ভ্যাটিকানে শরণার্থীদের সাথে দেখা করছেন পোপ ফ্রান্সিস | ছবি: ইপিএ
ভ্যাটিকানে শরণার্থীদের সাথে দেখা করছেন পোপ ফ্রান্সিস | ছবি: ইপিএ

সাইপ্রাসে গত শুক্রবার খোলা আকাশের নিচে একটি গণ প্রার্থনা সভা আয়োজন করা হয় । সেখানে বক্তব্য রাখেন পোপ ফ্রান্সিস। অভিবাসীদের আশা, পোপের এই সফর তাদের জন্য ইতিবাচক কিছু বয়ে আনবে।

সাইপ্রাসে বাস করেন প্রায় ২৫ হাজার ক্যাথলিক খ্রিষ্টান, যাদের মধ্যে একটা বড় অংশের মানুষ ফিলিপাইনস ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা৷ শুক্রবার নিকোসিয়ার ফুটবল স্টেডিয়ামে এই অভিবাসী জনতা থেকে আনুমানিক সাত হাজার মানুষ পোপের বার্তা শুনতে হাজির হন৷

সাইপ্রাসের বাসিন্দারা মূলত গ্রিক অর্থোডক্স গোষ্ঠীর খ্রিষ্টান। পোপের এই সফর গ্রিক অর্থোডক্স ও ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের কাছাকাছি আনতে সাহায্য করবে বলে আশা করছেন রাজধানী নিকোসিয়ার জনগণ।

সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্টের মতে, ৮৪ বছর বয়েসি পোপ ফ্রান্সিস সাইপ্রাসের ৫০জন অভিবাসীকে ইটালিতে উড়িয়ে নিয়ে যাবেন যেখানে তারা একটি নতুন জীবনের সুযোগ পাবে।

এলেনা শেনটোভা ইউক্রেন থেকে আসা এক গ্রিক অর্থোডক্স অনুসারী। পোপের বার্তা শুনতে অনেক ভোরে ঘুম থেকে উঠেছেন, জানা তিনি।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, "আমি অর্থোডক্স, কিন্তু আমি আশা করছি পোপ সব ধরনের ধর্মগোষ্ঠীর মধ্যে সংলাপের বার্তা দেবেন, যাতে আমরা সবাই কাছাকাছি আসতে পারি।"

২০১৩ সালে নির্বাচিত এটি পোপের ৩৫তম আন্তর্জাতিক সফর। ষোড়শ বেনেডিক্টের ২০১০ সালের সফরের পর এটিই দ্বিতীয়বারের মতো কোনো ক্যাথলিক পোপের সাইপ্রাস সফর।

শনিবার সকালেই পোপ রওয়ানা দেবেন গ্রিসের উদ্দেশ্যে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ সাইপ্রাস?

বৃহস্পতিবার পোপ ফ্রান্সিস ইউরোপের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে বলেন যে, ঐক্যের বদলে সেখানে জাতীয়তাবাদের বাড়াবাড়ি দেখা যাচ্ছে, যার ফলে সাইপ্রাসের ওপর 'অমানবিক আঘাত' নেমে আসছে।

তিনি বলেন, "আমাদের সবাইকে স্বাগত জানিয়ে একত্রিত করার দিকে নজর দিতে হবে। আমরা সবাই এখানে একসাথে, ভাই-বোনের মতো হাঁটব।"

সাইপ্রাসে 'অসংখ্য অভিবাসী ভাই-বোনের উপস্থিতি' এই অঞ্চলে 'বিভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতির সাথে পরিচয়' করাচ্ছে। সাইপ্রাসের অভিজ্ঞতা ইউরোপকে স্মরণ করায় যে 'আমাদের সবার একসাথে মানবিকতার উদ্দেশ্যে কাজ করার কথা, যেখানে সব বিভেদ ও দেওয়ালকে অতিক্রম করা সম্ভব হবে', বলেন পোপ।

গ্রিকভাষী জনতা দক্ষিণ সাইপ্রাসে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাদের অভিযোগ, উত্তর সাইপ্রাস জাতিসংঘ পরিচালিত সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীকে দক্ষিণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে, ২০২০ সালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আশ্রয়প্রার্থী প্রথমবারের মতো আবেদন করেন এই দেশে।

উত্তর সাইপ্রাসের রাজনীতিকে তুরস্কের নিয়ন্ত্রণে রাখার অভিযোগ করেছেন দক্ষিণের সিপ্রিয়ট নেতা এরসিন তাতার। দুই অঞ্চলের মধ্যে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিভেদকে কিছুটা আক্ষেপের নজরে দেখেন তিনি।

তাতার বলেন, "সাইপ্রাসে দুই ধরনের মানুষ রয়েছেন। প্রথমত খ্রিষ্টান গ্রিকভাষী সিপ্রিয়টরা, দ্বিতীয়ত মুসলিম তুর্কিরাও রয়েছেন এখানে। এটাই সাইপ্রাসের বাস্তবতা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, পোপ ফ্রান্সিস শুধু গ্রিকভাষী সাইপ্রাসের অংশেই যেতে পারবেন।"

ইইউ-সদস্য এই রাষ্ট্রের বেশিরভাগ অভিবাসী, শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দ শিবিরগুলিতে ভিড় উপচে পড়ছে। ধারণক্ষমতা পার হওয়ে যাওয়া এই সব শিবির বুঝিয়ে দেয় সাইপ্রাসের অভিবাসন সংকটের গভীরতা। পোপ ফ্রান্সিসের এই সফর গোটা বিশ্বের নজর এই দেশের পরিস্থিতির দিকে টানবে বলে বলে মনে করছেন অনেকে।

এসএস/আরআর (এএফপি, ডিপিএ)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন