ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মাঝে থাকা ইংলিশ চ্যানেল | সূত্র: গুগল ম্যাপস
ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মাঝে থাকা ইংলিশ চ্যানেল | সূত্র: গুগল ম্যাপস

বুধবার ফ্রান্সের কালে শহরের কাছে ইংলিশ চ্যানেলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে যাত্রা করা একটি নৌকা সাগরে ডুবে যায়। ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ফরাসি-ব্রিটিশ সীমান্তবর্তী ইংলিশ চ্যানেল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটলো বুধবার। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে যুক্তরাজ্যের দিকে রওয়ানা দেওয়া একটি নৌকা ইংলিশ চ্যানেলে ডুবে গেলে মৃত্যু হয় ২৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় যে মৃত্যুর সংখ্যা ৩১, কিন্তু এই সংখ্যাটি পরে বদলে দেয় ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

নিহতরা কোন দেশের নাগরিক, সে বিষয়ে কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন যে ইংলিশ চ্যানেলকে কোনোমতেই 'কবরস্থানে' পরিণত হতে দেবেন না তিনি। চ্যানেলে সক্রিয় মানবপাচারকারীদের ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সাথে আলোচনা করেন।

ম্যাক্রোঁ বলেন, "এই ঘটনায় ইউরোপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক, মানবতা ও সকল মানুষের প্রতি সম্মানের দিকটি শোকগ্রস্ত হয়েছে।"

২০১৮ সালের একটি নৌকাডুবির ঘটনার পর থেকে এটিই সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা। ঘটনার পর কালে নগর কর্তৃপক্ষ মানবহত্যার অভিযোগে তদন্ত চালু করেছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরা দারমানার মতে, তদন্ত চলছে ও কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

দারমানা সংবাদমাধ্যমকে জানান যে দুজন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গেলেও তাদের অবস্থা বর্তমানে খুবই সংকটজনক। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন নারী ও একটি শিশুকন্যা থাকার কথাও নিশ্চিত করেন তিনি। কালে শহরের মেয়র নাটাশা বুশার জানান যে নিহত নারীদের মধ্যে একজন গর্ভবতী ছিলেন।

ঘটনাস্থলের চিত্র

কিছু স্থানীয় মৎস্যজীবীরা এই নৌকাডুবি সম্বন্ধে প্রথম জানান ফরাসি কর্তৃপক্ষকে। এরপর তিনটি হেলিকপ্টার ও নৌকার সাহায্যে ইংলিশ চ্যানেলের সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে খোঁজ চালানো হলে সেখানে ভাসমান মরদেহ ও অচেতন অবস্থায় কয়েকজন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পাওয়া যায়।

ফরাসি নৌকায় থাকা উদ্ধারকর্মী শার্ল ডেভো বলেন যে সেই স্থানে "ফুটো হয়ে যাওয়া রবারের ডিঙি নৌকাকে ভেসে থাকতে দেখা যায়।"

শীত আসার সাথে সাথে আবহাওয়াও খারাপ হওয়া শুরু হয়েছে, যার ফলে নৌকাডুবি হলে কোনো অভিবাসনপ্রত্যাশীর জীবিত উদ্ধার হবার সম্ভাবনা খুবই কম।

এসএস/এআই (এএফপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন