২০১৯ সালে ৩৯ অভিবাসীর মৃতদেহ পাওয়ার পর থেকেই সীমান্তে মানব পাচার নিয়ে কঠোর হয়ে উঠে যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ। ছবি: রয়টার্স
২০১৯ সালে ৩৯ অভিবাসীর মৃতদেহ পাওয়ার পর থেকেই সীমান্তে মানব পাচার নিয়ে কঠোর হয়ে উঠে যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ। ছবি: রয়টার্স

২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যে একটি লরিতে পাচারের শিকার ৩৯ জন ভিয়েতনামির মৃত্যুর ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে৷ এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২৩ অভিযুক্তকে বুধবার, বেলজিয়ামের ব্রুজস শহরের আদালতে হাজির করা হয়েছে৷ তাদেরকে এক থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়ার আবেদন করা হয়েছে৷

ইংল্যান্ডে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম আলোচিত এই মৃত্যুর ঘটনার দুই বছর পর বেলজিয়ামের আদালতে পাচারে জড়িত হিসেবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলো৷ এই ঘটনায় সন্দেহভাজন ২৩ জনকে ব্রুজস আদালতে হাজির করা রয়েছে।

নিহত ৩৯ ভিয়েতনামি যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করে নতুন জীবন শুরুর স্বপ্ন দেখেছিলেন৷ এদের মধ্যে দুইজনের বয়স ছিলো মাত্র ১৫ বছর৷ অভিবাসীরা লরির ভেতরে বদ্ধ পরিবেশে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও হাইপারথার্মিয়াতে মারা যান৷

ট্রাকটি মূলত ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে বেলজিয়ামের জিব্রুজস বন্দর থেকে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল৷ বেলজিয়াম থেকে যুক্তরাজ্য এক রাত ভ্রমণের পরে, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর পূর্ব লন্ডনের গ্রেসের শিল্প এলাকায় লরিটিতে ৩৯ অভিবাসীর নিথর দেহের সন্ধান মিলে৷ 

আরও পড়ুন>> ইংল্যান্ডে ৩৯ ভিয়েতনামী অভিবাসীর মৃত্যু: ইটালিতে গ্রেপ্তার এক ব্যক্তি

এই ঘটনা অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ে যুক্তরাজ্যে আলোচনার জন্ম দেয়৷ 

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, “লরিতে থাকা ৩৯ জনের মধ্যে অন্তত ১৫ অভিবাসীকে যাত্রার আগের দিন ব্রাসেলসের সীমান্তবর্তী শহর আন্ডারলেচট থেকে নেয়া হয়েছিল৷ কারণ সেখানে পাচারকারী নেটওয়ার্কের একটি গোপন আস্তানা ছিল৷’’

প্রধান আসামির ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে

ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একত্রিশজন পুরুষ ও আটজন নারীর সবাই ভিয়েতনামের নাগরিক। 

প্রধান অভিযুক্ত ৪৫ বছর বয়সি একজন ভিয়েতনামি৷ তিনি পাচারকারী চক্রের ‘বেলজিয়াম শাখার প্রধান’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে৷ বেলজিয়ায়মের ফেডারেল প্রসিকিউটর অফিসের তথ্য অনুসারে, ‘‘নিহত ৩৯ ভুক্তভোগীর মধ্যে ১৫ জন যাত্রার আগ পর্যন্ত তার অধীনে ব্রাসেলসের দুটি বাসায় ছিল৷ পরবর্তীতে তিনি তাদেরকে লরিতে তুলে দেন৷’’ আদালতে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করা হয়েছে৷ যদিও তিনি এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা আদালতে অস্বীকার করেছেন৷ 

অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে বেলজিয়াম থেকে ইংল্যান্ডে অবৈধ পারাপারের সাথে জড়িত ‘একটি অপরাধমূলক সংগঠনের কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করার’ দায়ে বিচার শুরু হয়েছে৷ তাদের বিরুদ্ধে এক থেকে দশ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করা হয়েছে৷

আরও পড়ুন>> চ্যানেলে নিখোঁজ তিন ব্যক্তি, রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসীর যুক্তরাজ্যে প্রবেশে

আসামীদের অধিকাংশই ভিয়েতনামি বা ভিয়েতনামি বংশোদ্ভূত বেলজিয়ান নাগরিক৷ এছাড়া ছয়জন মরক্কোর নাগরিক এবং একজন আর্মেনিয়ান বংশোদ্ভূত ব্যক্তি রয়েছেন৷

বিচারের শুরুতে ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘‘এই সুপ্রতিষ্ঠিত অপরাধী চক্রটি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে গ্রেফতার এড়াতে যথেষ্ট চেষ্টা করেছিল। এই চক্রটি একাই যুক্তরাজ্যের পাচারের উদ্দেশ্যে অন্তত ১৩০টি পরিবহণ পরিচালনা করেছে৷’’

ফেডারেল প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, ‘‘মামলার বিচার কার্য শুরু হলেও বেলজিয়ামে তদন্ত প্রক্রিয়া এখনও বন্ধ হয়নি। অন্তত দুই সন্দেহভাজনকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি৷’’

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপে প্রবেশের উদ্দেশ্যে প্রতি বছর আনুমানিক প্রায় ১৮ হাজার ভিয়েতনামি পাচারকারীদেরকে টাকা দেন৷ যাদের মধ্যে অনেকেই ভিসা পেতে জনপ্রতি ৪০ হাজার ইউরো পর্যন্ত পরিশোধ করেন৷ 


এমএইউ/এফএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন