ইটালির এক অভিবাসনপ্রতয়াশী| ছবি: আনসা
ইটালির এক অভিবাসনপ্রতয়াশী| ছবি: আনসা

ইটালির সরকারের ২০২১ সালের পরিসংখ্যান বলছে, প্রত্যাবাসন কেন্দ্রগুলিতে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য রাখা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রতি দু’জনের একজন ফেরত যাচ্ছে।

সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর বিভিন্ন প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে আটকে থাকা অভিবাসীদের মধ্যে মাত্র ৪৯ দশমিক ৭ শতাংশ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে দেশে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার এমনটা নিশ্চিত করেছে দেশটির গণ নিরাপত্তা বিভাগ।

এই পরিসংখ্যানের সমালোচনা করেছে ইটালিতে সক্রিয় অধিকার সংগঠন 'ন্যাশনাল গ্যারান্টর ফর দ্য রাইটস অফ ডিটেইনড পার্সনস'। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোট দুই হাজার ২৩১জনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। একই সময়ে প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় এই সব কেন্দ্রে ছিলেন মোট চার হাজার ৪৮৯জন।

গত দু'বছর ধরে ইটালি থেকে অভিবাসী প্রত্যাবাসনের যে চিত্রের অনুমান করছিলেন বিশেষজ্ঞরা, এই পরিসংখ্যান সেটিকেই নিশ্চিত করলো। ২০১৯ সালে প্রত্যাবাসন করা হয় আটক থাকা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ৪৯ শতাংশকে। ২০২০ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৫১ শতাংশতে।

ন্যাশনাল গ্যারান্টর ফর দ্য রাইটস অফ ডিটেইনড পার্সনস সংস্থার মতে, প্রত্যাবাসনে তৎপরতা দেখানোর বদলে এভাবে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আটকে রাখায় তাদের স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যেও সফলভাবে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে, এই পন্থা আদৌ কার্যকর কিনা, সেই প্রশ্ন তুলছেন এই সংস্থার কর্মীরা।

কেন বিফল প্রত্যাবাসন

আরো বেশি সংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে দেশে ফেরত পাঠানো যেতো বলে মত ন্যাশনাল গ্যারান্টর সংস্থার। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ১৭ শতাংশের পরিচয় নিশ্চিত না করতে পারার কারণে দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।

এছাড়া, ১৬ শতাংশের ক্ষেত্রে আদালত ঘোষণা দেয় যে তারা প্রত্যাবাসনের অযোগ্য। পাশাপাশি, ৮৪জন অভিবাসনপ্রত্যাশী (মোট সংখ্যার দুই শতাংশ) আটক থাকাকালীন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বা ইন্টারন্যাশনাল প্রোটেকশানের দাবি করেন। অন্যদিকে, আরো ৬২৪জনকে (১৪ শতাংশ) 'অন্যান্য কারণে' প্রত্যাবাসন কেন্দ্র থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কালতানিসেতা পিয়ান দে লাগো আটককেন্দ্রের বাসিন্দাদের মোট ৮৮ শতাংশকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এই সংখ্যা সার্ডিনিয়ার মাকোমের কেন্দ্রের জন্য মাত্র ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ। তুরিনের পিডমন্ট কেন্দ্রে এই সংখ্যা ১৮ শতাংশ।

কোন কেন্দ্রে ঠিক কোন কারণে এত বেশি বা এত কম প্রত্যাবাসন হচ্ছে, তা নিয়েও কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই সরকারের পরিসংখ্যানে।

তবে টিউনিশিয়া থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীরাই এসব কেন্দ্র থেকে দেশে ফেরত যাবার তালিকায় সবার ওপরে (৫৫ শতাংশ)। এরপর রয়েছেন মিশর (১০ দশমিক ৫ শতাংশ), মরক্কো (৭ দশমিক ৩ শতাংশ), আলবেনিয়া (৪ দশমিক ৩ শতাংশ) ও নাইজেরিয়া (৩ দশমিক ৭ শতাংশ) থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলির মতে, এই ধরনের প্রত্যাবাসন কেন্দ্রগুলিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে থাকা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অভিজ্ঞতা আসলে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার ইঙ্গিত।

এসব কেন্দ্রের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ন্যাশনাল গ্যারান্টরের পক্ষে মাউরো পালমা গত বছর বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষকে, যার বাস্তবায়ন এখনো হয়নি।

এসএস/এসিবি (আনসা)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন