ফাইল ফটো: বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে প্রায়শই নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন অভিবাসীরা | ছবি: ডয়চে ভেলে
ফাইল ফটো: বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে প্রায়শই নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন অভিবাসীরা | ছবি: ডয়চে ভেলে

ইব্রাহিম রসুল রেফারি হিসেবে তার চাকুরি বেশ পছন্দ করতেন কেননা এই পেশায় পরস্পরের প্রতি সম্মান এবং সমতার বিষয়টি ছিল৷ কিন্তু ৩৩ বছর বয়সি এই আফগান ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বহিঃসীমান্তে শরণার্থীদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয় তাতে কোনো সমতা দেখেন না৷

রসুল বার্তাসংস্থা এপিকে জানান, ক্রোয়েশিয়ার পুলিশ অন্তঃসত্ত্বা বা ছোট সন্তান আছে এমন পরিবারের আকুতিও কানে তোলে না৷ বরং চলতি মাসের শুরুতে তিনিসহ ষোলজন শরণার্থী ইইউভুক্ত দেশটিতে পৌঁছানোর পরও সেদেশের পুলিশ তাদেরকে বসনিয়ায় ফেরত পাঠিয়েছে৷  

রসুল সাংবাদিকদের ভিডিও দেখিয়েছেন যেগুলো তিনি ক্রোয়েশিয়ায় একটি পুলিশ ভ্যান এবং বসনিয়ার সঙ্গে দেশটির সীমান্ত সংলগ্ন একটি জঙ্গলে ধারন করেছেন বলে জানিয়েছেন৷ ক্রোয়েশিয়ার পুলিশ তাদের অপমান করেছে এবং আফগানিস্তানে ফিরে যেতে বলেছে বলেও জানান তিনি৷  

তবে সীমান্তে দশ নভেম্বরের সেই ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে এপির অনুরোধের কোনো জবাব দেয়নি ক্রোয়েশিয়া পুলিশ৷ 

‘‘পুলিশ সদস্যরা শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী কিংবা অন্য কোনো নারী, কারো দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন না৷ তারা আমাদেরকে অস্ত্র দেখিয়ে বলেন, কেউ নড়বেন না৷ থামুন৷ আমরা পুলিশ৷’’

রসুলের দেয়া ভিডিওগুলোর একটিতে বদ্ধ, চলমান ভ্যানের মধ্যে বসে থাকা নারী ও ছোট শিশুদের দেখা গেছে৷ অন্যটিতে, জঙ্গলের মধ্যে দৃশ্যত এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে কম্বলে করে কয়েকজন নিয়ে যাচ্ছেন দেখা গেছে৷ কোনো ভিডিওই স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি৷   

রসুল জানিয়েছেন, ক্রোয়েশিয়া পুলিশ তাদেরকে বলেছে যে ইইউতে আফগানিস্তান থেকে আসা মানুষদের জন্য কোনো জায়গা নেই৷ এছাড়া অভিবাসীদেরকে দেশটির পুলিশ ‘‘জানোয়ার’’ এবং ‘‘নোংরা মানুষ’’ বলে অবিহিত করেছে বলেও দাবি তার৷ 

ক্রোয়েশিয়া পুলিশের বিরুদ্ধে ইউরোপমুখী অভিবাসীদের সহিংসভাবে সীমান্তের বাইরে ঠেলে দেয়ার অভিযোগ নিয়মিতই শোনা যায়৷ সম্প্রতি ইউরোপের মানবাধিকার আদালত ২০১৭ সালে এরকম এক ঘটনায় ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে৷ তখন অভিবাসীদের পুশব্যাক করা হলে ছয় বছর বয়সি এক আফগান মেয়ে শিশু ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারায়৷

গতমাসে ক্রোয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ বিশেষ পুলিশের তিন সদস্যকে বরখাস্ত করতে বাধ্য হয়৷ তারা অভিবাসীদেরকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ক্রোয়েশিয়া ছাড়া করেছেন এমন ভিডিও প্রকাশিত হয়েছিল৷ তবে, নিয়মতান্ত্রিক এবং ধারাবাহিকভাবে ক্রোয়েশিয়ার সীমান্তরক্ষীরা অভিবাসীদের সহিংসভাবে বাধা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে দেশটি৷ 

এআই/এসএস (এপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন