ভ্যাটিকানে সাপ্তাহিক ভাষণ দেয়ার পর পোপ ফ্রান্সিস গ্রিস থেকে আসা একটি আফগান শরণার্থী পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন৷
ভ্যাটিকানে সাপ্তাহিক ভাষণ দেয়ার পর পোপ ফ্রান্সিস গ্রিস থেকে আসা একটি আফগান শরণার্থী পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন৷

বড়দিনের আগে দেয়া ভাষণে ইউরোপের সব দেশকে অভিবাসীদের দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিতে বললেন পোপ ফ্রান্সিস৷ অভিবাসীদের জন্য দেশগুলোকে ‘হৃদয়ের দুয়ার উন্মুক্ত’ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি৷

চলতি মাসের শুরুতে সাইপ্রাস ও গ্রিস সফরে যান পোপ ফ্রান্সিস৷ সেখানে তিনি অভিবাসীদের সঙ্গেও দেখা করেন৷ তাদের বিপন্ন মানবতা তার হৃদয়কে স্পর্শ করেছে বলে বুধবার ভ্যাটিকানে সাধারণ শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে বলেন পোপ৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি এটাও দেখতে পেয়েছি কিভাবে ইউরোপের অল্প কিছু দেশ ভূমধ্যসাগর হয়ে অভিবাসনের যে ফলাফল তার বড় অংশ বহন করছে৷’’ 

সমুদ্র পেরিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রাথমিক গন্তব্য থাকে গ্রিস, সাইপ্রাস, ইটালি, স্পেনের মতো দেশগুলো৷ এই দেশগুলোকেই তাই অভিবাসীদের বড় অংশের দায়িত্বভার নিতে হচ্ছে৷ এক্ষেত্রে ইউরোপের সব দেশকে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান পোপ৷ ‘‘প্রকৃতপক্ষ এই দায়িত্ব সবার ভাগাভাগি করে নেয়া উচিত যাতে কোন একটি দেশ চাপে না পড়ে,’’ বলেন তিনি৷ 

উত্তর আফ্রিকা থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে আসা অভিবাসীদের ভার যাতে অন্যরাও নেয় সে বিষয়ে বরাবরই আহ্বান জানিয়ে আসছে সাইপ্রাস, ইটালি, গ্রিস ও মাল্টা৷ বিশেষ করে চলতি বছর লাম্পেডুসাসহ ইটালির বিভিন্ন দ্বীপে হাজারো অভিবাসী এসে জড়ো হন৷ ইউরোপের অন্য দেশগুলোকেও তাদের দায়িত্ব নিতে বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছে দেশটির সরকার৷ গত মাসে ইটালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুসিয়ানা ল্যামোরগিজ বলেছেন, অভিবাসীদের উদ্ধার করা প্রয়োজন সেটি ঠিক৷ কিন্তু প্রথম পৌঁছানো দেশ হিসেবে শুধু ইটালিই তাদের দায়িত্ব নেবে এমন ভাবনা অন্যায্য৷ শুধু গত মাসেই ইটালি ৮০০ অভিবাসীকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করেছে বলেও জানান ল্যামোরগিজ৷ চলতি বছর সব মিলিয়ে ইটালিতে ৫৪ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী পৌঁছেছেন, যা গত বছরের চেয়ে সংখ্যায় ৩০ হাজার বেশি৷ 

এভাবে ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপে আসা অভিবাসীদের বিষয়ে ইউরোপের দেশগুলোকে আরো মানবিক হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আহ্বান জানিয়ে আসছেন পোপ ফ্রান্সিস৷ গত সপ্তাহে পোপের খরচে সাইপ্রাসের শরণার্থী ক্যাম্প থেকে ১২জন অভিবাসীকে ইটালিতে স্থানান্তর করা হয়েছে৷ দেশটি থেকে মোট ৫০ জনকে স্থানান্তর পরিকল্পনার প্রথম ধাপ এটি৷ 

বড়দিনের আগে দেয়া এই ভাষণে ফ্রান্সিস বলেন তিনি আশা করছেন, ইউরোপের আরো দেশ স্থানীয় চার্চগুলোকে আরো অভিবাসী আনতে সুযোগ দিবে এবং তাদের আত্তিকরণে সহায়তা করতে পারবে৷ ‘‘আপনার শুধু দুয়ারটা খুলে দেয়া উচিত, আপনার হৃদয়ের দুয়ার৷ এই বড়দিনে আমরা সেই সুযোগ আর হাতছাড়া না করি,’’ বলেন পোপ ফ্রান্সিস৷ 

 

অন্যান্য প্রতিবেদন