মরক্কো থেকে স্পেনের ছিটমহল সিউটাতে প্রবেশ করছেন অভিবাসীরা৷ ছবি: ইপিএ
মরক্কো থেকে স্পেনের ছিটমহল সিউটাতে প্রবেশ করছেন অভিবাসীরা৷ ছবি: ইপিএ

২০২১ সালে অনিয়মিত পথে অভিবাসন করতে যাওয়া ১২ হাজারের বেশি জনকে গ্রেপ্তার করেছে মরক্কোর পুলিশ৷ দেশটির সরকারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫০ টি মানবপাচার নেটওয়ার্ক তারা ধ্বংস করেছে৷

স্বল্প দূরত্বের সমূদ্র পাড়ি দিয়ে স্পেনের উপকূল হয়ে ইউরোপে প্রবেশের জন্য মরক্কোতে জড়ো হন অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী৷ শুধু মরক্কোর মানুষই নন, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এশিয়া থেকেও অনেকে এই পথে সমুদ্র পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করেন৷ চলতি বছরের শুরু থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত মরক্কোর পুলিশ এমন ১২ হাজার ২৩১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে৷ মরক্কোর জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাপরিচালক এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন৷ দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এমএপি তা প্রকাশ করেছে৷  

বিবৃতি অনুযায়ী, ‘‘৪১৫ সংগঠক ও মধ্যস্থতাকারী এবং অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশী ১২ হাজার ৩৩১ জনকে’’ তারা আটক করেছে৷ পাশাপাশি, ‘‘অবৈধ অভিবাসনে নিয়োজিত ১৫০টি সক্রিয় অপরাধী নেটওয়ার্ক’’ ভেঙে দেয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে৷ 

এমএপির খবরে বলা হয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ৭৫২টি ভুয়া ভ্রমণপত্র, ভেসে থাকতে সক্ষম ৬৭টি নৌকা, ৪৭টি ইঞ্জিন এবং ৬৫টি যান আটক করেছে৷ 

প্রাণঘাতী বছর

মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীর প্রকাশিত এই পরিসংখ্যান শুধু ভূমিতে চালানো অভিযানের৷ এর বাইরে বড় একটি অংশকে স্পেনে যাওয়ার পথে সমুদ্রেও বাধা দেয়া হয়েছে৷ 

মানচিত্রে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ, মরক্কো ও স্পেনের মূল ভূখণ্ডের অবস্থান৷ ছবি: ইনফোমাইগ্রেন্টস
মানচিত্রে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ, মরক্কো ও স্পেনের মূল ভূখণ্ডের অবস্থান৷ ছবি: ইনফোমাইগ্রেন্টস

দুই দেশের সীমান্তের মধ্যবর্তী সবচেয়ে সরু অংশে স্পেনের সঙ্গে মরক্কোর মাত্র ২০ কিলোমিটার সমুদ্রের দূরত্ব৷ মরক্কোর উপকূল থেকে উত্তরে ভূমধ্যসাগর হয়ে অথবা পশ্চিমে আটলান্টিক দিয়ে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ পৌঁছানোর চেষ্টা করেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা৷ কেউ কেউ মরক্কোর সীমানায় স্পেনের ছিটমহল মেলিলা ও সিউটায় সীমান্ত বাধা ডিঙ্গিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন৷ 

চলতি বছর ৪০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রবেশ করেছেন স্পেনে৷ তাদের অর্ধেক এসেছেন ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে৷ এক হাজারের বেশি মানুষ এখানকার দ্বীপগুলোতে পৌঁছাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা (আইওএম)৷

এফএস/কেএম (এএফপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন