ছয় বছর পর আবারো গ্রিসের লেসবস দ্বীপে শরণার্থীদের দেখতে গেলেন পোপ ফ্রান্সিস৷ ফটো: এএফপি৷ ডিডব্লিও
ছয় বছর পর আবারো গ্রিসের লেসবস দ্বীপে শরণার্থীদের দেখতে গেলেন পোপ ফ্রান্সিস৷ ফটো: এএফপি৷ ডিডব্লিও

সাগরে নিহতের ঘটনাসহ শরণার্থীদের নানা দুর্দশার বিষয়ে ইউরোপের দেশগুলোকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস৷

গ্রিসের মাভরোভউনি দ্বীপে এক শরণার্থী শিবির পরিদর্শনকালে তিনি শরণার্থীদের দুর্দশার প্রতি সমবেদনা পোষণ করেন এবং ইউরোপের দেশগুলোর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘চলুন, আমরা এসব বন্ধ করি৷’’  

শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের উদ্দেশে রবিবার গ্রিস সফর করেন পোপ ফ্রান্সিস৷ সেসময় তিনি দেশটির লেসবস দ্বীপের একটি শিবির ঘুরে দেখেন৷ ২০১৬ সালের পর ফ্রান্সে এটি পোপের দ্বিতীয় সফর৷

 এসময় তিনি শিবিরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে বলেন, ২০১৬ সালের পর শিবিরে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি৷

 ২০১৬ সালের সফরের সময় তিনি লেসবস দ্বীপের শিবির থেকে ১০ জন সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় প্রদানের জন্য নিজের সাথে নিয়ে আসেন৷

তার আগে পোপের সফর ঘিরে শরণার্থীদের মাঝে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়৷ পোপের এ সফর তাদের জন্য সুখবর বয়ে আনবে বলে বিশ্বাস শরণার্থীদের৷

কঙ্গো থেকে আসা এক শরণার্থী এনিস কিয়াকু বলেন, ‘‘পোপের এখানে আসার বিষয়টি আমাদের জন্য সম্মানের৷ শরণার্থী হিসেবে এখানে আমাদের অনেক দুর্দশা পোহাতে হয়৷’’

লেসবস দ্বীপে দুই বছর আগে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন কিয়াকু৷ তিনি বলেন, পোপের এই সফর আমাদের মধ্যে আশার জন্ম দিয়েছে৷ আমরা আশা করি পোপ আমাদেরকে এখান থেকে নিয়ে যাবেন৷ শিবিরে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়৷’’

সাইপ্রাস ও গ্রিসে পোপের পাঁচ দিনের এই সফরে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল শরণার্থী সংকট৷ সফরের সময়ে তিনি বলেন, ইউরোপকে অবশ্যই দেয়াল নির্মাণ বন্ধ করতে হবে৷  

 তিনি বলেন, ‘‘চলুন আমরা বাস্তবতাকে মেনে নেই৷ দায়িত্বশীল হয়ে উঠি৷ এবং শরণার্থী সংকটের বিষয়টি অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকি৷

 তিনি বলেন, ভূমধ্যসাগর কেন্দ্র করে অনেক সভ্যতাই গড়ে উঠেছে৷ কিন্তু এটি দুঃখজনক যে এ সাগরটি এখন কবরস্থান হয়ে উঠেছে৷ প্রায়ই সাগরে নৌকা ডুবে নিহতের ঘটনা ঘটছে৷  

 লেসবস দ্বীপ সফরকালে পোপের সাথে উপস্থিত ছিলেন গ্রিসের প্রেসিডেন্ট কাটেরিনা সাকেলারোপৌলৌ এবং ইউ কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্গারিটিস শিনাস৷ তাছাড়া আফগানিস্তান, ইরাক, কঙ্গোসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন৷  

 আরআর/এসএএস (এপি)


 

অন্যান্য প্রতিবেদন