রাজধানী নিকোসিয়ার উপকণ্ঠে কোকিনোট্রিমিথিয়ার শরণার্থী শিবিরের বাইরে অপেক্ষারত একজন অভিবাসী। ছবি:রয়টার্স
রাজধানী নিকোসিয়ার উপকণ্ঠে কোকিনোট্রিমিথিয়ার শরণার্থী শিবিরের বাইরে অপেক্ষারত একজন অভিবাসী। ছবি:রয়টার্স

করোনা মহামারির শুরুতে ২০২০ সালে সাইপ্রাসে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা কমলেও চলতি বছর আশ্রয় আবেদনের হার বেড়েছে ৭০ শতাংশ। এমতাবস্থায় দেশটিতে জরুরি অবস্থা চলছে এবং আর কোনো নতুন অভিবাসীকে জায়গা দেয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মঙ্গলবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সাইপ্রাসে মোট ১০,৮৬৮টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছে।

২০১৫ সাল থেকে দেশটিতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আওতায় করা ৪৮,৩৫৭টি আবেদনের মধ্যে ২৩,৪৭৪টি আবেদন তালিকায় থাকা 'নিরাপদ' হিসেবে বিবেচিত দেশগুলি থেকে আসা মানুষরা দায়ের করেছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ তদারকি বিষয়ক ষষ্ঠ বার্ষিক পর্যবেক্ষণ কমিটির সভায় সাইপ্রাসের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোস নুরিস এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছেন।

নুরিস ১০ নভেম্বর পাঁচটি অনুরোধ সম্বলিত সাইপ্রাসের রাষ্ট্রপতি নিকোস আনাস্তাসিয়াদেসের একটি চিঠি ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েনের কাছে পৌঁছে দেন।

রাষ্ট্রপতির করা প্রধান অনুরোধটি হচ্ছে, অভিবাসীদের ব্যাপক প্রবাহের কারণে সৃষ্ট জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ। উদাহরণস্বরুপ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত নতুন আশ্রয় আবেদন স্থগিত করার অধিকার দেয়া।

চিঠিতে অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য অনুরোধগুলি হচ্ছে, অবিলম্বে সাইপ্রাসের জন্য একটি বাধ্যতামূলক স্থানান্তর প্রকল্প প্রতিষ্ঠা, অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলির খরচ ও দুই সাইপ্রাসের মধ্যে অবস্থিত গ্রিন লাইনের নজরদারি বাড়াতে একটি জরুরি আর্থিক সহায়তা পরিকল্পনা অনুমোদন এবং অভিবাসীদের জন্য একটি নতুনকেন্দ্র নির্মাণের জন্য অতিরিক্ত তহবিল প্রদান।

সভায় নুরিস জোর দিয়ে জানান যে দ্বীপ রাষ্ট্রটি বর্তমানে একটি অস্বাভাবিক অভিবাসন স্রোতের মুখোমুখি হচ্ছে যার ফলে পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে।

"টানা পাঁচ বছর ধরে সাইপ্রাস জনসংখ্যার অনুপাতে আশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষা দিতে সর্বাধিক সংখ্যক আবেদনগ্রহণকারী দেশ হিসেবে তালিকায় রয়েছে , যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক চার শতাংশের সমান। পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনা করা সরকারের ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে," বলেন নুরিস।

তার মতে, ২০২১ সালের শুরু থেকে জমা হওয়া ১০,৮৬৮টি আশ্রয়ের আবেদনের ৮৫ শতাংশ আবেদনকারী গ্রিন লাইন পার হয়ে অবৈধভাবে সাইপ্রাসে প্রবেশ করেছিল।

“আমরা প্রতি মাসে গড়ে হাজারের বেশি আশ্রয় আবেদন নিবন্ধন করছি৷ অক্টোবর মাসে সংখ্যাটি দুই হাজারে-এ পৌঁছেছে। আর নভেম্বর মাসে আমরা ১,৬০০-এর বেশি আবেদন পেয়েছি,” বলেন তিনি৷ 

“এছাড়া, পুরো বছরের আবেদনের সংখ্যা বিবেচনায় নিলে গত বছরের তুলনায় তা ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে,” যোগ করেন নুরিস৷ 

দ্বীপ রাষ্ট্রটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, "সাইপ্রাস যে গুরুতর সংকটে পড়েছে তার আরো একটি ইঙ্গিত হচ্ছে ২০১৫ থেকে এখন পর্যন্ত যে ৪৮,৩৫৭ জন ব্যক্তি আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছেন, যাদের অর্ধেকই রাজনৈতিক আশ্রয়ের ক্ষেত্রে নিরাপদ দেশ হিসেবে বিবেচিত দেশগুলো থেকে এসেছেন। যার ফলশ্রুতিতে এসব আবেদনের তেমন কোনো ভিত্তি থাকে না।"

মন্ত্রী দ্বীপের অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলি ধারণ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে বলে সতর্কতা দিয়ে বলেন, ‘‘কোকিনোট্রিমিথিয়ার পৌরনারা অভ্যর্থনা কেন্দ্রে বর্তমানে ২,৪০০ জনেরও বেশি লোক রয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ ৮০০ জনকে রাখা যাবে।’’

“সাইপ্রাস জরুরি অবস্থার মধ্যে রয়েছে, সেখানে নতুন করে আর কোনো অভিবাসী রাখা সম্ভব না,” বলেন তিনি৷ 

“কিন্তু যারা সত্যিকারের প্রয়োজনে আসবে তাদের স্বাগত জানানো এবং রক্ষা করার জন্য রাষ্ট্র হিসাবে আমাদের যতটা মানবিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে সেটি অনুসরণের চেষ্টা থাকবে। তবে তার আগে আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের বহিঃ সীমান্ত, নিরাপত্তা এবং সামাজিক সংহতি রক্ষা করতে হবে। ঠিক এই কারণেই আমরা ইউরোপীয় কমিশন এবং আমাদের অংশীদারদের অবিলম্বে সমর্থন এবং প্রকৃত সংহতির জন্য অনুরোধ করছি," তিনি যোগ করেন।

২০১৪ থেকে ২০২০ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন সাইপ্রাসকে ১৫১ টি প্রকল্পের জন্য মোট ১১৬ মিলিয়ন ইউরো অর্থ সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি, ইউরোপীয় কমিশন জরুরী সহায়তা হিসাবে সাইপ্রাসকে ১০ মিলিয়ন ইউরোরও বেশি মঞ্জুর করেছিল, যা পৌরনারা অভ্যর্থনা কেন্দ্রের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আশ্রয় পরিষেবা এবং অভিবাসনের কর্মীদের ব্যয় মেটাতে ব্যবহৃত হয়েছিল।


এমএইউ/এআই 


 

অন্যান্য প্রতিবেদন