২০২১ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী ঔপন্যাসিক আবদুলরাজ্জাক গুরনাহ। ছবি: রয়টার্স
২০২১ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী ঔপন্যাসিক আবদুলরাজ্জাক গুরনাহ। ছবি: রয়টার্স

সম্প্রতি ইংলিশ চ্যানেলে অভিবাসীদের মৃত্যু নিয়ে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের প্রতিক্রিয়াকে অমানবিক হিসেবে দেখছেন ২০২১ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী তানজানিয়ার নাগরিক আবদুলরাজ্জাক গুরনাহ।

তিনি সাত ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘‘ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমকারী অভিবাসীদের দুর্ঘটনা নিয়ে ব্রিটিশ এবং ফরাসি সরকারের প্রতিক্রিয়া অমানবিক।’’

অভিবাসন এবং ঔপনিবেশিকতার উপর আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ৭২ বছর বয়সি এই লেখক আরও বলেন, "অভিবাসীদের সমুদ্র পারাপার নিয়ে যেসব ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং যে সকল বয়ান তৈরি করা হচ্ছে সেগুলো বেশ অদ্ভুত ও স্ববিরোধী।"

তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, "এই লোকেরা তাদের সাথে করে কিছুই নিয়ে আসতে না পারলেও তাদের যৌবন, শক্তি ও সম্ভাবনা নিয়ে আসে। তারা এখানে নাগরিকদের সমৃদ্ধির অংশ চুরি করতে আসে এই ধারনার উপর থাকাটা অমানবিক।"

তানজানিয়ার দ্বীপ জানজিবারে জন্মগ্রহণকারী এই লেখক ১৯৬০ সালের শেষের দিক থেকে ইংল্যান্ডে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন। অভিবাসন ইস্যুতে তার এই অবস্থান যখন আলোচিত হচ্ছে তখন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট রাজনৈতিক আশ্রয়ের অধিকারের উপর একটি বিতর্কিত সংস্কার প্রস্তাবও বিবেচনা করছে।  



ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে ইংলিশ উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় চ্যানেলে ২৭ অভিবাসীর মৃত্যুর ঠিক দুই সপ্তাহ পর অভিবাসন নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন আবদুলরাজাক গুরনাহ। নৌকাডুবির এই ঘটনাকে ইংলিশ চ্যানেলে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়ংকর ও মানবিক বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছে অভিবাসন সংস্থা ও গণমাধ্যমগুলো। 

“আরও কঠোর হচ্ছে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি”

চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে অবৈধভাবে ব্রিটেনে ঢুকতে চাওয়া অভিবাসীদের কারাদণ্ড ছয় মাস থেকে বৃদ্ধি করে চার বছর করার ঘোষণা দেয় যুক্তরাজ্য। কয়েক বছর ধরে দেশটি ক্রমাগতভাবে তার অভিবাসন নীতি কঠোর করে আসছে। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল ঘোষিত এই নতুন বিধানটি মূলত সংসদে গৃহীত হওয়ার লক্ষ্যে বিবেচনাধীন থাকা আশ্রয় ব্যবস্থা সংস্কার বিলেরই একটি অংশ। “যৌক্তিক কিন্তু কঠোর” এই শিরোনামে আনা প্রীতি প্যাটেলের সংস্কার বিলের লক্ষ্য হিসাবে বলা হচ্ছে, এটি অবৈধ অভিবাসনকে নিরুৎসাহিত করবে এবং অভিবাসীদেরব বৈধভাবে ব্রিটেনে আগমনের পদ্ধতিকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা হবে। 

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আনা নতুন এই বিলের অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ফরাসি জলসীমায় নৌকাগুলিকে ফিরিয়ে দিতে বলপ্রয়োগ করা। যেটিকে অত্যন্ত বিতর্কিত পরিকল্পনা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বেশ কয়েকটি সংস্থা ইতোমধ্যে এই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছে।

আবদুলরাজাক গুরনাহ ১৯৪৮ সালে আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের কাছে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ জাঞ্জিবার দ্বীপপুঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। দ্বীপটি ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়ে একটি সহিংস বিপ্লবের সম্মুখীন হলে তিনি ১৯৬৮ সালে দ্বীপপুঞ্জ ছেড়ে চলে যান। 

তিনি কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্যের অধ্যাপক হন, যেখানে তিনি অবসর গ্রহণের আগ পর্যন্ত অধ্যাপনা করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ উপকূলের ব্রাইটন শহরে বসবাস করছেন ।


এমএইউ/এআই 







 

অন্যান্য প্রতিবেদন