সাহারা মরুভূমিতে অভিবাসীদের একটি দল। ছবি: পিকচার এলায়েন্স
সাহারা মরুভূমিতে অভিবাসীদের একটি দল। ছবি: পিকচার এলায়েন্স

কোনো প্রকার আইনি পদ্ধতি অনুসরণ না করে এক মাসে প্রায় ত্রিশজন সুদানি অভিবাসীকে লিবিয়া থেকে সাহারা মরুভূমিতে পুশব্যাক বা ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ৷ সুদানি নাগরিকদের পাশাপাশি অন্যান্য দেশ থেকে আসা অভিবাসীরাও এমন পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ৷

লিবিয়া থেকে সুদান সীমান্তের সাহারা মরুভূমিতে অভিবাসীদের ‘জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের দপ্তর- ওএইচসিএইচআর৷

সোমবার ১৮ জন সুদানি নাগরিকের একটি দলকে সাহারা মরুভূমিতে ফেরত পাঠায় লিবিয়া কর্তৃপক্ষ৷ ওএইচসিএইচআর শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘অভিবাসীদের উচ্ছেদ করতে কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি৷’’ 

এর এক মাস আগে, সুদানের আরো ১৯ জনকে একই পরিণতির শিকার হতে হয়েছিল।

এমন ঘটনার শিকার হতে পারেন আরো অভিবাসী

প্রতিবারই ঠিক একই প্রক্রিয়ায় অভিবাসীদের বেনগাজির গনফৌদা আটক কেন্দ্র থেকে দক্ষিণ-পূর্ব লিবিয়ার আল-কাউফরা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়৷ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে সেখান থেকে পরে অভিবাসীদের সুদান সীমান্ত এলাকায় ফেরত পাঠানো হয়৷ সেখানে, লিবিয়ান কর্তৃপক্ষ তাদেরকে সাহারা মরুভূমির মধ্যে রেখে আসে যাতে করে তারা আর লিবিয়ায় ফেরত আসতে না পারে৷ 

জাতিসংঘ বলেছে, বিতাড়িতদের ‘‘তাদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এবং সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার মূল্যায়ন ছাড়াই নির্বিচারে গ্রেপ্তার, আটক এবং বহিষ্কার করা হয়েছিল’’৷ গনফৌদা কারাগারে আটক ২৪ ইরিত্রিয়ান নাগরিকের সাথেও একই আচরণ করা হতে পারে বলে সন্দেহ করছে ওএইচসিএইচআর৷

জেনেভাতে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মুখপাত্র রুপার্ট কলভিল সতর্ক করে বলেন, ‘‘আমাদের জানতে পেরেছি বহিষ্কৃত সুদানিদের মতোই একই পদ্ধতিতে বহিষ্কারের লক্ষ্যে ইরিত্রিয়ান নাগরিকদের আল-কাউফরা আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে৷’’

তিনি বলেন, ‘‘বর্তমানে অভিবাসীরা লিবিয়ার সরকারি আটক কেন্দ্রে আটক থাকায় আইনী সহায়তার জন্য সেখানে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ঢুকতে পারছে না৷’’ 

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে, সুদান, ইরিত্রিয়া, সোমালিয়া এবং শাদ থেকে আসা অভিবাসীরাও অবৈধ উচ্ছেদের শিকার হয়েছেন৷ যেকোন সময় এই ধরনের ঘটনার আরো পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে৷ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটককৃতদের মধ্যে শিশু এবং গর্ভবতী নারীরাও রয়েছেন৷

লিবিয়াকে অবশ্যই ‘আন্তর্জাতিক আইনকে মানতে হবে’

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ত্রিপোলিকে, ‘‘অবিলম্বে জোরপূর্বক পুশব্যাক এবং বহিষ্কার বন্ধ করে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে৷’’ 

এছাড়া সংস্থাটি লিবিয়াকে ‘দেশটিতে অবস্থানরত অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা করতে মানাবাধিকার লঙ্ঘন ও অপব্যবহারের সমস্ত অভিযোগ তদন্ত এবং অপরাধীদের ন্যায্য বিচারের মুখোমুখি করার’ আহ্বান জানিয়েছে৷

২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই দেশটি ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে উঠেছে৷ নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার আগে সেখানে অবস্থানরত অভিবাসীরা যৌন সহিংসতা, মক্তিপণসহ বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন৷ বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি বারবার এসব কার্যকলাপের নিন্দা জানিয়ে আসছে৷ তারা লিবিয়া কর্তৃপক্ষের পাশপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে৷

গত জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে, লিবিয়ায় অভিবাসীদের অমানবিক পরিস্থিতির জন্য অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকেও অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছে৷ সংস্থাটি বলছে, সেখানে যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে তাতে ইইউ ‘সহায়তা করে চলেছে’৷

লিবিয়া থেকে ইউরোপ অভিমুখে যাত্রা থামাতে, চলতি বছর ইটালির মাধ্যমে লিবিয়ার উপকূলরক্ষী বাহিনীর সাথে কারিগরি এবং আর্থিক সহায়তা চুক্তি নবায়ন করেছে ইইউ।



এমএইউ/এফএস



 

অন্যান্য প্রতিবেদন