গত জুনে সার্বিয়ায় একটি আশ্রয়কেন্দ্রে অভিবাসীরা৷ ছবি: ইপিএ
গত জুনে সার্বিয়ায় একটি আশ্রয়কেন্দ্রে অভিবাসীরা৷ ছবি: ইপিএ

সার্বিয়ায় সরকারি বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র বর্তমানে সাড়ে চার হাজারের বেশি অভিবাসী ও শরণার্থী রয়েছেন৷ তাদের মধ্যে সংখ্যায় আফগানিস্তান, সিরিয়ার পরেই রয়েছেন বাংলাদেশিরা৷

সার্বিয়ার ১৩ টি সরকারি অভ্যর্থনা কেন্দ্র বা প্রাথমিক আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে সাড়ে চার হাজারের বেশি অভিবাসী ও শরণার্থী অবস্থান করছেন৷ গত শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এই হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে৷ 

আশ্রিতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৫ শতাংশই আফগান৷ ২২ শতাংশ যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার নাগরিক৷ তৃতীয় অবস্থানে আছেন বাংলাদেশিরা৷ সাড়ে চার হাজার অভিবাসীর ১১ শতাংশ বা প্রায় ৫০০ জনই দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির৷ এরপরই রয়েছে এই অঞ্চলের আরেক দেশ পাকিস্তান৷ সাত শতাংশ অভিবাসী এই দেশটির৷ 

এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর সবশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বর পর্যন্ত সার্বিয়ায় অবস্থানরত মোট অভিবাসী ও শরণার্থীর সংখ্যা পাঁচ হাজার ৬১৯ জন৷ এর মধ্যে চার হাজার ৬১৭ জন ১৩টি সরকারি কেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন৷ অভিভাবকহীন ২৫ শিশু বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের রাখা হয়েছে বিশেষায়িত ব্যবস্থাপনায়৷ ১২৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগে৷ এর বাইরে নভেম্বর পর্যন্ত আরো ৮৫০ জন নির্দিষ্ট কোন ব্যবস্থা ছাড়াই সার্বিয়ায় অবস্থান করছিলেন৷  

বলকান রুট: অভিবাসী, শরণার্থীদের ট্রানজিট দেশ

সার্বিয়ায় আসা এসব অভিবাসী, শরণার্থীর মূল গন্তব্য পশ্চিম ইউরোপ৷ তুরস্ক থেকে ক্রোয়েশিয়া, স্লোভেনিয়া হয়ে ইউরোপের কাঙ্খিত দেশে পৌঁছাতে তারা অনেক সময় সার্বিয়াকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করেন৷ যা বলকান রুট নামে পরিচিত৷ অনেকে আবার বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরির পথ বা তুরস্ক থেকে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে গ্রিস, আলবেনিয়া, মন্টেনিগ্রো, বসনিয়া অ্যান্ড হার্ৎসেগোভিনা দিয়ে পশ্চিম ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন৷ 

ইউএনএইচসিআর এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বরে সার্বিয়ায় বিভিন্ন সরকারি কেন্দ্রে নিবন্ধন করা ছয় হাজারের বেশি অভিবাসী, শরণার্থীর ৮২ শতাংশই প্রবেশ করেছে নর্থ মেসিডোনিয়া থেকে৷ এছাড়া নয় শতাংশ বুলগেরিয়া, চার শতাংশ মন্টেনিগ্রো, দুই শতাংশ কসোভো হয়ে আলবেনিয়া দিয়ে আসে৷ আর ছোট একটি অংশ তুরস্ক, রাশিয়া ও বসনিয়া অ্যান্ড হার্ৎসেগোভিনা থেকে সার্বিয়ায় প্রবেশ করে৷ 

এইসব পথে তুরস্ক থেকে জার্মানি পর্যন্ত পাড়ি দেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা
এইসব পথে তুরস্ক থেকে জার্মানি পর্যন্ত পাড়ি দেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা

সার্বিয়া ২৬ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা শেঙ্গেন অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নয়৷ সার্বিয়ার সঙ্গে ইইউ সদস্য ক্রোয়েশিয়ার সীমান্ত রয়েছে৷ অনেক অভিবাসী এই দেশটি হয়ে পশ্চিম ইউরোপের দেশ ইটালি, অস্ট্রিয়া বা জার্মানিতে পৌঁছাতে চান৷ অনেকে সার্বিয়া থেকে সরাসরি হাঙ্গেরি দিয়ে বা রোমানিয়া হয়েও ইউরোপে ঢুকার চেষ্টা করেন৷ তবে কাজটি মোটেও সহজ নয়৷ ইউরোপের সদস্য দেশগুলোর সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও বহিঃসীমান্তে কড়া নরজরদারি রয়েছে৷ অনিয়মিত উপায়ে পাড়ি দিতে গিয়ে সীমান্তরক্ষীদের হাতে ধরা পড়ে তাই অনেকেই পুশব্যাকের শিকার হন৷ 

ইউএনএইচসিআর এর দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নভেম্বরে সার্বিয়া থেকে পাড়ি দেয়া চার হাজার ১৬৩ জন প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্তে পুশব্যাকের মুখে পড়েন৷ এর মধ্যে ৭৮ শতাংশ ফেরত এসেছেন হাঙ্গেরি থেকে৷ ২১ শতাংশ রোমানিয়া থেকে আর এক শতাংশকে ফেরত পাঠিয়েছে ক্রোয়েশিয়৷ পুশব্যাকের শিকারদের ৫১ শতাংশই ছিলেন সিরিয়ার মানুষ৷ 

এফএস/কেএম (আনসা, ইউএনএইচসিআর)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন