ফরাসি উপকূলে্র একটি সৈকতে ভোরবেলা টহলরত পুলিশের একটি দল। ছবি: মেহেদী শেবিল/ইনফোমাইগ্রেন্টস
ফরাসি উপকূলে্র একটি সৈকতে ভোরবেলা টহলরত পুলিশের একটি দল। ছবি: মেহেদী শেবিল/ইনফোমাইগ্রেন্টস

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরা দারমানা সোমবার উত্তর ফ্রান্স থেকে ইংরেজ উপকূলে অভিবাসী পারাপার প্রতিরোধে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। চ্যানেলে ক্রসিং কমাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম মোতায়েন করা হবে বলে জানান তিনি।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরা দারমানা সোমবার ২২ নভেম্বর, চ্যানেলের ফরাসি উপকূলে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য পুলিশ এবং জেন্ডারমেরির সমন্বয়ে নতুন পদক্ষেপের ঘোষনা দিয়েছেন। এই নতুন নিরাপত্তা ঘোষণার লক্ষ্য হচ্ছে ডানকের্ক থেকে সোমে উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ১৩০ কিলোমিটারেরও বেশি উপকূলীয় অঞ্চলকে সুরক্ষিত করা।

নতুন পদক্ষেপ অনুযায়ী এখন থেকে ফ্রান্সের উত্তর উপকূলীয় অঞ্চলে আরও বেশি নজরদারি গাড়ি, বিশেষ মোটরবাইক, অত্যাধুনিক ক্যামেরা মোতায়েন করা হবে। এছাড়া, অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে কালে, গ্রন্দ সান্থ, ডানকার্কের টিলাগুলিতে সামান্যতম নড়াচড়া শনাক্ত করার জন্য বিশেষ থার্মাল ক্যামেরা এবং নাইট ভিশন সরঞ্জাম থাকবে।


ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “যুক্তরাজ্যের সাথে ১১ মিলিয়ন ইউরোর একটি সহযোগিতা চুক্তির অংশ হিসেবে উপকূলে আগামী বছরের মধ্যে অত্যাধুনিক শনাক্তকরণ প্রযুক্তি থাকা একশটিরও বেশি যানবাহন সরবরাহ করা হবে। আপাতত, ফ্রান্সের উত্তরে শুধুমাত্র ২০টি যানবাহন সরবরাহ করা হয়েছে যেগুলো প্রতিদিন নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করছে"।

লন্ডন এবং প্যারিসের মধ্যে আলোচনা

অনিয়মিত অভিবাসী পারাপারের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে আলোচনা চলছে। শুধুমাত্র ২০২১ সালে, দুই দেশ এটি নিয়ে অন্তত তিনবার কথা বলেছে। জুন মাসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং ফরাসি রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ বিষয়ে ফোনে কথা বলেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চ্যানেল পার হতে চেষ্টা করা অনিয়মিত "অভিবাসীদের নিরস্ত করার প্রচেষ্টাকে দ্বিগুণ করার প্রয়োজনীয়তা" নিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্টের কাছে জোর দাবি জানিয়েছিলেন।

এই বৈঠকের এক মাস পরে জুলাই মাসে জেরা দারমানা এবং প্রীতি প্যাটেল দেখা করেন। আলোচনায় আবারও উঠে আসে ফরাসি উপকূলে নজরদারি জোরদার করার আবেদন। 

এছাড়া, যুক্তরাজ্য "ফ্রান্সকে সীমান্তে সহায়তার জন্য ২০২১-২২ অর্থ বছরে ৬২.৭ মিলিয়ন ইউরোর আর্থিক বিনিয়োগের" প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করার উপায় নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেছিল। পরবর্তীতে পারাপার শনাক্ত করতে দুই দেশ একটি যৌথ ঘোষণায় "দীর্ঘ মেয়াদে" উপকূল বরাবর একটি "স্মার্ট বর্ডার" স্থাপনের ব্যাপারে ঐক্যমতে আসে। 

রেকর্ড সংখ্যক পারাপার

গত বছরও দুই দেশের মধ্যে একই ধরণের বৈঠক ও আলোচনা হয়েছে। ২০২০ সালের নভেম্বরে, লন্ডন এবং প্যারিস একটি যৌথ চুক্তি স্বাক্ষর করে চ্যানেলে পারাপার বন্ধ করার চেষ্টা করে। যেটি ১ ডিসেম্বর, ২০২০ থেকে প্রয়োগ করা হয়। যার ফলে ইতিমধ্যে উপকূলে ফরাসি টহল দ্বিগুণ করা হয়েছে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল বলেছিলেন, "যারা ক্রসিংয়ের চেষ্টা করে, তাদের শনাক্ত করতে ড্রোন এবং রাডারের সাহায্য নেয়া হবে।"

এমনকি ২০১৯ সালেও এমন নানা আলোচনা হয়েছিল। প্রতিবারই এই দুই শক্তি মিলিয়ন ইউরোর যৌথ পদক্ষেপের বিভিন্ন কৌশলের ঘোষণা দিয়েছে। তবে এ চেষ্টাগুলো অনেকটা বৃথা বলে বিবেচনা করছে অভিবাসন সংস্থাগুলো কারণ চ্যানেল ক্রসিং কমছে না। 

উল্টোদিকে, চলতি বছর বিরাট সংখ্যায় চ্যানেল পারাপারের চেষ্টা দেখা গেছে। পা-দ্য-কালে প্রেফেকচুরের পরিসংখ্যান অনুসারে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত ইতিমধ্যে ২৯ হাজার ৩৬০জন সমুদ্রপথে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে, যাদের মধ্যে প্রায় ২২ হাজার যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে সফল হয়েছে। অপর দিকে গত বছর চ্যানেল পাড়ি দিতে চেষ্টা করা অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৪০৪জন। 


এমএইউ/এসএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন