ফাইল ফটো: শরণার্থী ও অভিবাসীরা মানসিক অসুস্থতায় ভুগলেও তা নিয়ে আলোচনা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না৷ | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স
ফাইল ফটো: শরণার্থী ও অভিবাসীরা মানসিক অসুস্থতায় ভুগলেও তা নিয়ে আলোচনা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না৷ | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স

সংঘাত এবং নিপীড়ন থেকে রেহাই পেতে জার্মানিতে আশ্রয় নেওয়াদের জন্য আরো আইনি পথ তৈরি করতে দেশটির নতুন সরকারের কাজ করা উচিত বলে মনে করেন জার্মানির প্রধান সাইকোথেরাপিস্ট৷ ইউরোপের দেশটিতে সম্প্রতি মানসিকভাবে অসুস্থ শরণার্থীদের বিভিন্ন হামলায় অংশ নেয়ার প্রেক্ষিতে তিনি এসংক্রান্ত চিকিৎসা নিশ্চিতে আরো সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান৷

জার্মানির সাইকোথেরাপিস্টদের কেন্দ্রীয় সঙ্ঘের প্রেসিডেন্ট ডিটরিশ মুনৎস জানিয়েছেন, নিজ দেশ থেকে পালানো অনেক মানুষ ইউরোপের বহিঃসীমান্তেও জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নানাঘটনার মুখোমুখি হচ্ছেন৷ এসব অভিজ্ঞতা তাদেরকে আরো বেশি ‘‘ট্রমাটাইজ’’ করছে বলে মনে করেন তিনি৷  

‘‘যারা সীমান্ত বন্ধ করছেন তাদের এমন দরজাও তৈরি করা উচিত যেখান থেকে প্রবেশ করা সম্ভব,’’ জার্মানিতে তিন দলের গড়া নতুন সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন মুনৎস৷


তিনি একটি নির্দিষ্ট কোটা তৈরি করে কত লোককে জার্মানি আশ্রয় দেবে সেটা নির্ধারণেরও আহ্বান জানান৷ 

চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই তিন দলের গড়া জোট সরকার জার্মানির ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারে৷ গত সেপ্টেম্বরে জাতীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকেই জোট গড়ার আলোচনায় রয়েছে সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি, সবুজ দল এবং মুক্ত গণতন্ত্রী দল এফডিপি৷ 

চিকিৎসা স্বল্পতা

অভিবাসীদের মধ্যে যারা মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন তাদেরকে চিকিৎসা সুবিধা দিতে বর্তমান প্রক্রিয়ার সংস্কার করা উচিত বলে মনে করেন মুনৎস৷ বর্তমানে একজন আশ্রয়প্রার্থী জার্মানিতে প্রবেশের পর প্রথম আঠারো মাস মানসিক চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ পান না৷ মুনৎস মনে করেন, মানসিকভাবে অসুস্থ সবারই চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত৷

বাভারিয়ার এক শহরে গত ২৫ জুন তিন নারীকে ছুরিকাঘাত করেন এক সোমালী অভিবাসী, তিনি গৃহহীন ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স
বাভারিয়ার এক শহরে গত ২৫ জুন তিন নারীকে ছুরিকাঘাত করেন এক সোমালী অভিবাসী, তিনি গৃহহীন ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স


সিরিয়ার এক শরণার্থী গত নয় নভেম্বর জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যে একটি দূরপাল্লার ট্রেনে চারজনকে আহত করেন৷ তিনি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন৷ তার কাছে থাকা স্টোরেজ মিডিয়া যাচাইয়ের পর হামলার পেছনে ইসলামী চিন্তাধারা থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দেয়া হয়নি৷ 

অতীতে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকা আশ্রয়প্রার্থী এবং ইতোমধ্যে আশ্রয় পাওয়াদের মধ্যে কারো কারো মানসিক অসুস্থতা এবং উগ্রবাদের লক্ষণ রয়েছে৷ এরকম মানুষদের নিয়ে কী করা উচিত তা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উগ্রবাদ বিশেষজ্ঞ, রাজনীতিবিদ এবং অন্যদের মধ্যে অনেক আলোচনা দেখা গেছে৷  

‘‘দেশ থেকে পালানোর সময়কার নানা অভিজ্ঞতা মারাত্মক মানসিক অসুস্থতা তৈরি করতে পারে,’’ বলেন মুনৎস৷ এর মধ্যে মানসিকব্যাধী রয়েছে যা আক্রান্তদের মধ্যে হ্যালুসিনেশন ঘটায়৷ 

‘‘এধরনের রোগ শনাক্ত করা যায় এবং দ্রুত চিকিৎসাও সম্ভব৷ কিন্তু শরণার্থীদের সেই সুযোগ থাকতে হবে৷ তাদেরকে সহায়তা করতে হবে, ’’ বলেন তিনি৷  

এআই/এসএস (ডিপিএ)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন