ফাইল ছবি: গ্রিস-নর্থ মেসিডোনিয়া সীমান্তে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি দল৷ ছবি: ইমাগো ইমেজেস
ফাইল ছবি: গ্রিস-নর্থ মেসিডোনিয়া সীমান্তে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি দল৷ ছবি: ইমাগো ইমেজেস

গ্রিস, সার্বিয়া হয়ে নর্থ মেসিডোনিয়ায় আসা অভিবানপ্রত্যাশীদের ঠেকাতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটি৷ অনেককেই আটক করে ফেরত পাঠাচ্ছে কর্তৃপক্ষ৷ অভিবাসনপ্রত্যাশীরা বলকান অঞ্চলে বেছে নিচ্ছেন নতুন পথও৷

গত শুক্রবার নর্থ মেসিডোনিয়ার পুলিশ নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে ৪১ অভিবাসীকে আটক করে৷ প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই অভিবাসীরা কিউবা ও ভারত থেকে এসেছেন৷ ধারণা করা হচ্ছে, তারা গ্রিস থেকে নর্থ মেসিডোনিয়াতে প্রবেশ করেছেন৷ বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের কাছে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ তথ্য যাচাই বাছাইয়ের পর আবারো তাদের গ্রিসে ফেরত পাঠানো হতে পারে৷ 

এর এক মাস আগে ৭ নভেম্বর গ্রিক সীমান্তের কাছে আরেকটি ট্রাক থেকে ৪২ জন অভিবাসীকে আটক করে মেসিডোনিয়ান পুলিশ৷ রেডিও ফ্রি ইউরোপের তথ্য অনুযায়ী, এদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি ছাড়া বাকিরা এসেছেন সিরিয়া থেকে৷ তাদেরকেও আশ্রয় কেন্দ্রে রাখার পর গ্রিসে ফেরত পাঠানো হয়েছে৷ নভেম্বরেই নর্থ মেসিডোনিয়া থেকে পাচারের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্তদের দুইজন পাকিস্তানি ও দুইজন আফগান৷ তারা পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে৷ অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তারা সার্বিয়া সীমান্তের কাছে বলকান হয়ে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য একটি ক্যাম্প খুলেছিলেন৷ সেখানে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বন্দি করে তাদের মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত কাগজ তারা নিয়ে নিতেন, যাতে বাইরের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হয়৷ তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সন্দেহভাজনেরা অভিবাসীদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ে তাদের উপর শারীরিক ও যৌন নিপীড়ন চালাতেন৷ অভিযোগ প্রমাণ হলে তাদের আট বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে৷ 

গ্রিস থেকে নর্থ মেসিডোনিয়া হয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে প্রবেশের চেষ্টা নতুন নয়৷ তবে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের কারণে গ্রিক-নর্থ মেসিডোনিয়া দিয়ে পারাপার এখন অভিবাসীদের জন্য অনেকটাই কঠিন৷ ইইউ সীমান্ত এজেন্সি ফ্রনটেক্সও গ্রিস ও নর্থ মেসিডোনিয়া সীমান্তে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে৷ নভেম্বরের শেষ দিকে সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইটালির মানবাধিকার সংস্থা এএসজিআই চার সদস্যের একটি দল পাঠায়৷ কিন্তু ফ্রনটেক্স তাদেরকে সীমান্ত এলাকায় ঢুকতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা৷ যদিও তা অস্বীকার করেছে ফ্রনটেক্স৷

ইটালিয়ান দলটি বলেছে তাদেরকে ফ্রনটেক্স নিকটবর্তী একটি পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যায়৷ সেখানে তারা একটি আটককৃত ভ্যান থেকে ছয় অভিবাসীকে বের হতে দেখেন৷ সেখানে অভিবাসীদের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এএসজিআই এর দলটি৷

তবে শুধু এই সীমান্তই নয়, কাঁটাতারের বেড়া দেয়ায় অভিবাসীদের জন্য এখন নর্থ মেসিডোনিয়া-সার্বিয়া সীমান্ত পারাপারও কঠিন৷ এমন অবস্থায় ইউরোপের অভিবাসনপ্রতাশীরা এখন বিকল্প রাস্তা বেছে নিচ্ছেন৷ 

এই অঞ্চলের ইংরেজি ভাষার অনলাইন বলকান ইনসাইটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলবেনিয়া, কসোভো ও সার্বিয়া হয়ে হাঙ্গেরি, রোমানিয়া বা ক্রোয়েশিয়া দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করছেন অনেক অভিবাসী৷ অনেকে এমনকি বিপদজনক উপায়ে আলবেনিয়া থেকে সমুদ্রপথে সরাসরি ইটালিতে পৌঁছানোর চেষ্টাও করেন৷ 

বলকান ইনসাইটকে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ফ্রনটেক্স সাড়ে ৪৮ হাজার ‘অবৈধ সীমান্ত পারাপারের’ ঘটনা নথিভুক্ত করেছে৷ এই রুট ব্যবহারকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় ছিল সিরিয়ান, আফগান ও মরোক্কোর নাগরিক৷ 

এমা ওয়ালিস/এফএস

 

অন্যান্য প্রতিবেদন