোসের নামে রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তি বর্তমানে বিপন্ন না থেকে সেক্ষেত্রে শেঙ্গেন অঞ্চলের বাইরের কোনো দেশ থেকে অবৈধভাবে হাঙ্গেরিতে প্রবেশকারী কাউকে সহায়তা করলে, তাকে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের শাস্তি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

বুদাপেস্ট অভিবাসীদের হাঙ্গেরিতে আশ্রয় দেওয়ার সম্ভাবনাও কমিয়ে দিয়েছে। সিজেইইউ হাঙ্গেরিয়ান কর্তৃপক্ষকে "যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে চলার" আহ্বান জানিয়েছে।

ইউরোপীয় আশ্রয়ের নির্দেশনা মেনে চলতে হাঙ্গেরির ব্যর্থতার বিরুদ্ধে আদালতের দেয়া এই সিদ্ধান্তটি সাম্প্রতিক।

যদিও এর আগে ২০২০ সালের মে মাসে, সার্বিয়া সীমান্তে "ট্রানজিট জোনে" অবস্থিত শিবিরগুলিতে আশ্রয়প্রার্থীদের বৈধ কারণ ছাড়াই আটকে রাখার জন্য হাঙ্গেরি কর্তৃপক্ষকে এই কাঠামো থেকে বের হয়ে যেতে আহ্বান জানিয়েছিল এই ইইউ আদালত। এই সিদ্ধান্তটির ফলে হাঙ্গেরি সরকার ২০১৫ সাল থেকে চালু করা বিতর্কিত ক্যাম্পগুলি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল।

২০১৫ সালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের এই সদস্য রাষ্ট্র কয়েক হাজার শরণার্থীদের অভ্যর্থনা কোটা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার কর্মসূচির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছিল। যার ফলে, ২০২০ সালের এপ্রিলে পোল্যান্ড এবং চেক প্রজাতন্ত্রের মতো হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো রায় দিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোর্ট অফ জাস্টিস (সিজেইইউ)।

এছাড়া ২০২১ সালের মার্চে ইউরোপীয় আশ্রয় আদালতের যেতে হয়েছিল হাঙ্গেরিকে। ভিক্টর অরবানের সরকার ইরানী-আফগান আশ্রয়প্রার্থীদের একটি পরিবারের সাথে "অমানবিক এবং অবমাননাকর আচরণ" করার দায়ে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। 

অভিবাসীবিরোধী নীতি

এরকম বিভিন্ন আদালত থেকে অসংখ্য সিদ্ধান্ত, নিন্দা, অর্থ জরিমানা এবং পর্যবেক্ষণ সত্ত্বেও, বুদাপেস্ট অভিবাসীবিরোধী নীতি অনুসরণ করে চলছে এবং সীমান্তে অভিবাসীদের অবৈধ পুশব্যাক অব্যাহত রেখেছে।

পদ্ধতিগতভাবে সিদ্ধান্তগুলি মেনে চলার পর, দেশটি সম্প্রতি প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় আইনকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং ব্রাসেলসের সাথে দ্বন্দে জড়িয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি, বুদাপেস্টের সাংবিধানিক আদালত ২০২০ সালের ডিসেম্বরে জারি হওয়া আশ্রয় সংক্রান্ত প্রকৃতপক্ষে একটি রায় বর্তমানে জাতীয় আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কি না, তা যাচাই করছে। মূলত এ কারণে ইউরোপীয় কমিশন ইইউ আইন না মানার দায়ে হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে আদালতে যেতে বাধ্য হয়েছিল।  




এমএইউ/এসএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন