সামোস দ্বীপে একটি অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্র | ছবি: ইপিএ
সামোস দ্বীপে একটি অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্র | ছবি: ইপিএ

গ্রিসের নতুন অভিবাসী শিবিরগুলোতে রয়েছে নিরাপত্তার কড়াকড়ি আর সেই সাথে বিতর্কিত পদ্ধতিতে প্রযুক্তির সাহায্যে বাসিন্দাদের নজরদারি৷ বিতর্কিত হলেও দেশটিতে এমন আরো দুটি নতুন অভিবাসী শিবির চালু হয়েছে৷

সেপ্টেম্বর মাসে গ্রিসের সামোস দ্বীপে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে জেরভৌ ক্যাম্প চালু করা হয়৷ তুরস্ক হয়ে গ্রিসে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে। 

নিরাপত্তাজনিত অতিরিক্ত কড়াকড়ি আর প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিবাসীদের ওপর নজরদারিসহ নানা বিষয়ের জন্য এ শিবিরটি আলোচনায় উঠে আসে৷

তবে এমনই আরো দুটি ক্যাম্প চালু করার ঘোষণা দিলেন দেশটির অভিবাসন মন্ত্রী নোটিস মিতারাচি। দেশটির লেরোস ও কোস দ্বীপে এই দুটি ক্যাম্প খোলা বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, "একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। আমরা আমাদের দ্বীপগুলির ওপর থেকে অভিবাসনের ভার ও তার ফলবর্তী সমস্যাগুলিকে সরিয়ে নিচ্ছি। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের চিত্রগুলি এখন শুধুই অতীত হয়ে থাকবে।"

২০১৫ সালে ইউরোপের দিকে আসা অভিবাসনের স্রোতের কেন্দ্রে ছিল গ্রিস। সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তান থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পথে গ্রিস ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সাম্প্রতিক আফগান সংকটের ফলে গ্রিস আবার হয়ে উঠেছে ইউরোপগামী অভিবাসনের প্রাণভূমি।

পাঁচটি নতুন শিবির

এই দুটি শিবিরের পর লেসবস ও চিওস দ্বীপেও এমন আরো দুটি শিবির খোলার কথা রয়েছে। এই ধরনের 'বদ্ধ' বা কারাগারের মতো শিবিরের চারদিকে উঁচু কাঁটাতারের বেড়া। রয়েছে চব্বিশ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরায় নজরদারি। বাসিন্দাদের চলাফেরায় নজর রাখতে ব্যবহৃত হচ্ছে এক্স-রে স্ক্যানার ও চৌম্বকীয় দরজা, যা রাতের একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর আপনা থেকে বন্ধ হয়ে যায়।

এই ধরনের ক্যাম্প গড়ে তুলতে ইইউ মোট ২৭৬ মিলিয়ন ইউরো অর্থ দিয়েছে গ্রিসকে।

এ বিষয়ে ইউরোপিয়ান কমিশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মার্গারিটিস শিনাস সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "আমরা নতুন পাতা ওল্টাচ্ছি। এখন আমরা সেই সব জিনিসের পাঠ নিচ্ছি যা আমাদের চিন্তাধারা, মূল্যবোধ ও মানুষের সম্মানকে বুঝতে শেখাবে। নতুন জিনিস গড়া শেখাবে। বিশ্বের সকল প্রান্ত থেকে যেসব মানুষ স্বৈরাচার, যুদ্ধ ও অত্যাচার থেকে পালিয়ে আসবেন, ইউরোপ তাদের জন্য আশ্রয়ের স্থান।"

গ্রিসের অন্যান্য শিবিরের তুলনায় এই শিবিরগুলি বেশি নিরাপদ হওয়ায় এখানে অপরাধপ্রবণতা কম হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এই ধরনের বদ্ধ পরিবেশ বাসিন্দাদের জন্য কারাগারের মতো হয়ে উঠতে পারে।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, গ্রিসে বর্তমানে রয়েছে প্রায় ৯৬ হাজার আশ্রয়প্রার্থী, যাদের রাখা হয়েছে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে। অনেক ক্ষেত্রে, এইসব আশ্রয়কেন্দ্রের পরিস্থিতি মানবেতর ও দুর্বিষহ। নতুন শিবিরগুলিতে নিরাপত্তার কড়াকড়ি ও চলাফেরার স্বাধীনতায় বাধা থাকলেও কিছু বাসিন্দাদের কাছে এটি মানুষের জন্য বাসজনক।

এসএস/আরআর (রয়টার্স, এএফপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন