(ফাইল ছবি) সার্বিয়া সহ বিভিন্ন সীমান্ত থেকে অভিবাসীদের পাচারের সাথে জড়িত সন্দেহে ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে অস্ট্রিয়া পুলিশ। ছবি: এপি/ডয়েচে ভেলে
(ফাইল ছবি) সার্বিয়া সহ বিভিন্ন সীমান্ত থেকে অভিবাসীদের পাচারের সাথে জড়িত সন্দেহে ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে অস্ট্রিয়া পুলিশ। ছবি: এপি/ডয়েচে ভেলে

অস্ট্রিয়া কর্তৃপক্ষ শনিবার ২৭ নভেম্বর জানিয়েছে, সিরিয়া, লেবানন ও মিশর থেকে আসা অভিবাসীদের জার্মানিতে পাচার করার সন্দেহে ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সাথে থাকা ১৪টি যানবাহনও জব্দ করা হয়েছে।

অস্ট্রিয়ার উত্তর-পূর্ব প্রদেশের পুলিশ জানিয়েছে, সার্বিয়ান-হাঙ্গেরিয়ান সীমান্ত থেকে অভিবাসীদের স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র হয়ে অস্ট্রিয়ার উত্তর-পূর্ব দিকে পাচারের সাথে জড়িত একটি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে গত মাস থেকে তদন্ত শুরু করেছিল স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। অবশেষে ভিয়েনা থেকে এই নেটওয়ার্কের ১৫ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। 

পাচারকারীরা বিভিন্ন সীমান্ত থেকে আনা অভিবাসীদেরকে মূলত জার্মানিতে পৌঁছে দিতে অষ্ট্রিয়ার ভূমিকে ব্যবহার করত বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। 

গ্রেফতার হওয়া ১৫ সন্দেহভাজন পাচারকারীদের বেশিরভাগই মলদোভা, ইউক্রেন ও উজবেকিস্তানের নাগরিক। অস্ট্রিয়া পুলিশ এক সংবাদ বিবৃতিতে জানিয়েছে, “তাদেরকে নভেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ সন্দেহজনক বিভিন্ন যানবাহনসহ ভিয়েনার একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তের উদ্দেশ্যে তাদেরকে থামানো হলে তাদের সবাই পালানোর চেষ্টা করেছিল।”

অভিযুক্তরা প্রতি যাত্রায় গড়ে ১২ থেকে ১৫ জনকে কয়েকটি গাড়ি এবং ভ্যানে করে পাচার করত। পুলিশের দৃষ্টি এড়াতে তারা গাড়ির পেছনের সিটগুলি সরিয়ে জানালাগুলি স্প্রে করে দিত।

অভিযুক্তরা এপর্যন্ত সাতশ জনেরও বেশি লোককে আড়াই মিলিয়ন ইউরোর চেয়েও বেশি অর্থের বিনিময়ে এভাবে পাচার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ আরও জানায়, প্রত্যেক অভিবাসীকে জার্মানি পর্যন্ত নিয়ে যেতে কার্যকর নেটওয়ার্কটি জনপ্রতি চার থেকে পাঁচ হাজার ইউরো নিয়ে থাকে। অস্ট্রিয়া পৌঁছাবার পর, অভিবাসীদের বাস, ট্রেন অথবা কোনো আত্মীয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত পাচারকারীদের মূলত নিজ নিজ দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপে ট্রাক চালকের বিজ্ঞাপন দিয়ে নিয়োগ করা হয়েছে।দুই বা তিন হাজার ইউরো বেতনের লোভ দেখিয়ে তাদেরকে পাচারের কাজে যুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। 



এমএইউ/এসএস (ইউরো নিউজ, ডয়েচে ভেলে)


 

অন্যান্য প্রতিবেদন