(ফাইল ছবি) পর্তুগাল পুলিশ। ছবি: এএফপি
(ফাইল ছবি) পর্তুগাল পুলিশ। ছবি: এএফপি

দক্ষিণ পর্তুগালের অদেমিরা শহরে কৃষিখাতে কর্মরত বাংলাদেশি ও ভারতীয়সহ এশীয় অভিবাসীদের সঙ্গে জাতিগত বিদ্বেষের অভিযোগে দেশটির রিপাবলিকান ন্যাশনাল গার্ডের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এশীয় অভিবাসী শ্রমিকদের মারধর, হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা এবং টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের অভিযোগে সাত পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পর্তুগাল৷ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিএনএন পর্তুগাল চ্যানেলে প্রচারিত এক ভিডিও প্রতিবেদনে পুলিশ সদস্যদের এমন আচরণের দৃশ্য প্রচারিত হয়৷ এই ঘটনায় জাতিগত বিদ্বেষের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে৷ 

এর আগে গত বছর বিদেশিদের পরিষেবায় নিয়োজিত দপ্তরের কর্মীদের নির্যাতনে ইউক্রেনের নাগরিক ইগর হোমনিউক মারা যান৷ এই ঘটনায় বিদেশিদের সঙ্গে জাতিগত বিদ্বেষমূলক আচরণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়৷ 

লিসবন থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে অদমেরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ দেশটির ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও কস্তা৷ রোববার তিনি বলেন, ‘‘এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য৷’’ 

নিন্দা প্রকাশ করেছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি মার্সেলো রেবেলো দে সুসাও৷ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি একে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ‘স্বাধীনতার অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেন৷ সেই সঙ্গে ‘দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার’ আহ্বানও জানান৷

পুলিশ সদস্যদের ক্ষমতার অপব্যবহার 

রিপাবলিকান ন্যাশনাল গার্ড (জিএনআর) বলেছে, বর্তমানে আলোচনায় আসা ঘটনাগুলি মূলত ২০১৮ এবং ২০১৯ সালের৷ এসব অভিযোগ নিয়ে বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে৷ 

বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা পাবলিক প্রসিকিউটর বলেছেন, অভিবাসীদের ‘অনিশ্চিত, ভঙ্গুর ও সুরক্ষাহীন’ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এসব পুলিশ সদস্যরা তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন৷

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় আসা ঘটনাগুলোর একটি ২০১৮ সালের৷ এতে পাঁচজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এশীয় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সহিংস হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে৷

রিপাবলিকান ন্যাশনাল গার্ড (জিএনআর) এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘‘২০১৮ সালের ঘটনার তদন্ত শুরুর পরই ২০১৯ সালের ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়৷ দ্বিতীয় ঘটনায় প্রায় সাতজন পুলিশ সদস্য জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়৷ এই সাতজনের মধ্যে তিনজন সদস্য ২০১৮ সালের ঘটনায়ও জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে৷’’

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই রিপাবলিকান গার্ড সদস্যকে অব্যাহতি দিয়েছে৷ অন্যান্য অভিযুক্তদের ব্যাপারে তদন্ত চলছে। 

জিএনআর দাবি করেছে, তারা সদস্যদের এ ধরনের আচরণের কখনও স্বীকৃতি দেয় না৷ বরং যেকোনো ধরনের বৈষম্যের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ মেনে চলে৷ গত তিন বছরে ২৮ জন সদস্যকে বিভিন্ন অভিযোগে তারা বহিষ্কার করেছে৷ 



এমএইউ/এফএস (এএফপি, রেড়িও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনার, লো ফিগারো)


 

অন্যান্য প্রতিবেদন