চলতি বছরের শুরু থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ১৩০০ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সী আই
চলতি বছরের শুরু থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ১৩০০ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সী আই

শনিবার ২০শে নভেম্বর, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও) ঘোষণা করেছে লিবিয়া উপকূলে আরেকটি জাহাজডুবির ঘটনায় অন্তত ৭৫জন নিহত হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে, অস্থায়ী নৌকায় ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করে মধ্য ভূমধ্যসাগরে এ পর্যন্ত ১,৩০০ অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছে।

বুধবার ১৭ নভেম্বর, লিবিয়া উপকূল থেকে ৯০ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে নিয়ে ছেড়ে যাওয়া একটি নৌকা ভূমধ্যসাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও) শনিবার টুইটারে জানিয়েছে, "লিবিয়া ছেড়ে যাওয়ার পরে ৭৫ জনেরও বেশি অভিবাসী ডুবে গেছে, যাদের মধ্যে ১৫ জনকে স্থানীয় জেলেরা জীবিত উদ্ধার করেছে। পরবর্তীতে জীবিতদের দেশটির পশ্চিমে অবস্থিত জুয়ারা বন্দরে নিয়ে আসা হয়েছে।"

আইওএম-এর মুখপাত্র ফ্লাভিও ডি গিয়াকোমো মন্তব্য করেছেন, চলতি বছরের শুরু থেকে ভূমধ্যসাগরে এই মর্মান্তিক জাহাজডুবিতে মৃতের সংখ্যা ১,৩০০ ছাড়িয়েছে।

তিনি আরও যোগ করে বলেন, এটি অগ্রহণযোগ্য একটি চিত্র। সমুদ্রে মানুষের জীবন বাঁচাতে আরও পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।” গত বছর সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টায় প্রায় এক হাজার মানুষ মারা যায়।



সাম্প্রতিক দিনগুলিতে, লিবিয়া উপকূল থেকে ইউরোপ অভিমুখে যাত্রা ব্যাপক হারে বেড়েছে। জার্মান এনজিও সী ওয়াচ ৪ এবং মেদসা সঁ ফ্রন্তিয়ের বা এমএসএফ এর উদ্ধার জাহাজ জিও ব্যারেন্টস, সোমবার ১৫ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর রবিবার পর্যন্ত মোট ৫৬১ জন অভিবাসীকে সমুদ্র থেকে উদ্ধারে সহায়তা করেছে।

এমএসএফ জানিয়েছে, জিও ব্যারেন্টস উদ্ধার করা নৌকাগুলির একটিতে, ১৩ ঘন্টা সমুদ্রে ভাসার পরে শ্বাসরোধে হয়ে মৃত ১০ জন অভিবাসীকে পাওয়া গেছে।  

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, শুক্রবার ৫০জন নারী এবং ২২ শিশু সহ ৩০২ জনকে সমুদ্র থেকে আটক করে লিবিয়ায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। পরের দিন, ইটালীয় কর্তৃপক্ষ তাদের উপকূল থেকে ৪২০ অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে যাদের মধ্যে ৭০ জনকে লাম্পেদুসায় এবং ৩৫০ জনকে সিসিলিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।



লিবিয়া থেকে সমুদ্র পাড়ি দেয়ার প্রচেষ্টা এই বছর তীব্রভাবে বেড়েছে। ১ জানুয়ারী থেকে ১৩ নভেম্বরের মধ্যে, লিবিয়ার উপকূলরক্ষীরা সমুদ্রে থেকে ২৯,৪২৭ জনকে গ্রেপ্তার করে দেশটিতে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। যেটি ২০২০ সালে ছল ১১,৮৯১ জন। 

ফ্লাভিও ডি গিয়াকোমো এই গ্রীষ্মে রেড়িও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল (আরআফই) কে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “লিবিয়ায় থাকা অভিবাসীদের উপর নির্যাতনের ফমে মূলত ব্যাপক হারে দেশটি থেকে যাত্রা বৃদ্ধির কারণ।”

তিনি আরও যোগ করেন, "অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে গত বছরের তুলনায় লিবিয়ায় থাকা অভিবাসীদের উপর বিপদ বেড়েছে। অভিবাসীরা সহিংসতার শিকার হয়ে সেখান থেকে পালাতে চায়। লিবিয়ায় স্পষ্টত মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয"। 


এমএইউ/এসএস 






 

অন্যান্য প্রতিবেদন