সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি, উদারপন্থি এফডিপি ও পরিবেশবাদী সবুজ দলের কোয়ালিশন সরকার আসছে জার্মানিতে৷ ফটো: মিশায়েল কাপেলের/ডিপিএ/পিকচার অ্যালায়েন্স
সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি, উদারপন্থি এফডিপি ও পরিবেশবাদী সবুজ দলের কোয়ালিশন সরকার আসছে জার্মানিতে৷ ফটো: মিশায়েল কাপেলের/ডিপিএ/পিকচার অ্যালায়েন্স

আগামী চার বছরের জন্য নতুন রূপরেখা প্রণয়ন করেছে জার্মানির নতুন সরকার৷ নতুন পরিকল্পনায় অভিবাসীদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে৷

২সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি, উদারপন্থি এফডিপি ও পরিবেশবাদী সবুজ দলের কোয়ালিশন সরকার আসছে জার্মানিতে৷ নেতৃত্বে থাকছেন এসপিডি নেতা ওলাফ শলৎস৷

এই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সরকার আগামী চার বছরের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে৷ আঙ্গেলা ম্যার্কেলের নেতৃত্বাধীন তুলনামূলক রক্ষণশীল দলের সময়ের তুলনায় নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে সরকারের মনোভাবের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে৷

সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডির নেতা ওলাফ শলৎস এক টুইটে বলেন, ‘‘অভিবাসন ও জার্মান সমাজে অভিবাসীদের আত্মীকরণের নীতির বিষয়ে আমরা নতুন কিছু করতে চাই৷ যা অভিবাসনের আধুনিক দেশগুলোর সাথে সংগতিপূর্ণ৷ আমরা অবৈধ পথে অভিবাসন বন্ধ করব এবং বৈধ প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করব৷’’

পরিবারের সহজ পুনর্মিলন ও দ্রুত প্রত্যাবাসন

অভিবাসন বিষয়ে নতুন সরকারের রূপরেখায় বেশ কয়েকটি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে৷ এর মধ্যে আছে জার্মানিতে বৈধভাবে থাকার সুযোগ নেই এমন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানো৷ তাছাড়া যেসকল অভিবাসনপ্রত্যাশী বৈধ প্রক্রিয়ায় দেশটিতে অবস্থান করছেন তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশটিতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিতকরণ৷

 ক্ষমতা গ্রহণ করতে যাওয়া এ তিন দল ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে যে, তারা নতুন করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কোনো আশ্রয়স্থল বানাবে না৷ সেই সাথে দেশটিতে বৈধভাবে থাকার অধিকার হারানো ব্যক্তিদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলছে তারা৷ তবে ফেরত যাওয়া ব্যাক্তির নিজ দেশে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থামানো যাবে বলে বলা হয়েছে৷

এদিকে দেশটিতে বৈধভাবে অবস্থান করছেন এমন ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের জার্মানিতে আসার সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের৷

আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুতকরণ

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দেশটির অভিবাসন ও শরণার্থী মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের গতি বাড়াতে চায় নতুন সরকার৷ তাছাড়া নিজ দেশে নির্যাতন বা অত্যাচারের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের জন্য জার্মানিতে আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের৷ যেমন আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের অধীন নির্যাতিত ব্যক্তিদের ‘মানবিক করিডোর’ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে নিয়ে আসার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে৷ অথবা এসকল ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সমঝোতার মাধ্যমে নিয়ে আসা যেতে পারে৷

বৈধভাবে থাকার অনুমতি

এদিকে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে জার্মানিতে অবস্থানকারী যে সকল অভিবাসনপ্রত্যাশী দেশটিতে কোনো ধরনের আইন ভঙ্গ করেননি, তাদেরকে বৈধভাবে থাকার অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে৷ নতুন সরকার বলছে, যে সকল অভিবাসনপ্রত্যাশীর জার্মানিতে থাকার মেয়াদ ১ জানুয়ারি ২০২২ সালে পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং এই সময়ে তারা দেশটির কোনো আইন ভঙ্গ করেনি ও দেশটির গণতনান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তাদেরকে এক বছরের জন্য থাকার অনুমতি দেওয়া হবে৷

এর ফলে তারা দেশটিতে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য পরবর্তী শতর্সমূহ পূরণ করার সুযোগ পাবেন৷

তাছাড়া দেশটির নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়েও শর্ত শিথিল করার পরিকল্পনা রয়েছে জোটের৷ জোটের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, অভিবাসীরা দেশটিতে তিন বছর থাকার পর নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন৷

আরো উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দ্বৈত নাগরিকত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নতুন সরকারের৷ অর্থাৎ, অভিবাসীরা একই সাথে জার্মানির ও অন্য দেশের নাগরিকত্ব রাখতে পারবে৷ আগের আইন অনুযায়ী, জার্মান নাগরিকত্ব পাওয়ার পর অভিবাসীদের পুরোনো নাগরিকত্ব ত্যাগ করার বিধান ছিল৷ যদিও বিশেষ বিবেচনায় দ্বৈত নাগরিত্ব ধরে রাখারও সুযোগ ছিল৷  

সরকারে আসতে যাওয়া এই তিন দল ইউরোপিয়ান ইউনিয়নেও চলমান আশ্রয়বিষয়ক আইনের পরিবর্তন আনতে চায়৷ 

নতুন সরকারের পরিকল্পনায় বলা হয়, ‘‘আমাদের লক্ষ্য হলো ইউরোপের দেশগুলোর জন্য আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে একটি ফেয়ার নীতি অবলম্বন করা৷’’  

বিরোধিদের সমালোচনা

অভিবাসন বিষয়ে আইন পরিবর্তনের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করছে ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর ডয়েচল্যান্ড৷ এক বিবৃতিতে দলটির নেতা আলিস ভাইডেল এবং টিনো ক্রুপালা বলেন, অভিবাসন বিষয়ে নতুন সরকারের নীতির ফলে জার্মানি ‘অভিবাসনের কেন্দ্র’ হয়ে উঠবে৷ 

আর খ্রীস্টিয় গণতন্ত্রী দলের নেতা রাল্ফ ব্রিংকহাইসের মতে, এমন নীতি অভিবাসনপ্রত্যাশী এবং শরণার্থীদের জার্মানিতে আসতে উৎসাহিত করবে৷ 

 আরআর/এসএস (সের্টান সান্ডের্সন, এফপি, ডিপিএ)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন