ফ্রান্স-স্পেন সীমান্তে অবস্থিত বিদাসোয়া নদী। ছবি: ইনফোমাইগ্রেন্টস
ফ্রান্স-স্পেন সীমান্তে অবস্থিত বিদাসোয়া নদী। ছবি: ইনফোমাইগ্রেন্টস

স্পেন ও ফ্রান্সের মধ্যবর্তী বিদাসোয়া নদীতে শনিবার একজন আফ্রিকান ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণ করা হচ্ছে, তিনি আন্দালুসিয়া থেকে ট্রানজিটে থাকা একজন শরণার্থী।

 শনিবার ২০ নভেম্বর, স্পেন এবং ফ্রান্সের মধ্যবর্তী বিদাসোয়া নদীতে একজন ব্যক্তির প্রাণহীন লাশ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্প্যানিশ বাস্ক পুলিশ। নদীতে নৌকা চালনারত এক লোক পুলিশকে এই ঘটনা জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে। ২০২১ সালের শুরু থেকে বিদাসোয়া নদীতে এটি কমপক্ষে তৃতীয় ডুবে যাওয়ার ঘটনা।

স্প্যানিশ পুলিশ জানিয়েছে, "ঘটনার তদন্ত ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রাথমিক সূত্রগুলো থেকে ইঙ্গিত করা যায় মৃত ব্যাক্তি একজন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত অভিবাসী।" 

দক্ষিণ স্পেনের বাস্ক প্রদেশের আঞ্চলিক সরকারের একজন মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, "আমাদের ধারণা উক্ত ব্যক্তি আন্দালুসিয়া থেকে ট্রানজিটে থাকা একজন শরণার্থী ছিল।" মৃত ব্যক্তির বয়স ৩৮ বছর।

বাস্ক আঞ্চলিক সরকারের অভিবাসী সহায়তা প্রকল্পের প্রধান জাবিয়ের লেগারেটা বলেছেন, "যতক্ষণ পর্যন্ত ইউরোপ উন্নত ভবিষ্যতের সন্ধানে থাকা লোকদের জন্য নিরাপদ ট্রানজিটের ব্যবস্থা করবে না, দুর্ভাগ্যবশত ততদিন এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে থাকবে।"

ফ্রাঙ্কো-স্প্যানিশ সীমান্তে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে দুর্ঘটনা বহুগুণ বেড়েছে। সাব-সাহারান বংশোদ্ভূত দুই আফ্রিকান অভিবাসীকে বিদাসোয়া নদীতে ডুবে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, যার প্রথমটি মে মাসে এবং দ্বিতীয়টি আগস্টে। অন্যদিকে সীমান্তের ফরাসি দিকে অক্টোবরে তিন আলজেরিয়ান অভিবাসী একটি ট্রেনের আঘাতে মারা যায়। এমন ধারণার কারণ তারা সম্ভাব্য পুলিশ চেকিং থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল।

স্পেন এখনো অবৈধ অভিবাসীদের জন্য ইউরোপের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হিসাবে রয়ে গেছে।

ফ্রান্সে পৌঁছতে চাওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য ফরাসি দিক থেকে পশ্চিম সীমান্তের তুলনায় পূর্ব স্প্যানিশ সীমান্তটি পশ্চিম আফ্রিকা এবং মাগরেব থেকে আসা অভিবাসীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং পয়েন্ট। সেপ্টেম্বরে, আট আলজেরিয়ান পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল যারা স্পেন থেকে লোকেদের ফ্রান্সে পরিবহন করে নিয়ে আসত। 

দুই দেশের সীমান্তবর্তী বাস্ক অঞ্চল উত্তর ইউরোপে অভিবাসী রুটের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট এলাকা। এই দুই সীমান্ত এলাকাকে দুই ভাগে ভাগ করে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। 

ফ্রাঙ্কো-স্প্যানিশ সীমান্তে গত জুন মাসে ইনফোমাইগ্রেন্টসকে একজন পথচারী আশ্বস্ত করেন, "এখানে ভ্রমণকারীদের চেয়ে বেশি পুলিশ অফিসার রয়েছে।" সেন্ট-জ্যাক ব্রিজে, স্পেন থেকে আসা বিদেশিরা এই সীমান্ত অতিক্রম করা খুব কঠিন।" 



এমএইউ/এসএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন